অসহায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে পাঠানো হলো হাসপাতালে
দি নিউজ লায়ন; ফুটপাতে পড়ে থাকা অসহায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার। চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলো হাসপাতালে। গত কয়েকদিন ধরে রাস্তার ফুটপাতই ছিল তাঁর আশ্রয়। পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তার ফুটপাতে পড়ে থাকা বয়স্কা মহিলাকে শেষপর্যন্ত উদ্ধার করে আপাতত চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার সকালে ওই বৃদ্ধাকে হাওড়ার রামগোপাল মঞ্চের সামনে রাস্তার ফুটপাত থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাওড়া পুরসভার প্রশাসকমন্ডলীর সদস্য তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ ভাস্কর ভট্টাচার্য নিজে এ ব্যাপারে উদ্যোগে নেন। মহিলাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃদ্ধার নাম বেদানা দাস বলে জানা গেছে। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় নিজের বাকি পরিচয় জানাতে পারেননি। সূত্রের খবর, তাঁকে ছেলেরা রাস্তায় ফেলে চলে যায়। তারপর তাঁকে কেউ গাড়ি করে হাওড়া ফ্লাইওভার চত্বরে রেখে চলে যান।
গত কয়েকদিন ধরে প্লাস্টিক পেতে হাতে পুঁটলি নিয়ে এভাবেই দিন কাটছিল তাঁর। ভাস্কর ভট্টাচার্য এদিন হাসপাতালের সুপারের সঙ্গেও কথা বলেন। আপাতত ওনার হাসপাতালেই চিকিৎসা চলবে। সুস্থ হলে ওনাকে পরিচয় জেনে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, এদিন পুরনিগমে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রোগ্রাম চলাকালীন তাঁর কাছে খবর আসে এক বৃদ্ধা রাস্তায় পড়ে আছেন গত এক সপ্তাহ ধরে। তখনই তিনি পুরনিগমের স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের বিষয়টি জানান যাতে ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সেই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি এখন চিকিৎসাধীন। তিনি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নিজেও হাওড়া জেলা হাসপাতালে যান ওই বৃদ্ধাকে দেখতে। ৭ দিন আগে তাঁর বাড়ির লোকেরা রেখে দিয়ে গিয়েছেন। তিনি বাড়ির ঠিকানা জানাতে পারেননি। সুস্থ হলে ওই বৃদ্ধার কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা নিয়ে তাকে সেখানে পৌঁছে দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, ওই বৃদ্ধা হাওড়া স্টেশনে ছিলেন। বৃষ্টির জন্য বের হতে পারেননি। পরে এক ভ্যানওয়ালা তাকে রেখে দিয়ে যায়। এ ব্যাপারে এক পথচারী টোটন হালদার জানিয়েছেন এই বৃদ্ধাকে তিনি প্রতিদিন খাবার দিয়ে যেতেন। এদিন কাঁদছিলেন, খেতে পারছিলেন না। তিনি বলছিলেন, গলায় ঘা হয়েছে। তাকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হোক এখন এটাই চাইছেন টোটোনবাবু।

Post a Comment