গত ২৪ ঘন্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ জন
দি নিউজ লায়ন; পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত শুক্রবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫৮ জন (RT-PCR ২৭, RAPID ANTIGEN ১৫, TRUENAT ১৬)। যা বৃহস্পতিবারের (৮২) তুলনায় সামান্য কম হলেও, সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে দুঃশ্চিন্তার! গত চব্বিশ ঘণ্টায় রেলের ৬, আইআইটি’র ২ সহ মোট ২৫ জন আক্রান্ত রেলশহর খড়্গপুরেরই। মেদিনীপুর শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম সর্বত্রই সংক্রমণ বাড়ছে! গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন।
ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা (ক্ষীরপাই) সহ ঘাটাল মহকুমায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১০ জন। বলপাই, ভঞ্জপুর, বরছাহারা সহ সবংয়ে ৩ জন ও ডেবরার ভোগপুরে ১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শালবনী, গড়বেতা ও কেশিয়াড়িতে ১ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। আর, সংক্রমণের এই ভয়ঙ্কর গর্জনে আতঙ্কিত জেলাবাসী এবার ‘ভ্যাকসিন’ নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন! মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ভ্যাকসিনের প্রতি উৎসাহ দেখা যায়নি জেলাবাসী তথা রাজ্যবাসীর মধ্যে। এজন্য নানা রকম অজুহাতও খাড়া করছিলেন অনেকে।
মাত্র ২ সপ্তাহেই বদলে গেছে চিত্রটা! শালবনী থেকে মেদিনীপুর, ডেবরা থেকে খড়্গপুর সর্বত্র ভ্যাকসিনের জন্য লম্বা লাইন। ৪৫ উর্ধ্ব সাধারণ মানুষ নাম রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন লম্বা লাইন দিয়ে। যদিও, এখনও ষাটোর্ধ্ব’দের ভিড়ই বেশি চোখে পড়ছে! শালবনী’র স্বাস্থ্য আধিকারিক (BMOH) ডাঃ নবকুমার দাস বললেন, “ভ্যাকসিনে উৎসাহ ও চাহিদা বেড়েছে। লম্বা লাইন ভ্যাকসিনের জন্য।” অনেকেই আবার বেসরকারি হাসপাতালের দিকে পা বাড়াচ্ছেন অধৈর্য হয়ে!
জেলা শহর মেদিনীপুরে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে (সরকার নির্ধারিত ২৫০ টাকার বিনিময়ে)ও নাম রেজিস্ট্রেশন করে (আধার কার্ড) ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “ভ্যাকসিন ধাপে ধাপে পাঠানো হচ্ছে। আজও ১০০০০ ডোজ আসার কথা। তবে, চাহিদার তুলনায় এখনও কম! আশা করা যায়, এক-দু্’ সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ইতিমধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে। আরও কয়েকটি লাইনে আছে। এই মুহূর্তে মহামারী রুখতে ভ্যাকসিনেশনই সবথেকে কার্যকরী উপায়। তবে, মাস্ক ব্যবহার আর দূরত্ব বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি

Post a Comment