ভোটের মুখে ব্যাপক উত্তেজনা শাসনে
দি নিউজ লায়ন; ভোটের মুখে বোম বিস্ফোরণে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরী হল শাসনে। সোমবার সকালে শাসনের দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যের বাড়ির ছাদেই বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। বাড়ির ছাদে বোমা গুলো শুকোতে দেওয়া হয়েছিল।স্থানীয়দের অভিযোগ সেই সময়েই বোম বিস্ফোরন ঘটেছে বলেই জানা গেছে।এদিন সকালে বিস্ফোরণের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক তৈরী হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌছায় শাসন থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তদন্ত শুরু করেছে শাসন থানার পুলিশ। বোমা তৈরীর কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার হলেও ঘটনাস্থল থেকে কোন বোমা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।এদিকে বোমা বিস্ফোরণের পরেই আরিফুল ইসলাম নামে দাদপুর পঞ্চায়েত সদস্য এবং তার পরিবারের লোকজন বেপাত্তা হয়েছেন।ভোটের আগে শাসনে বোমা বিস্ফোরণের পরেই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে তৃণমূল, সিপিএম এবং বিজেপির মধ্যে।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই দাদপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্ধ লেগেই ছিল।দুই পক্ষের সংঘর্ষ থেকে এলাকায় বোমাবাজি,বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল।মুলত গোষ্ঠী দ্বন্ধ ছিল বারাসত দুই নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির এক কর্মাধক্ষ্যের সাথে দাদপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধানের। মাঝের কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির ছাদে বোমা বিস্ফোরণের জেরে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল।এদিন বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্যের ঘনিষ্ঠ আরিফুল ইসলামের বাড়ির ছাদেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য আরিফুল ইসলামের বাড়ি পাতরা গ্রামে। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ তার বাড়ির ছাদে আচমকা পরপর দুটি বোমা বিস্ফারনের শব্দ হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। দাদপুরের পাতরা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ বোমা বাঁধার পর তা বাড়ির ছাদে রেখে শুকনো করা হচ্ছিল। আচমকা বেশি তাপে তা ফেটে যাওয়ায় বিপত্তি হয়েছে। এমনকি দুটি বোমা ফাটার পর দ্রুত বাকি বোমা বাড়ি লাগোয়া পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত শাসন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।এলাকায় টহল দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। শাসন থানার পুলিশ তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি লাগোয়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও বোমা উদ্ধার করতে পারেনি। এই ঘটনার পর থেকে আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে দাদপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্ধের জেরে তৃণমূলের মধ্যেই কোনঠাসা পঞ্চায়েত সদস্য আরিফুল ইসলাম তলে তলে আই এস এফের সাথে সখ্যতা বাড়িয়েছিল।তার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে শাসন থানার পুলিশ।
শাসন এলাকাটি হাড়োয়া বিধানসভার মধ্যে পড়ে। এখানে প্রার্থী হয়েছেন হাজি নুরুল ইসলাম। সম্প্রতি শাসনের গোলাবাড়ি এলাকায় দাদপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের নেতৃত্বদের নিয়ে মিটিংও করেছিলেন তিনি।এরপরেই আরিফুলের বাড়ির ছাদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। তিনি বলেন আমাদের ওই পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি লাগোয়া এলাকায় বিরোধীরা বোমা রেখে এসেছিল। এই ঘটনার সঙ্গে আইএসএফ বা বামেদের হাত থাকতে পারে। ওরা আমাদের ওই পঞ্চায়েত সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।
সিপিএমের বারাসত দক্ষিন-১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আহম্মেদ বলেন কয়েক দিন আগে ওই গ্রামে আমাদের কর্মী সভা দেখে তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানোর জন্য তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য বাড়ির ছাদে বোমা শুকাচ্ছিলেন। সেই সময় তা ফেটে যাওয়ায় ওই ঘটনা ঘটেছে। আমরা বার বার পুলিশকে বলেছি দাদপুর অঞ্চলে প্রচুর বোমা, গুলি মজুদ রয়েছে। ওইসব বোমা ও গুলি উদ্ধার না হলে অবাধ ভোট হওয়া সম্ভব নয়।
স্থানীয় আই এস এফ কর্মী এসরাইল মন্ডল বলেন আরিফুল ইসলাম তৃণমূলেরই পঞ্চায়েত সদস্য।সে আই এস এফে যোগ দেন নি। আসলে তৃণমূল নিজেদের দোষ আমাদের ঘারে চাপাতে চাইছে।শাসন অঞ্চলের বিজেপি সভাপতি আমিনউদ্দিন মন্ডল বলেন তৃণমূল শাসনে বিরোধীশুন্য করতে চেয়েছিল।এদিন নিজেদের ফাদেই পড়ে গিয়েছে।পুলিশ এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই আসল ঘটনা সামনে আসবে।

Post a Comment