বাঁকুড়া হাওড়া বর্ধমানে বজ্রপাতে মৃত পাঁচ
দি নিউজ লায়ন; দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। বজ্রাঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হল বাঁকুড়া এবং হাওড়ায়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভ্যপসা গরম ছিল বাঁকুড়ায়। কিন্তু দুপুর গড়াতেই আচমকা কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। শুরু হয় প্রবল বজ্র বিদ্যুৎ সহযোগে বৃষ্টি। এই সময়ই দুটি পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃত দুই ব্যাক্তির একজনের বাড়ি বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় ও অপরজনের বাড়ি বড়জোড়া থানা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী বেলিয়াতোড় থানার অন্তর্গত মুড়াকাটা গ্রামের বানেশ্বর ঘোষ (৫১) নামের এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এদিন বৃষ্টির মধ্যে মাঠে বেঁধে রাখা গরু আনতে গিয়েছিলেন বানেশ্বর ঘোষ।
সেই সময় বাজ পড়ে। ঘটনাস্থলে বানেশ্বর ঘোষ ও তাঁর সাথে থাকা গরুটি মারা যায়। এই ঘটনার পাশাপাশি এদিন অপর একটি বজ্রপাতের ঘটনায় মৃত্যু হয় বড়জোড়া থানার অন্তর্গত কাটাবাঁধ গ্রামের জয়ন্ত গড়াই ( ৪০) নামের এক বাসিন্দার। তিনি আজ দুপুরে স্থানীয় একটি পুকুরে মাছ ধরছিলেন। সেই সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় । দুটি ঘটনায় মৃত দুই ব্যাক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে বাজ পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল হাওড়ায়। আহত হয়েছেন একাধিক। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে হাওড়া জেলা হাসপাতালে। জানা গেছে, বালিটিকুরি ২ নম্বর রামকৃষ্ণপল্লি শেখপাড়ার বাসিন্দা রেবা বিশ্বাস ও তাঁর ছেলে অশোক বিশ্বাস মাঠে চাষের কাজ করছিলেন। বাজ পড়লে ঘটনাস্থলেই অশোকবাবুর মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহত মা রেবা বিশ্বাস হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ২ জন আহত হন। পাশাপাশি সূত্রের খবর, এদিন রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসার সময়ে বাজ পড়ে মৃত্যু হয় এক মহিলার। তিনি হাওড়ার বাকসাড়া সাতঘড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বর্ধমানের দুটি পৃথক থানা এলাকায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। এই মৃত্যুর ঘটনাগুলি ঘটেছে জেলার জামালপুর ও খণ্ডঘোষ থানা এলাকায়। গোটা রাজ্যের পাশাপাশি এদিন দুপুরে জামালপুর থানা এলাকাতেও প্রবল ঝড় এবং বজ্রবিদ্যুত সহ ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
তখন জামালপুর থানার আবুজহাটি-১ পঞ্চায়েতের নওহাটি গ্রামে সঞ্জয় পরামাণিক বাড়ি ফেরার সময়ে বজ্রপাতে জখম হয়। এলাকার লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় পরামাণিককে মৃত ঘোষণা করেন। অপর মৃত যুবক শরিফ মুন্সির বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার শাঁখারী-২ পঞ্চায়েতের কুঞ্জনগর গ্রামে। পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন, ঝড় বৃষ্টির ও বজ্রপাতের মধ্যেই শরিফ এদিন দুপুরে জমিতে চাষের কাজ করছিল। ওই সময়ে বজ্রপাতে মারাত্মক জখম হয়ে সে জমিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় ও পরিবার সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শরিফ মুন্সিকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

Post a Comment