কোভিড ভ্যাকসিন পরবর্তী পর্যালোচনা সাধারণ মানুষের প্রতি
দি নিউজ লায়ন; - এই মুহূর্তের সবচেয়ে চর্চিত ও বিতর্কিত বিষয় টি হল ভারতবর্ষে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ ও ভ্যাকসিনের গঠনমূলক প্রভাব দেশের জনসংখ্যার ওপরে। এক্ষেত্রে যে ব্যপার টি লক্ষ্যনীয়, কোনো ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী কোম্পানি সম্পুর্ন ভাবে ১০০% নিশ্চিত করে দাবি করেনি যে তাদের ভ্যাকসিন উপসর্গ যুক্ত ও উপসর্গ বিহীন কোভিডের বিরুদ্ধে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য সম্পুর্ন রূপে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম, এবং এর সাথে ও বলা যায় পরিমিত ও গুরুতর কোভিডের এমনকি মৃত্যু হারের ও কোনো তারতম্য ঘটতে পারে এমনটি কিন্তু সম্পুর্ন ভাবে দাবি করা সম্ভবপর হয়নি।
ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন পরবর্তী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে যেতে পারে (ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরী ভ্যাকসিনের আন্তঃ আন্তঃ ব্যক্তিগত কার্যকারিতার পরিবর্তনশীলতা /ও ভাইরাসের নতুন পরিবর্তিত প্রজাতির আগমনের কারণে। এই সমস্ত
উদ্বেগের বিভিন্ন রূপ যা ভ্যাকসিনগুলির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে)। ভ্যাকসিন যুক্ত জনগোষ্ঠীতে মাঝারি থেকে গুরুতর সংক্রমণও ঘটতে পারে অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতার তারতম্যের কারণে, (কোভিশিল্ড 70% কোভাক্সিন ৮০%)
বিভিন্ন ঋনাত্মক সম্ভাবনার মধ্যেও এটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে
ভ্যাকসিনগুলি সম্পূর্ণ অপব্যয়।
তবে বিষয়টিকে মুক্ত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তাধারার মধ্যে দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত। ভ্যাকসিনের ঝুঁকি বনাম উপকারীতার বিশ্লেষণ প্রতিটি পরিস্থিতিতে অবশ্যই করা উচিত।
তবে এ পর্যন্ত
স্বল্পমেয়াদী অধ্যয়ন (অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণের ফলাফল) বলছে যে
ভ্যাকসিনগুলি গুরুতর কোভিড এবং তার ফলে কোভিড রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম।
সুতরাং যে কোনও বিপদজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে এই মুহূর্তে বা ভবিষ্যতের পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনগুলি ভাইরাসের বিরুদ্ধে অন্যতম একটি বর্ম হিসাবে গ্রহণ করা উচিত। তবে শুধুমাত্র বর্ম হিসেবে ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে থেকে আমাদের উচিত কিছু আচরণ বিধি মেনে চলার অভ্যাসটা জারি রাখা উচিত। যেমন - সামাজিক দুরত্ব , ভিড় এড়িয়ে চলা, টেস্টিং এর সংখ্যা আরও বেশি করে বাড়িয়ে রোগীদের সনাক্তকরণ, মাস্কের ব্যবহার বৃদ্ধি করা, হাত ধোয়ার অভ্যাস করা।
মনে রাখতে হবে শুধুমাত্র ভ্যাকসিনের প্রয়োগ কোভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জেতাতে পারে না, তার সাথে সাথে আমাদের সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বনের প্রক্রিয়া ও সমান ভাবে চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন সংক্রমন রোধে টিকাকরনের চেয়েও সচেতনতা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এবং সর্বোপরি গন টিকাকরনের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে গুরুতর সংক্রমণের বিরুদ্ধে জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Post a Comment