আই এস এফ কর্মীকে লক্ষ্য করে বোমা মেরে খুনের অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতিদের বিরুদ্ধে - The News Lion

আই এস এফ কর্মীকে লক্ষ্য করে বোমা মেরে খুনের অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতিদের বিরুদ্ধে

 


দি নিউজ লায়ন; ভোট প্রচার চলাকালীন একাধিক বার আই এস এফ এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।একে অপরের বিরুদ্ধে বোমাবাজি, ভাঙচুরের ঘটনায় দুই পক্ষই জখম হয়েছেন।কিন্তু খুনের ঘটনা ঘটে নি।ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে এবার খুনের ঘটনাই ঘটল দেগঙ্গা বিধানসভা এলাকায়।সোমবার সকালেই আই এস এফ কর্মীকে লক্ষ্য করে বোমা মেরে খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতিদের বিরুদ্ধে।এদিন ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গা বিধানসভার দত্তপুকুর থানার কদম্বগাছির   গ্রামে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরী হয় এলাকায়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মৃতদেহ টানা ৫ ঘন্টা  ফেলে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় আই এস এফের কর্মী সহ মৃতের পরিবারের লোকজন। দত্তপুকুর থানার বিরাট পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাফ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ পুলিশি আশ্বাসের পর আই এস এফ কর্মী হাসানুর জামানের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম হাসানুর জামান(৩৮)।  মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


দত্তপুকুর থানার কদম্বগাছির উলা গ্রামের হাসানুর জামান সেভাবে সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন না।পেশায় তিনি ছিলেন কলের পাইপ লাইনের মিস্ত্রী। এছাড়া নিজের জমিতেও চাষবাস করেই সংসার চালাতেন হাসানুর।এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আই এস এফের হয়েই এলাকায় সক্রিয়তা দেখিয়েছিলেন তিনি।পরিবারের অভিযোগ এরফলে শাসকদলের হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে।সোমবার সকালে বাড়ির অদুরেই স্ত্রীকে নিয়ে পাটক্ষেতে ঘাস নিড়োতে গিয়েছিলেন।স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলেই ক্ষেত নিড়াচ্ছিলেন।পাশের জমিতে ছিলেন তার দাদাও। অভিযোগ আনুমানিক সকাল ৮ টা নাগাদ কয়েকজন ব্যাক্তি আচমকাই তার উপরে হামলা চালায়। মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। হাসানুরের স্ত্রী মারুফা বিবি  তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। তিনি বলেন দুস্কৃতিদের হাত থেকে কোন রকমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আমার স্বামী। কিন্তু তৃণমূলের দুস্কৃতিরা তাকে ধরার জন্য তাড়া করে।শেষে তাকে লক্ষ্য করে তিনটি বোমা ছোড়ে। বোমার আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে আমার স্বামীর। আমার চোখের সামনে বোম মেরেছে ওরা। আমি দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। 


আই এস এফ কর্মী  খুনের ঘটনা চাওর হতেই এলাকায় শুরু হয় উত্তেজনা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে দত্তপুকুর থানার পুলিশও। মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে আই এস এফ কর্মী এবং পরিবারের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে পুলিশকে।হাসানুরের দেহ ক্ষেতের মধ্যে রেখে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন আই এস এফের কর্মী সমর্থক সহ মৃতের পরিবারের লোকজন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ক্ষেতেই রেখে দেওয়া হয়েছিল হাসানুর জামানের দেহ। এরপর মৃতের স্ত্রী মারুফা বিবি স্বামীকে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কয়েকজনের বিরুদ্ধে।এরপর পুলিশ দিকেহ উদ্ধার করে। 

এই বিষয়ে বারাসত মহকুমার আই এস এফের সম্পাদক মৌলানা কুতুব উদ্দিন ফাতেহি বলেন জেতার পরেও তৃণমূল যে এই ভাবে খুন করতে পারে ভেবেই অবাক লাগছে।ঘটনা খুব দুঃখজনক।আমরা খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।তিনি বলেন ভোটের ফলাফলের পরেই বিভিন্ন জায়গায় আই এস এফের কর্মী সমর্থকদের মারধর করছে,তাদের বাড়িঘরে ভূঙচুর চালাচ্ছে তৃণমূল।

দেগঙ্গার সদ্য জয়ী বিধায়ক রহিমা মন্ডল বলেন যে কোন মৃত্যুই দুঃখজনক।তবে এই ঘটনার সাথে তৃণমূলের কেউ যুক্ত নয়।আই এস এফের নিজেদের মধ্যে গন্ডগোলের জেরেই ঘটেছে।


দেগঙ্গা বিধানসভার হাদিপুর ঝিকরা ২ পঞ্চায়েতের দক্ষিন আবজানগর থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলেই জানা গেছে।স্থানীয় বিজেপি নেতা অরবিন্দ বিশ্বাসের বাড়িতেও রবিবার সন্ধ্যায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।অভিযোগ ঐ বিজেপি নেতার সেলুন,বাড়ি সহ তার ভাইয়ের গাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা।বিজেপি দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানা এবং নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।  রবিবার রাতে ঐ গ্রামের অপর এক বিজেপি নেতা কামাল আহমেদের বাড়িতেও হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে।কামাল বলেন শুধু ভাঙচুর নয়,আমার দেড় বিঘার সবজিও ক্ষতি করে দিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা।


দেগঙ্গার পাশাপাশি রবিবার মধ্যরাতে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির একটা পার্টি  অফিসে ভাঙচুর চালানের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।বারাসতের দ্বিজহরিদাস কলোনি এলাকার এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতেও হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

ভোট পরবর্তী হিংসায় এদিন উত্তেজনা তৈরী হয় কদম্বগাছির হেমন্তবসু নগরের দাসপাড়া এলাকায়।বিজেপি প্রভাবিত এই এলাকায় প্রথমে তৃণমূলের কয়েকজন হামালা  চালায় বলেই অভিযোগ। এর পাল্টা দেয় বিজেপির কর্মীরাও। দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে তৃণমূলের চার জন জখম হয়েছে বলেই জানা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.