নাগরিকত্ব নিয়ে অমিত শাহের বক্তব্যে বিভ্রান্তি চলছে
দি নিউজ লায়ন; দিন পাঁচেক আগে পাহাড়ে নির্বাচনী প্রচারে এসে গোর্খাদের মন পেতে জোর গলায় দাবি করেছিলেন বাংলায় এনআরসি হচ্ছে না। সিএএ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিন্তু শুক্রবার নদীয়ার তেহট্টে মতুয়াদের মন পেতে ঠিক উল্টো অবস্থান নিলেন তিনি। বললেন, 'সিএএ হবেই। মতুয়া, নমশুদ্র সমাজকে নাগরিকত্ব দিতেই হবে। মতুয়া সমাজ নাগরিকত্ব পাবেই।" বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাটানোর মোড়কে উসকে দিলেন এনআরসির সম্ভাবনাও। অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি, বিজপি ক্ষমতায় এলে মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রদানের পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি ফান্ড তৈরি করবে।
এছাড়া মতুয়া দলপতিদের ৩ হাজার টাকা মাসে পেনশান দেওয়া হবে। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু বলছেন না কেন অমিত শাহ? তিনি অতীতে বলেছেন, টিকাকরণ হয়ে গেলেই শুরু হবে এই কাজ। কিন্তু ১৩৩ কোটি মানুষের টিকাকরণ যে হঠাৎ করে শেষ হওয়ার নয়, তাও বিলক্ষণ জানে মতুয়া সমাজ। তাই শাহ যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাতে চিঁড়ে যে ভিজছে না তা পরিষ্কার। অনেকের মনে প্রশ্ন, কয়েক দশক ধরে ভোট দেওয়ার পর যদি তাদের ফের প্রমাণ করতে হয় তারা দেশের নাগরিক কিনা তবে তার থেকে অপমানজনক আর কী কিছু হতে পারে ? একই সঙ্গে তাদের এও প্রশ্ন যদি তারা নাগরিকই হয়ে থাকেন ভোট দান করে থাকেন তবে নতুন করে আবার নাগরিক হতে হবে কেন ?
মতুয়াদের অন্য একটি অংশের প্রশ্ন, অমিত শাহ পাহাড়ে গিয়ে যা বলেন সমতলে ফিরলেই উল্টো কথা বলেন। তাহলে তিনি কি চান তা বোঝা যাবে কি উপায়ে? এদিন শাহ আরও বলেন, সরকার গঠন হওয়ার পরই ঠাকুরনগর স্টেশনের নাম শ্রীধাম ঠাকুরনগর করা হবে। ঠাকুরনগরকে তীর্থক্ষেত্রে হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের ধামকে পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে অনেকের প্রশ্ন, সাত বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে মোদি সরকার। যে প্রতিশ্রুতি অমিত শাহ দিচ্ছেন সে বিষয়ে কেন তারা এতদিন অগ্রসর হয়নি? কোনো স্টেশনের নাম বদলের সঙ্গে রাজ্যে সংশ্লিষ্ট দলের ক্ষমতায় থাকার কি সম্পর্ক?
কেন এ বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সাত বছরে কোনো প্রস্তাব দিয়ে উঠতে পারল না মোদি সরকার? পর্যটনকেন্দ্র করার ব্যাপারেও এতদিন কেন কিছু করেনি মোদি সরকার? তৃণমূলের অভিযোগ, গোটাটাই অমিত শাহের ভাঁওতাবাজি। মতুয়া ভোট পেতে কল্পতরু হয়েছেন অমিত শাহ। সিএএ-এনআরসি-র কোনোটাই এরাজ্যে হবে না, স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই যে মতুয়ারা ইতিমধ্যেই নাগরিক। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার টোপ দিয়ে এবং মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিণত করা যাবে না।

Post a Comment