বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলার বিভিন্ন এলাকা বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ
দি নিউজ লায়ন; মঙ্গলবার ছিল তৃতীয় পর্বে হুগলি জেলার আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলার বিভিন্ন এলাকা বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ উঠে। হুগলি জেলার খানাকুল বিধানসভা কেন্দ্রের গৌরাঙ্গ চক এলাকার 222 ,223 ,224 ও 225 নম্বর বুথে মানুষকে বিজেপি কর্মীরা ভোট দিতে দেয়নি বলে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নাজিবুল করিম কে রাস্তায় উপর মাটিতে ফেলে দিয়ে চেলা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে বেদম মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নাজিবুল করিম। তার হাতে পায়ে ওশরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ।সেই সঙ্গে তার নির্বাচনী এজেন্ট কে ও মারধর করা হয়েছে, তার জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাকেও রাস্তায় ফেলে চ্যালা কাঠ দিয়ে বেদম মারা হয়েছে।
যা নজিরবিহীন ঘটনা বলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নাজিবুল করিম মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে ওই চারটি বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্ট দের সমস্ত কাগজপত্র ছিঁড়ে দিয়ে তাদের কে মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। সকাল সাতটার সময় ভোট শুরু হওয়ার পর বিজেপি ওই চারটি বুথে তাণ্ডব চালায়। নাজিবুল করিম বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশনকে জানায়। ভোট শুরু হওয়ার পর এগারোটা পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপিকে মদত করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই তাকে যেভাবে প্রহার করা হলো তা দেখে তিনি রীতিমতো আতঙ্কিত এবং হতবাক হয়ে পড়েন। তা সত্ত্বেও তিনি দলীয় কর্মীদের শান্তভাবে ভোট পর্ব শেষ করার নির্দেশ দেন। ব্যারাকপুর থেকে দুষ্কৃতী এনে গোটা খানাকুল এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাত দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী খুন হয়েছিল। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা কার্তিক দোলাই সহ আরো অনেকেই তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন এবং আরামবাগ মহকুমা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন। খানাকুল থানায় বারবার জানিয়ে ও কোন সুরাহা হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন মানুষ যাতে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে একজন নাগরিক হিসেবে নির্বাচন কমিশনের দেখা উচিত ছিল। অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হলে বিজেপির কোন অস্তিত্ব খানাকুল এলাকায় থাকবে না। তাই ব্যারাকপুর থেকে গুন্ডা এনে বিজেপি তান্ডব চালিয়েছে। এক সময় বাম আমলে খানাকুল উত্তপ্ত ছিল। সেই সময় বিরোধীদের কথা বলার কোন অধিকার ছিলনা। যারা বাম আমলে খানাকুলে সন্ত্রাস ও অত্যাচার করে ছিল , তারাই বর্তমানে লাল জার্সি খুলে গেরুয়া জার্সি পরে এখন বিজেপির বড় নেতা হয়েছে।
রাম বাম আব্বাস একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর খানাকুলে হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন বুথে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। তিনি বলেন যেভাবে আজকে গণতন্ত্রের কথা বলছে বিজেপি তা লজ্জাজনক ঘটনা। বিজেপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। আমরা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলেছি। আমি কোথাও কোন গণ্ডগোল করতে চাইনি এবং কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত দেয় নি। তা সত্ত্বেও খানাকুল বিধানসভা কেন্দ্রের গৌরাঙ্গ চক এ যে ঘটনা ঘটল তা অতি নিন্দনীয়।দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে তিনি লিখিত ভাবে জানিয়েছেন বলে জানান। তবে তৃনমূলের আনা অভিযোগ বিজেপি অস্বীকার করেছে।

Post a Comment