অযোধ্যা পাহাড়ের শিকার উৎসবের দিনেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ
দি নিউজ লায়ন; পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের শিকার উৎসবের দিনেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইয়াশ! ফলে এ বছরের মত হল না শিকার উৎসব। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো বনদফতর। বুধবার দুর্যোগের দিনেও গোটা দিন ধরে টহল দিতে দেখা গেলো বনদফতরের কর্মীদের। সেই সঙ্গে জঙ্গল পথে টহল দেন পুলিশ কর্মীরাও। তবে এদিনও বেশ কয়েকটি শিকার দল জঙ্গলে ঢোকার চেষ্টা করে। খবর পেয়েই তাদের কাছ থেকে শিকারের তির ধনুক,বর্ষা ও তার বাজেয়াপ্ত করে বনদফতরের কর্মীরা।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন অযোধ্যা পাহাড়ের উসুলডুঙ্গরিতে আসা বেশ কয়েকটিশিকারির দলকে ফেরত পাঠায় বনদপ্তর।দুর্যোগে তেমন বৃষ্টি ও ঝড় না হওয়ায় জঙ্গলমুখী হয়েছিল কিছু শিকারির দল। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে বনদফতর। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার পুরুলিয়ার বলরামপুর বনাঞ্চলের বেড়ষা,ঘাটবেড়া, উরমা স্টেশনে একাধিক শিকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র গুলি বাজেয়াপ্ত করেন বনকর্মীরা। স্থানীয় ও বনদফতর সুত্রে জানাগিয়েছে,প্রত্যেক বছর রীতি মেনে বুদ্ধ পূর্নিমার দিনে অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গলে শিকার উৎসব পালন করে আদিবাসী সমাজের মানুষজন।
ওই দিনে এই জেলা ছাড়াও বাকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদনীপুর ছাড়াও ঝাড়খন্ড থেকে প্রচুর শিকারি দল আসে শিকার করতে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বনদফতর ও প্রশাসনের সচেতনতায় অনেকটাই কমেছে শিকার। কয়েক বছর ধরে কয়েকটি বনসুয়োর ছাড়া তেমন কোন বন প্রান হত্যা হয়নি বলে জানিয়েছে বনদফতর। আগের বছরও লকডাউন থাকায় বন্ধ ছিল শিকার উৎসব। রিতি মতো পুজোপাশা করে নিয়ম রক্ষা শিকার উৎসব পালন হয়েছিল।
এই বছরও বন্য প্রান হত্যা যাতে না হয় এই কাজকে সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে এসেছে একাধিক আদিবাসী সংগঠনও। কিন্তু এই বছর অতিপ্রবল ঘুর্নিঝড় হওয়ার কারনে বিরত থাকলো বন্য প্রান হত্যা। দুর্যোগ থাকলেওবনদফতর ও পুলিশের বিশেষ নজর ছিলগোটা অযোধ্যাপাহাড়ে জঙ্গলে। লক্ষ ছিল একটাই কোন ভাবে বন প্রানী হত্যা আটকানো। সেই মতো আগাম প্রস্তুতও নিয়েছিলো বনদফতর ও প্রশাসন। তবে এদিন কোন বন্যপ্রান হত্যা হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা বনদফতর।

Post a Comment