শীতলকুচিতে মৃত্যু, উত্তরবঙ্গে রওনা দিচ্ছেন মমতা - The News Lion

শীতলকুচিতে মৃত্যু, উত্তরবঙ্গে রওনা দিচ্ছেন মমতা

 


দি নিউজ লায়নঃ সিআরপিএফ আমার শত্রু নয়। হোম মিনিষ্টারের কথায় চক্রান্ত চলছে। এভাবেই ফের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জ ও বনগাঁ উত্তরের জনসভায় এসে মমতা বলেন, শীতলকুচিতে সিআরপিএফ গুলি চালিয়ে চার জনকে মেরে ফেলেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাকে প্রচন্ড দুঃখ দিয়েছে। মনে অনেক ব্যাথা নিয়েই আমি আপনাদের কাছে এসেছি। বাংলায় আজ সিআরপিএফ সবকিছু করছে হোম মিনিষ্টারের কথাতেই। এদিন মমতা গর্জে উঠে বলেন, এতো ঔদ্ধত্য আসে কোথা থেকে? বিজেপি জানে তারা এবারের ভোটে  হেরে গিয়েছে। 


আর তার জন্যই এভাবে এখন ভোটারদের, কর্মীদের মারছে। এতোগুলো মানুষকে গুলি করে মেরে দিয়ে বলছে সেলফ ডিফেন্স! এটা হতে পারে?  আর বিবেক দুবে হু আর ইউ? রিটেয়ার্ড লোক বিবেক দুবে নির্বাচন পরিচালনা করছেন? আমি ইলেকশন কমিশনকে প্রশ্ন করছি। আপনারা আমাকে নোটিশ পাঠাবেন। আমি কোনও কোড কনডাক্ট ভায়োলেট করছি না। আমি আমার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করছি। মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে চার জনের মৃত্যু ঘটেছে। 


প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে পথে নামবে তৃণমূল। কালো ব্যাজ পরে রাস্তায় নামবে তৃণমূল। আজ শনিবারই উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন তিনি। রবিবার শীতলকুচিতে যাবেন মমতা। মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় এসে ক্রমাগত মিথ্যে কথা বলে চলেছেন। বাংলায় উত্তেজনার বাতাবরণ তৈরি করছেন। কিন্ত এসব করেও লাভ হবে না।  মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


 তারই ফলশ্রুতি হিসেবে ভোটারদের গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে। নিজেদের ভোটবাক্স ভর্তি করতে বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। শুধু তাই নয়, বনগাঁ দক্ষিণের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।  শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে জোড়পাটকির একটি বুথের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।  উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ও বাদুড়িয়ার সভা থেকে তা নিয়ে মুখ খোলেন মমতাও। তিনি বলেন, আমি বরাবর বলে আসছি, কেন্দ্রীয় বাহিনী আমার শত্রু নয়। 


কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় যে চক্রান্ত চলছে, তা আজ প্রমাণ হয়ে গেল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের গুলি করে মেরে দেওয়া হয়েছে।  আত্মরক্ষার জন্যই শীতলকুচিতে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিআইএসএফ) গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও মমতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। কোচবিহারের সভায় তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরার পরামর্শ না দিলে, মানুষ উত্তেজিত হতেন না আর গুলিও চলত না বলে দাবি করেছেন তাঁরা। কিন্তু মমতার বক্তব্য, ‘বিজেপি জানে হেরে গিয়েছে।


তাই ভোটারদের গুলি করে মারছে। তবু মানুষকে বলব, আপনারা শান্ত থাকুন। নির্বিঘ্নে ভোট দিন। কোনও অশান্তির মধ্যে যাবেন না। যারা অশান্তি করে, তারা রাক্ষসের দল। যারা শান্তি রক্ষা করে, তারা মানুষ। মানুষকে মানবিকতা দিয়েই জয় করতে হবে। মমতা বলেন, আজ শীতলকুচিতে ৪ জনকে গুলি করে মেরে দিয়েছে। সকালেও এক জন মারা গিয়েছে। এত ঔদ্ধত্য আসে কী ভাবে? কী অন্যায় করেছিল মানুষগুলো? মানুষ কাকে ভোট দেবেন, তুমি ঠিক করার কে? অমিত শাহ কেন তাঁর এজেন্সিকে মেয়েদের ভয় দেখাতে বলে পাঠাবেন? গ্রামে, সীমান্ত অঞ্চলে গুলি করে মেরে দেওয়া হচ্ছে মানুষকে। ভোটবাক্সেই এর বদলা নিতে হবে। নইলে নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে না। 


  অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের দাবি, ঝামেলা থামাতে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরে ১০০ থেকে ২০০ জন মানুষ। রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। তাতেই আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে বাধ্য হয় সিআইএসএফ। কিন্তু এর আগে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র হয়ে পক্ষপাতিত্ব করা বিবেকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, গুলি করে মেরে ফেলে আত্মরক্ষা বলছে এখন। লজ্জা হওয়া উচিত। বাংলার  পঞ্চায়েত নির্বাচনের থেকে এই নির্বাচনে অনেক বেশি হানাহানি হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘চার দফা নির্বাচনে এখনও যে ১৮-২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার ১২ জন তৃণমূলের।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.