আচমকাই মারা গেলেন তৃণমূল নেতা নান্নু হোসেন - The News Lion

আচমকাই মারা গেলেন তৃণমূল নেতা নান্নু হোসেন

 


দি নিউজ লায়ন;  :ভাঙড়ের রাজনীতিতে নক্ষত্র পতন। আচমকাই মারা গেলেন তৃণমূল নেতা নান্নু হোসেন। তাঁর বয়েস হয়েছিল মাত্র ৫৪ বছর। গোটা ভাঙড়ের মানুষ তাঁকে চোখের জলে বিদায় দিলেন। নান্নু হোসেন ভাঙড়ের জেলা পরিষদ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও এবারে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী রেজাউল করিমের মূল নির্বাচনী এজেন্ট হয়ে কাজ করে ছিলেন। আচমকাই শনিবার রাতে তাঁর বুকে যন্ত্রণা অনুভব করেন রাতেই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও এক কণ্যা রয়েছে। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু সংবাদ ভাঙড়ে পৌঁছাতেই গোটা ভাঙড় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। ভাঙড়ের রাজনীতিতে নান্নু হোসেনের নাম উজ্জ্বল করছে। খুবই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী রেজাউল করিমের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। 


নান্নু হোসেন ১৯৮৭ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন। সেই সময় তিনি ভাঙড়ের ইয়ুথ কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। তারপর তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে তিনি সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূলের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন ভাঙড়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি ভাঙড়ে তৃণমূলের কনভেনার ছিলেন। বরাবরই তিনি ভাঙড়ে আরাবুল ইসলামের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে আরাবুলের বিরোধিতা করে তার বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান। আরাবুলের বিরোধিতা করায় সেই সময় ভাঙড়ে  সিপিএমের বাদল জমাদার জয়ী হন। তার স্ত্রী মাসুদা বিবি ২০০৮ সালে জেলা পরিষদের সদস্য হন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি জেলা পরিষদের সদস্য হন।


ভাঙড়ের রাজনীতিতে বরাবর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি।এবারের নির্বাচনেও টিকিটের দাবিদার ছিলেন তিনি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টিকিট দিয়েছিলেন রেজাউলকে। ভাঙড়ের সভা থেকে সুপ্রিমো জানিয়েছিলেন, “এ বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছিলেন রেজ্জাক মোল্লা। আরাবুল ইসলাম, কাইজার আহমেদ, নান্নু হোসেন, ওহিদুল ইসলামের মতো অনেকেই টিকিটের দাবিদার ছিলেন। আমি ভাবলাম, কী করা যায়। রেজাউল অনেক সমাজ সেবামূলক কাজ করেন। তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছেন। যদিও রেজাউল আমার কাছে টিকিট চাননি। আমি তাঁকে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছি।”  রেজাউলের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন নান্নু হোসেন। ভোটে দিনরাত এক করে খেঁটেছেন। ভাঙড় কে যে হাতের তালুর মতন চেনেন।  অনুগামীরা বলছেন, ‘দাদাকে সব সময় ফিটই দেখেছি। উঁচু লম্বা বলিষ্ঠ একজন মানুষ। আচমকাই বুকে ব‍্যাথা হল। ভোরে সব শেষ।’ শোকস্তব্ধ ভাঙড়ের তৃণমূল শিবির।


     তার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তৃণমূলের জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী, জেলার যুব তৃনমূলের সভাপতি শওকত মোল্লা, তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম, ওহিদুল ইসলাম, কাইজার আহমেদ সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। রবিবার বিকেলে নিজ বাস ভবনের কাছে তার দেহ সমাধিস্থ করা হয়। তার অকাল প্রয়ণে শোকাহত ভাঙড়ের মানুষ সহ পরিবার পরিজনেরা।এদিন তাকে শেষ বার দেখার জন্য অগনিত মানুষ সহ তৃণমূলের নেতা কর্মীরা আলাকুলিয়ায় তার বাড়িতে উপস্থিত হন।কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অগনিত মানুষ।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.