মধ্য রাতে রক্তদান করে এক প্রস্তুতির প্রাণ রক্ষা করলেন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক - The News Lion

মধ্য রাতে রক্তদান করে এক প্রস্তুতির প্রাণ রক্ষা করলেন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক

 


দি নিউজ লায়ন;    ধবার  মধ্যরাতে রক্তদান করে  এক প্রসূতির প্রাণরক্ষা করলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এর এক চিকিৎসক। সেটাও আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের (World Health Day) পরম সন্ধিক্ষণে। বুধবার (৭ এপ্রিল)  মধ্যরাতে প্রসূতি’কে রক্তদান করতে এগিয়ে এলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মোহিবুল শেখ (Mohibul Sk.)। বুধবার রাত্রি সাড়ে বারোটা (১২ টা ৩০ মিঃ) নাগাদ, খড়্গপুর শহরের এক অসহায় পরিবার যখন মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন তাঁদের প্রসূতি’র প্রাণ রক্ষায় রক্তের জন্য হাহাকার করছিলেন, ঠিক সেই সময় অন্য এক রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে এসেছিলেন সমাজকর্মী ফাকরুদ্দিন মল্লিক (এই কাজ মল্লিকের প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছে)।


 তিনি এই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, ‘মাতৃমা’তে ভর্তি তাঁদের প্রসূতি’র রক্তক্ষরণ (Bleeding) হচ্ছে। অবিলম্বে B+ রক্তের প্রয়োজন। অসহায় ওই পরিবার এও জানায়, তাঁরা এই রক্ত কোথাও পাচ্ছেন না! এরপরই, সমাজকর্মী তথা রক্তদান আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ফারুক মল্লিক (মল্লিক নামেই বন্ধুমহলে জনপ্রিয়) যোগাযোগ করেন তাঁর বন্ধু মোহিবুল (Mohibul Sk) এর সঙ্গে। মহিবুল জানান, সার্জারি বিভাগেই তিনি নাইট ডিউটিতে আছেন। 


ফারুকের মুখ থেকে বিস্তারিত শোনার সাথে সাথেই চিকিৎসক মোহিবুল রাত্রি সাড়ে বারোটার সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন রক্তদান করার বিষয়ে। রাত্রি সাড়ে বারোটার সময় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজেরই তরুণ চিকিৎসক (হাউস স্টাফ) মোহিবুল। রক্তদান প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে ঘড়ির কাঁটায় ৭ ই এপ্রিল রাত্রি ১ টা! “বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস” এর সন্ধিক্ষণে এক চিকিৎসক ও এক সমাজকর্মী’র মহানুভবতা আশ্বস্ত করল অসহায় ওই পরিবারকে। সম্পূর্ণ অচেনা-অজানা দুই যুবকের এই মহানুভবতায় মুগ্ধ ওই পরিবার অবাক হয়ে ভাবতে লাগলেন, “এখনও এদের মতো মানুষেরা আছে বলেই পৃথিবীতে আজও মানবতা বেঁচে আছে!”


 কেশপুর ভলেন্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের কান্ডারী ফাকরুদ্দিন মল্লিক জানালেন, “বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি। এই দিনেই আমার চিকিৎসক বন্ধুর মহানুভবতা প্রমাণ করল, চিকিৎসকেরা সত্যিই রোগী ও রোগীর পরিবারের কাছে ঈশ্বর তুল্য! তাই, আজকের দিনে সাধারণ মানুষের সাথে সাথে এই স্বাস্থ্যকর্মী তথা স্বাস্থ্য-যোদ্ধাদেরও শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা কামনা করি। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় এক সুন্দর সমাজ গড়ে উঠুক।” রাত্রি ১ টা ১৫ মিনিটে মল্লিক যখন মেদিনীপুর শহরের সিপাই বাজারে নিজের মেসে পৌঁছলেন, গভীর রাতেও মেদিনীপুর-খড়্গপুরকে এইভাবে মিলিয়ে দেওয়ার পরম তৃপ্তি তাঁর সমস্ত ক্লান্তি তখন ভুলিয়ে দিয়েছে!

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.