মালদা দক্ষিণ দিনাজপুর নিহত 2, আহত বেশ কয়েকজন ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
দি নিউজ লায়ন; মাত্র দশ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হলো মালদা এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বেশ কয়েকটি গ্রামীণ এলাকার কাঁচা বাড়ি। এমনকি ঝড়ের দাপটে হবিবপুর , বামনগোলা, গাজোল ব্লকের কয়েকটি রাস্তায় ভেঙে পড়ল বড় ধরনের গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঝড়-বৃষ্টির ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকটি এলাকার গ্রামীণ সড়ক রীতিমত বন্ধ হয়ে থাকে। একইভাবে এই ঝড়ের প্রভাব পড়েছে আম গাছে। বহু গাছের আমের মুকুল এবং মটর দানার মতো ফলিত আম ঝরে পড়েছে বলে অভিযোগ চাষীদের । এই অবস্থায় অনেক আম চাষিরা রীতিমতো দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।
এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যদি মাঝেমধ্যে হতে থাকে, তাহলে আম চাষের ক্ষেত্রেও এবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও জানিয়েছেন চাষীরা। যদিও এব্যাপারে উদ্যানপালন দপ্তরের উপ অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কালবৈশাখীর ঝড় বৃষ্টি এই সময়ে প্রতিবছরই হয়ে থাকে । তবে অল্প সময়ের জন্য ঝড় হয়েছে। তাতে খুব বেশি আমের ক্ষতি হয় নি। এবারে আমের ফলন অনেকটা ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় হবিবপুর ব্লকে। টাঙ্গন নদীর ধারে একটি বরফ মিলের টিনের চাল উড়ে যায় ঝড়ে। ভেঙ্গে পড়ে বহু গাছ। এদিন রাতে কালবৈশাখীর সঙ্গে শুরু হয় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। একইভাবে ক্ষতি হয়েছে গাজোল এবং বামন গোলা ব্লকেও। বেশ কিছু এলাকায় উপরে পড়ে বড় বড় গাছ।
উড়ে যায় টিনের চাল। ভেঙ্গে পরে বিদ্যুৎ খুঁটি। শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যদিও এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কর্তারা জরুরী কালীন ভিত্তিতে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়েছে। অন্যদিকে, বিধ্বংসী কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পুরো কুমারগঞ্জ ব্লক। ভেঙে পড়েছে বহু মাটির বাড়ি। উপরে পড়েছে বিদ্যুতের পোল ও বটগাছ। এদিকে ইন্দিরা আবাস যোজনার পাকা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে এবং পতিরামেও মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় ঝড়ের বলি দু'জন। এদিকে কুমারগঞ্জের পাশাপাশি বালুরঘাট, তপন ও হিলি ব্লকের বেশকিছু এলাকায় ঝড়ের দাপটে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ ও বাড়ির একাংশ ভেঙে আহত একাধিক মানুষ।

Post a Comment