ফের ডুয়ার্সের চাবাগানে খাচা বন্দী হল লেপার্ড
দি নিউজ লায়ন; ফের ডুয়ার্সের চাবাগানে খাচা বন্দী হল লেপার্ড।বৃহস্পতিবার রাত আট টা নাগাদ মাদারিহাটের গ্যারগেন্ডা চা-বাগানে একটি লেপার্ডকে খাঁচা বন্দি করল বন দফতর । এদিন বাগানের ১২ নম্বর সেকশনে পাতা বন দফতরের খাঁচায় লেপার্ড বন্দী হয় । স্থানীয়রা জানিয়েছেন,গতকাল ওই লেপার্ডটি এলাকায় একটি ছাগল খেয়ে নেয় ।এছাড়াও দিন কয়েক ধরেই সে এলাকায় মুরগী, ছাগল,গরুও সাবার করছিল । তাই স্থানীয়রাই ১২ নম্বর সেকশনে খাঁচা পাতার দাবি তুলেছিলেন । বন দফতর সেখানে খাঁচা পাতে । এদিন ওই খাঁচাতেই লেপার্ডটি ধরা পড়ে । এদিকে চিতা ধরা পড়ায় স্বস্তি পেয়েছেন বাগানের শ্রমিক ও বন দফতরের কর্তারা ।
এদিকে উত্তরবঙ্গে মানুষ ও লেপার্ড সংঘর্ষ এড়াতে জার্মানির একটি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে রাজ্য বনদফতর। উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল এলাকাতে লেপার্ড ও মানুষের সংঘাত এড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিচ্ছে রাজ্য বনদফতর। সেই কারনে জার্মানির একটি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এই অঞ্চলে মানুষ লেপার্ড সংঘাত এড়াতে কাজ করবে বনদফতর বলে জানিয়েছে রাজ্য বনদফতর। শুক্রবার রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল বিনোদ কুমার যাদবের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বনাঞ্চলের ডি এফ ওদের একটি জরুরি বৈঠক হয়। এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ লেপার্ড সংঘর্ষ-সংঘাত এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বনকর্তারা। এ দিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকাতে মানুষ লেপার্ড সংঘাত এড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করবে রাজ্য বনদফতর।
জার্মানির একটি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এই কাজে নামতে চলেছে রাজ্য বনদফতর। জানা গিয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বনাঞ্চল যেমন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প,, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, গরুমারা জাতীয় উদ্যান সহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে মোট লেপার্ডের সংখ্যা ৯০। এছাড়া বনাঞ্চল লাগোয়া বিভিন্ন চা-বাগানে প্রচুর লেপার্ড জন্ম নিচ্ছে এবং বাসস্থান গড়ে তুলেছে বলেও দাবি করেছেন বন কর্তারা। আর চা বাগানের ভিতরে বাসা বেঁধে থাকা এসব লেপার্ড সম্পর্কে কোন তথ্যই কার্যত নেই বনদফতরের এর হাতে। সেই কারনে বনাঞ্চলের বাইরে থাকা চা বাগানের ভেতরে এইসব লেপার্ড দের সংখ্যা ও গতিবিধি জানতে চাইছে বনদফতর। এদের সংখ্যা ও গতিবিধি জানতে পারলেই মানুষ ও লেপার্ড সংঘাত এড়াতে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে বলেও মনে করছেন বন কর্তারা। উল্লেখ্য মূলত মানুষ ও লেপার্ডের সংঘাতের ঘটনা বিভিন্ন বনাঞ্চল লাগোয়া চা বাগান এলাকাতেই ঘটে।
লোকালয়ে অথবা চা বাগানে কাজ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই জখম হচ্ছেন চা শ্রমিকরা। কখনো কখনো মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটে যাচ্ছে। ২০১৯ সনে জলদাপাড়া জঙ্গল লাগোয়া বিভিন্ন চা বাগান এলাকায় লেপার্ডের হানায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আট থেকে আশি লেপার্ডের হানা থেকে বাঁচতে পারে নি কেউই। এ অবস্থায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা লেপার্ড ও মানুষের সংঘাত এড়াতে ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য বনদফতর। রাজ্যের বন্যপ্রাণ বিভাগের প্রধান মুখ্য বনপাল বিনোদ কুমার যাদব বলেন, " জার্মানির একটা সংস্থার সঙ্গে একসঙ্গে আমরা উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকাতে মানুষ ও লেপার্ডের সংঘাত কি করে এড়ানো যায় সে বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করব। জার্মানির একটি সংস্থা আমাদের সবরকম সহযোগিতা করবে। এছাড়া বনাঞ্চল লাগোয়া বিভিন্ন চা বাগান এলাকায় কত সংখ্যায় লেপার্ড রয়েছে তারও হদিশ করার চেষ্টা করছি আমরা। সব মিলিয়ে জার্মানির ওই সংস্থার সঙ্গে উত্তরবঙ্গে মানুষ ও লেপার্ড সংঘাত এড়াতে উল্লেখযোগ্য কাজ হবে বলে আশা করছি।"

Post a Comment