কংগ্রেসকে সাথে নিয়ে অশোকবাবুর শিলিগুড়ি মডেল গুঁড়িয়ে নিজ ভোট ধরে রাখতে সক্ষম তৃনমূল - The News Lion

কংগ্রেসকে সাথে নিয়ে অশোকবাবুর শিলিগুড়ি মডেল গুঁড়িয়ে নিজ ভোট ধরে রাখতে সক্ষম তৃনমূল

 


দি নিউজ লায়ন; শিলিগুড়িতে অশোক অধ্যায়ের অবসান।কংগ্রেসকে সাথে নিয়ে অশোকবাবুর শিলিগুড়ি মডেল গুঁড়িয়ে নিজ ভোট ধরে রাখতে সক্ষম তৃনমূল। দার্জিলিং জেলার কংগ্রেসীদের সাফ মন্তব্য রাজ্যে সিপিএম ও কংগ্রেসের যে কারনে ধস নেমেছে, তার সঙ্গে শিলিগুড়ির সমীকরণকে কোনোভাবেই মেলানো যাবে না। এখানে ক্ষমতায় থাকার পরও অশোক ভট্টাচায্য ও কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর মালাকারকে নির্বাচনী ময়দানে প্লেয়ার হিসেবে মনেই করেনি জনগন। তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে শিলিগুড়িবাসী। শিলিগুড়ি বিধানসভার ৩৩টি ওয়ার্ডেই ধস নেমেছে বামেদের ভোট ব্যাংকে। কার্যত ভোটের ঝুলি শূন্য ভোট প্রার্থী অশোক বাবুর। অশোক ভট্টাচার্য্য এর প্রাপ্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ২৮হাজার যার সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর ভোটের অংকের ব্যবধান ৬০হাজার।


বামেদের ব্যর্থতার কারনেই বিধানসভায় লোকসভায় ভোটের অংকের হার (৬১%) টিকিয়ে রাখতে পেরেছে বিজেপি। এমনকি শিলিগুড়ি থেকে লোকসভা ভোটে বারংবার বামেদের ভোট স্থানান্তরের হওয়ায় শিলিগুড়ি ছয় নাম্বার ওয়ার্ডে অশোক বাবু সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর থাকার পরেও সেখানে বামেদের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৭৫৯। এই এলাকায় বরং এগিয়ে রয়েছে তৃনমূল ২০৮৬, এখানে বিজেপির ভোট ১৫৭৭। একইসঙ্গে অশোক বাবুর যে ২০নাম্বার ওয়ার্ডে নিবাসী সেখানেও তিনি ১১৯০ যেখানে তৃণমূল ১৮৯৭ ভোট পেয়েছে। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ তৃণমূলের থেকে লড়াইয়ে পিছিয়ে রয়েছেন এই ওয়ার্ড সহ ২৩,১৯,১৭নাম্বার ওয়ার্ডগুলিতে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে ভোটের নিরিখে অশোক বাবুর সমস্ত বুথ ও ওয়ার্ডে তিন নম্বরে রয়েছেন নামমাত্র ভোট নিয়ে। কার্যত সেখানেই তৃনমূল প্রাক্তন কাউন্সিলরদের গড় এলাকাগুলিতে নিজেদের ভোট যে তারা ধরে রেখেছেন তা পরিষ্কার। 


কিন্ত শিলিগুড়ি পুরনিগমের দায়িত্বে থাকার পরও অপ্রত্যাশিত ভাবে সিপিআইএমের গোহারা ফল হয়েছে। যা দলীয় নেতৃত্বের কচাকচানির দিকেই আঙ্গুল তুলছে। প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক শঙ্কর মালাকারও পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ছেন কোথায় গেল সিপিআইএমের ভোট? এমনকি তিনি বলছেন ভুল হয়েছে জোট করেই। মানুষ তা ভালো চোখে নেয়নি।নিজ ভরাডুবির জন্য অশোক প্রধানের নেতৃত্বে চলা সিপিআইএমকেই দুষছেন তিনি। তিনি বলছেন বামেদের ভোট বিজেপিতে যাওয়ায় তা আর ফেরেনি। ফলে কংগ্রেসের সেভাবে ভোটের শতাংশ নেই, বামেদেরও কোনো ভোট ব্যাংক ২০১৫এর পর ছিলনা সেটাই সাফ হলো এই ফলাফলে।বাম আমল থেকে শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের মুকুটহীন সম্রাট ছিলেন অশোক ভট্টাচায্য।


 আর সেখান থেকে বাম মসনদ বাজেয়াপ্ত হতেই নিজ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে শিলিগুড়ি মডেল গড়েন তিনি।তবে বাম থেকে রামে গিয়ে প্রার্থী পদ মেলা শিষ্য শঙ্করের হাতে সেই অশোক বাবুর শিলিগুড়ি মডেলের সমাধিতে পেড়েক গাঁথার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাহলে কি ৪৪বছরের অশোক জামানার শেষ অধ্যায় লেখা হলো!এই প্রশ্নই ঘুরছে ভোটের পর শহরের মানুষের মধ্যে। কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক সুজয় ঘটক বলছেন জোট একটা এক্সপিরিমেন্ট ছিল যা পরখ করা হয়। তবে শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে ২০১৫এর হিসেব ধরে এগিয়েছিল দল যা মস্ত বড় ভুল ছিল। কারন তারপর বাম দলের ভোট ব্যাংক আদও কত শতাংশ আছে তার কোনো অন্তর্তদন্ত হয়নি। লোকসভা ভোটে বিজেপিতে যে ভোটের অংক স্থানান্তরিত হয়েছে তাকে ফেরাতে বামেরা কোনো উদ্যোগই সেভাবে নেয়নি। তার চেয়েও বড় কথা হলো নতুন মুখকে সুযোগ না দেওয়ার প্রবণতা। 


সেদিকেই ইঙ্গিত করছে বামেদের খোকলা হয়ে যাওয়া অন্দর মহলও। বাম আমল থেকে দীর্ঘ ৪৪বছর ধরে অশোক বাবুর হাতে একচেটিয়া ক্ষমতা, একাধিক চেয়ার ও পদ দখলে রাখার মানসিকতাই জেলায় কাস্তে শিবিরের অন্দরমহলকেও তছনছ করে দিয়েছে। শঙ্কর ঘোষের দল বদল ও পরিমল মিত্রের তৃণমূলের যাওয়ার পেছনের অন্যতম কারন হিসেবে অশোক ভট্টাচার্য্যেকেই সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় হতে হয়েছে। যা মানুষ ভালো ভাবে নেয়নি। সারা রাজ্যের পাশাপাশি শিলিগুড়িতেও নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে অশোক বাবুকে খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতিই দেয়নি জনগন। দীর্ঘ সময় ধরে মেয়র, পুর প্রশাসক থেকেও শিলিগুড়ির ৩৩টি ওয়ার্ডের মন পড়তে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন অশোকবাবু।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.