ওনার স্থান হবে প্রেসিডেন্সি জেলে, রাজ্যপাল প্রসঙ্গে বললেন কল্যাণ - The News Lion

ওনার স্থান হবে প্রেসিডেন্সি জেলে, রাজ্যপাল প্রসঙ্গে বললেন কল্যাণ

  




তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বরাবরই সোজা কথা বলার মানুষ। এবার তিনি রাজ্যপালকে নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন। নারদ কাণ্ডে (Narada Case) যে চার হেভিওয়েটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার পিছনে ধনকড়ের ভূমিকা রয়েছে বলেই দাবি করেই এই আক্রমণ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণবাবু বলেছেন, “রাজ্যপালের ননামে সবাই থানার থানায় এফআইআর করুন। আজ ওনার কিছু হবে না। তিনি রাজ্যপাল তাই। তবে তিনি যখন রাজ্যপাল থাকবেন না, তখন ওনার এই প্রেসিডেন্সি জেলে জায়গা হবে।” এদিকে কল্যাণবাবুর এই মন্তব্য শুনে ট্যুইট করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর । ট্যুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন, “তিনি একজন তৃণমূল নেতা। তিনি একজন সাংসদ। তিনি এনজন আইনজ্ঞ। আমি তাঁর কথা শুনে বিস্মিত। 



তাঁর এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না।” জগদীপ ধনকরকে (Jagdeep Dhankhar) “সংবিধানের ঘাতক”, “রক্তচোষা” বলে কটাক্ষও করেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় । যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।     প্রসঙ্গত গত সোমবার এক কথায় নাটকীয়ভাবে নারদ কাণ্ডে চার হেভিওয়েট নেতাকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। এই গ্রেপ্তারির পিছনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের মদত রয়েছে বলেই এদিন দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “রাজ্যপাল সকাল থেকে সন্ধে তৃণমূলের পিছনে পড়েছে। উনি ‘রক্তচোষা’। রাজ্যপালের মোবাইল-ল্যান্ডলাইন, ওনার সঙ্গে যাঁরা থাকেন, তাঁদের ফোন খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে গ্রেপ্তারির পিছনে উনিই রয়েছেন।”  



সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা যায় না। এটা কাল্যাণবাবু জানেন। এই বিষয়ে কল্যাণবাবু বলেন, “আমি জানি এখন ওনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে আমি সবাইকে বলছি সব থানায় ধনকরের বিরুদ্ধে মামলা করুন। উনি যখন রাজ্যপাল থাকবেন না, তখন কেস শুরু করা যাবে। বলা যায় না, হয়তো প্রেসিডেন্সি জেলেই ওনার ঠাঁই হবে।”     কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) । তিনি বলেন, “উনি উন্মাদের মতো কথা বলছেন। দলেই ওনার কোনও গুরুত্ব নেই।” 



দিলীপ ঘোষকেও পালটা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ বদ্ধ উন্মাদ, অশিক্ষিত। অনেক বড় বড় কথা বলেছিলেন, হাত ভাঙবেন, পা ভাঙবেন। কী লাভ হল? সবাই ওনাকেই শুইয়ে দিল। উনিই এখন বিজেপির কাছে অবাঞ্চিত।”  এই রাজ্যে রাজ্য প্রশাসন ও রাজ্যপালের মধ্যে সম্পর্ক কোনওদিনই ভালো ছিল না। বারবার তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, বিজেপির হয়ে কাজ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তবে রাজ্যপালের নানান সময় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া বিবৃতি রাজ্য-রাজ্যপালের সম্পর্কের মধ্যে এই তিক্ততা তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞদের মত।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.