বিজয় মিছিল বন্ধ, কমিশনের নির্দেশ নিয়েও থেকে যাচ্ছে প্রশ্নচিহ্ন
দি নিউজ লায়ন; মাদ্রাজ হাইকোর্টের ধমক খাওয়ার পরেই এবারে নড়েচড়ে বসলো নির্বাচন কমিশন। আগামী ২ মে কোভিড বিধি মেনে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পদুচেরি রাজ্যে হবে ভোটগণনা। তবে ওই দিন কোনও রাজনৈতিক দল বিজয় মিছিল করতে পারবে না। কড়া নির্দেশ জারি করলো কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াল আকার নেওয়ার কারণেই কমিশনকে বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
চিরাচরিত চিত্র অনুযায়ি, ভোট গণনার পর যে রাজনৈতিক দল জিতবে সেই দলের কর্মী সমর্থকরা বিজয় মিছিলে বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম করে। এবারে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তেমন ঘটনা ঘটলে করোনা সংক্রমণের বিপর্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কাতেই ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজয় মিছিলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো কমিশন। এই মুহূর্তে দেশে করোনা সংক্রমণে পশ্চিমবঙ্গের স্থান প্রথম। পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের হার ৯,৫ শতাংশ।
এদিকে ৯ শতাংশ সংক্রমণ নিয়ে কর্নাটক আজ থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোটগ্রহণ এবং তারপর ২ মে ফল গণনা। যে কারণে কোনওভাবেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, মাদ্রাজ হাইকোর্ট করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্য এককভাবে নির্বাচন কমিশনকেই দায়ি করেছে। আদালতের তরফে জানানো হয়, আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে ভোট গণনার ক্ষেত্রে কি ব্যাবস্থা করা হয়েছে, সেটা আদালতে জানাতে বলা হয়। সেই ব্যাবস্থায় আদালত সন্তুষ্ট হলেই তবে গণনা হবে, না হলে গণনা হবে না।
এমনই কড়া নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। এরপরেই নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর আগে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে করোনা বৃদ্ধির পর ৫০০ জনের বেশি মানুষকে এক জায়গায় একত্রিত করে সভা করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি করে। সেই নির্দেশ রাজ্যের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের একটি অংশ মেনে নেয়নি। ফলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, যারা নির্বাচনে জিতবে তারা রাজ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসবে। ফলে কমিশনের নির্দেশ মেনে বিজয় মিছিল করা থেকে তারা কতোটা সংযত থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Post a Comment