গৌতম দেবের পরাজয়ের কারন দলের অন্দরের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
দি নিউজ লায়ন; গৌতম দেবকে পরাজয়ের পেছনে রয়েছে দলের অন্দরই। দলের অন্দরের বড় অংশ কাজ করেছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবকে হারাতে। শিলিগুড়ি পার্শ্ববর্তী ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধানসভার কেন্দ্রের মানচিত্রে চার পঞ্চায়েত সহ শিলিগুড়ি পুরনিগমের সংযুক্ত ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রাক্তন মন্ত্রীর ঢালাও উন্নয়নের পরও এই কেন্দ্রের ফলাফল বিপক্ষে গিয়েছে ঘাস ফুল শিবিরের। যে কেন্দ্র ঘাস ফুল শিবিরের বিগত লোকসভার আগে পর্যন্ত শক্ত গড় ছিল সেখানেই বিশাল অংকের ব্যবধানে পরাজয় বিস্মিত করছে রাজনৈতিক মহলকে।ফুলবাড়ি দুই ছাড়া ১৩টি ওয়ার্ড সহ গোটা কেন্দ্রের ফলাফল অপ্রত্যাশিত ভাবে গৌতম দেবের বিপক্ষে গিয়েছে। আর এই ফলাফলের বিশ্লেষণ করতে গিয়েই হোঁচট খেতে হচ্ছে নেতৃত্বকে। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দলের অন্দরে চলা বেশ কিছু নেতাদের যোগসাজশ সামনে আসছে।
চাপা ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন নেতৃত্বরা। মন্ত্রীত্ব ও সরকারি দায়িত্ব সামলে চলা গৌতম দেব দলকে ততধিক গুরুত্ব দেননি। ভোট পর্বের তিনমাস আগে ব্যাপক জনসংযোগের নামলেও সে ব্যবধান রেখা মুছে দলীয় নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে উঠতে পারেননি তিনি। যদিও ভোট পর্বের তিন মাস আগে থেকে একেবারে ২৪ঘন্টা মানুষের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে গৌতম দেবকে। রাজ্যের উন্নয়ন ও বিগত কয়েক মাসের ব্যাপক জনসংযোগকে ওপর ভর করে আত্মবিশ্বাসে পূর্ন প্রাক্তন মন্ত্রীর বৈতরনি ধাক্কা খেয়েছে। নির্বাচনী ফলাফল বলছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৪টি ওয়ার্ডেই রয়েছে বিশাল ব্যবধান। লোকসভা ভোটের গেরুয়া মেরুকরনের হাওয়া বুঝেও দলীয় রাজনৈতিক মাটি শক্ত না করে শুধু মন্ত্রীত্ব সামলানোর জেরেই রাজ্যের ঘাস ফুল ফুটলেও,বিপরীতে ফলের সম্মুখীন হতে হয়েছে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি সহ শিলিগুড়িকে। যদিও দেবাশিষ প্রামানিক জানান ২৭হাজার ভোটের ব্যবধান রয়েছে।
লোকসভার বিশাল অংকের ব্যবধান মেটানো সম্ভব হয়নি। আমার এলাকা ফুলবাড়ি দুইয়ে ৫১৪২ভোটে বিজেপি প্রার্থী শিখা চ্যাটার্জির থেকে এগিয়ে রয়েছেন তৃনমূল প্রার্থী গৌতম দেব। আর চার অঞ্চলে ৬০০০হাজার ভোটের ব্যবধান রয়েছে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে অথচ শিলিগুড়ির ১৪টি ওয়ার্ডে সেই ব্যবধান গিয়ে ঠেকেছে ২১,০০০হাজারে। সেই এলাকা আমার দায়িত্বে ছিল না। তার দায়িত্বে ছিলেন টাউন তিনের সভাপতি দুলাল দত্ত। দলের ভেতরে থেকে বিজেপির হয়ে অর্থ নিয়ে একটা সক্রিয় অংশ কাজ করেছে সে বিষয়টিও তিনি স্বীকার করে জানান এধরনের বেশকিছু অভিযোগ কানে এসেছে। সক্রিয়তা দেখায়নি বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব। সংগঠনের আরও মজবুদ করা দরকার ছিল। তিনি তীর বিঁধছেন রঞ্জনশীল শর্মা ও দুলাল দত্তের দিকে। এদিকে টাউন তিনের সভাপতি দুলাল দত্ত আবার ১৪টি ওয়ার্ডের বিপুল ব্যবধানের পেছনে তার অসক্রিয়তার অভিযোগ ন্যাসৎ করে বলেন লোকসভা ভোটের ব্যবাধান বিশাল থাকায় তা দু বছর মেটানো সম্ভব হয়নি।
আরও জনসংযোগ সাংগঠনিক আলোচনার প্রয়োজন ছিল। সেটাই বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন তার ৩৮নাম্বার ওয়ার্ডে ৪৯১ভোটে তৃনমূল এগিয়ে রয়েছে কিন্তু বাকি সমস্ত ওয়ার্ড গুলিতে পিছিয়ে রয়েছেন প্রার্থী গৌতম দেব। যারমধ্যে অধিকাংশই তৃনমূলের ওয়ার্ড। দলীয় ক্ষেত্রে কয়েক জায়গায় নেতৃত্বদের নিয়ে বেশ কিছু সমস্যা ছিল তা ভালোই জানেন সকলে। যার নিয়ে মাথা ঘামাননি প্রার্থী।বিজেপির হয়ে ভোট করানোর কাজে মূলত নাম উঠে আসছে শিলিগুড়ি শহরের ৩৭নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন শীল শর্মার নাম। তিনি অবশ্য অভিযোগ তুলছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বে গৌতম দেবের দিকেই। তিনি বলেন লোকসভা ভোটের ফল নিয়ে কোনোরকম অন্তর্তদন্ত হয়নি। দলের নেতা একই এলাকায় দলের ভেতরে চলা গ্রূপিজম -কে প্রশ্রয় দিয়েছে। তারাই মূলত বিজেপির হয়ে ভোট করিয়েছে।

Post a Comment