মাস্ক পড়েই নিতে হবে সাফারির মজা, মাস্কহীন পর্যটকদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা
দি নিউজ লায়ন; মাস্ক পড়েই নিতে হবে সাফারির মজা। মাস্কহীন পর্যটকদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। কোভিডবিধি মনে করিয়ে পর্যটকদের মাইকিং করে সতর্কবাণী প্রেরণ করছে শিলিগুড়ি অদূরে শালুগাড়ার বন্যপ্রাণ উদ্যান বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষ। গত বছরে দীর্ঘ নিভৃতযাপনের স্মৃতিতে ফের ফিরতে চায়না বেঙ্গল সাফারি। বিগত বছরের আর্থিক ক্ষতির জের টানতে হচ্ছে সাফারিকে, তার ওপর সেবারে কোভিডবিধি মেনে পার্ক খুলতেই একাধিক কর্মীরা আক্রান্ত হয়ে পড়ায় সপ্তাহ খানেকের জন্য ফের বন্ধ রাখতে হয় পার্ক।
তাই এবারে কোভিড বিধিকে শিরধার্য্য করে পা ফেলছে সাফারি কর্তৃপক্ষ। বেঙ্গল সাফারির ডিরেক্টর বাদল দেবনাথ জানান কোভিডবিধি মেনেই চলছিল পর্যটকদের আনাগোনা। শহর বেসামাল হলেও সাফারির বন্যরাজ্যে কিন্তু কোভিড গাইডলাইন পালন করেই পর্যটকদের গতিবিধি চলছিল। তাই দ্বিতীয় ঢেউ খুব একটা বেকায়দায় ফেলতে পারছে না এই মুহূর্তে সাফারিকে। কারণ বেঙ্গল সাফারির প্রবেশ গেটে দেহের তাপমাত্রা মাপা থেকে জীবাণুমুক্তকরন, করোনাবিধি মেনে সাফারি গাড়ি ৫০শতাংশ যাত্রী নিয়েই চলছে দীর্ঘ কয়েক মাস যাবৎ।
ডিরেক্টর জানান বিগত বছর থেকে সবক নিয়ে বন্যপ্রাণীদের সংস্পর্শে আসা কর্মীদের নিয়মিতভাবে শারীরিক পরিখানিরীক্ষা ও মেডিকেল চেকআপ করানো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সম্প্রতি সাফারির অধিকাংশ কর্মীরা কোভিড ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজও নিয়েছেন। তবে ভ্যাকসিনের যোগান কম থাকায় সকলের পক্ষে ভ্যাকসিন নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফের দ্রুত ভ্যাকসিনের যোগানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরসঙ্গে সমস্ত কর্মীদের সপ্তাহে রুটিন টেস্ট করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন পার্কের মাস্ক ছাড়া পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
তবে পর্যটকদের মধ্যে প্রবণতা দেখা যায় যে তারা পার্কের ভেতরে ঢুকে মাস্ক মুখ থেকে খুলে ফেলছেন। সেই বিষয়টি নজরে রেখে সাফারি পার্ক চত্বরে অনবরত মাইকিং করে পর্যটকদের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী প্রেরন করা হচ্ছে। সাফ মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে পার্কের ভেতর মাস্ক পড়তে হবে প্রতিটি পর্যটককে। আবেদন জানানো হচ্ছে মাস্ক পড়েই ঘোরাফেরা করুন। মাস্কহীন পর্যটক নজরে এলে তার বিরুদ্ধে সাফারি কর্তৃপক্ষ কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।
ডিরেক্টর বাদল দেবনাথ বলেন এতে অনেকটাই কাজ হয়েছে। প্রশাসনিক হেনস্থার কথা ভেবেই হোক কিংবা সচেতনতার কারনেই পর্যটকেরা নিয়মমেনে মাস্ক ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি সাফারি গাড়ি জীবাণুমুক্তকরন করার পাশাপাশি পর্যটকদের স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে তিনি বলেন গত এক সপ্তাহ ধরে পর্যটকদের সংখ্যা কমেছে। করোনা দ্বিতীয় থাবার জেরে নিত্যদিন হাতে গোনা ২০০-২৫০ পর্যটক আসছেন সাফারিতে। যে সংখ্যাটা অন্যসময়তে ৮০০-১২০০মধ্যে থাকে।

Post a Comment