কেশপুর কখনো সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করেনি বলে নির্বাচনী জনসভায় বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
দি নিউজ লায়নঃ বহিরাগত যাঁরা বাইরে থেকে এসে বলছে আবকি বার দুশো পার।এবারে সেটা দুশো পার নয় হবে আবকি বার দুশোমে হার।আর তৃণমূল কংগ্রেস আড়াইশো পার।২৫০ শুধু সময়ের অপেক্ষা।এই কেশপুর কখনো সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করেনি।কোনো দিন সিপিএমের জুলুমবাজির কাছে মাথা নত করেনি।এই কেশপুর বহিরাগতদের কাছে মাথানত করবে?।এই কেশপুর সিপিএমের কাছে শেষপুর হয়েছে।এবার বিজেপির কাছেও শেষপুর হবে।আগামী দিন বহিরাগতদের বিতাড়িত করতে হবে বাংলার মাটি থেকে।মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের আনন্দপুরে কেশপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শিউলি সাহার সমর্থনে এক নির্বাচনী সভায় এসে এই কথা বললেন যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেশপুরের আনন্দপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কেশপুরের তৃনমূলের প্রার্থী শিউলি শাহা, কেশপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উত্তমানন্দ ত্রিপাঠী, সমাপ্তি ঘোষ, মহম্মদ রফিক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুভ্রা দে সেনগুপ্ত, সঞ্জয় পান, গৌতম মল্লিক, সহ একাধিক নেতৃত্বরা। কেশপুরের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিও সিপিএম এর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন সিপিএমের হার্মাদ রা বিজেপিতে যোগদান করে এখন বড় বড় কথা বলছেন। বিজেপিকে বাংলার মানুষ আগামী দিনে বিসর্জন দেবে। বাংলায় তৃতীয়বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠিত হবে । এরপর উন্নয়ন কাকে বলে সেটা বাংলার মানুষ দেখবে। উন্নয়নের জন্য কাউকে কোথাও যেতে হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের দুয়ারে উন্নয়ন পৌঁছে দেবে। বিজেপিকে মিথ্যাবাদী রাজনৈতিক দল বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
তিনি বিজেপির বহিরাগতদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি সিপিএম এর তীব্র সমালোচনা করেন। একসময় সিপিএমের লাল দুর্গ হিসেবে পরিচিত কেশপুর। বর্তমান কেশপুরে লাল ঝাণ্ডার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আব্বাসউদ্দীন কে সঙ্গে নিয়ে কেশপুরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সিপিএম। তিনি কেশপুর বিধানসভা এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে আবেদন করেন যারা একসময় কেশপুর কে রক্তাক্ত করেছিল কেশপুরে বহু মানুষ খুন হয়েছিল সেই খুনি শিবকে আপনারা কেশপুরে আর ফিরিয়ে আনবেন না ।কেশপুর থেকে সিপিএমকে আপনারা বিদায় দিন ।
আগামী ১ লা এপ্রিল জোড়া ফুলে ভোট দিয়ে শিউলি সাহা কে তিনি নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। কেশপুর ব্লক এর আনন্দপুর সভা শেষ করে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অরূপ ধাড়ার সমর্থনে রামজীবনপুর এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন।ওই নির্বাচনী জনসভায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী অফ ধারা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী রামজীবনপুর পৌরসভার পৌর প্রধান নির্মল চৌধুরী সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তিনি ওই জনসভার মঞ্চ থেকে চন্দ্রকোনা বিধানসভা এলাকার প্রতিটি মানুষকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান এবং বহিরাগতদের চন্দ্রকোনা থেকে তাড়ানোর ডাক দেন। আগামী পয়লা এপ্রিল চন্দ্রকোনা বিধানসভার নির্বাচনে অরূপ ধাড়াকে জোড়া ফুলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে মীরজাফরদের তিনি চন্দ্রকোনা থেকে বিদায় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন মেদিনীপুরের মাটি কোনদিন বেইমানদের জায়গা করে দেয় না।
মেদিনীপুরের মাটি স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম। মেদিনীপুরের ক্ষুদিরাম বসু স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিল। বীর শহীদ ক্ষুদিরাম বসু ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। অল্পবয়সে ক্ষুদিরাম বসু ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ফেনী ইংরেজদের কাছে মাথা নত করেনি তাই মেদিনীপুরের মানুষ বেইমানদের কোনদিন জায়গা করে দেবে না। তাই বেইমান দেরকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। উল্লেখ করা যায় যে রামজীবনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দু অধিকারী বলে পরিচিত রামজীবনপুর পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রধান কে। যিনি এক সময় এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদান করার কিছুদিন আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেইমান মীরজাফরদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান সকলকে । তিনি বিজেপিও সিপিএমকে উৎখাত করার ডাক দেন।সেই সঙ্গে ১ লা এপ্রিল অরূপ ধাড়া কে তিনি জোড়া ফল চিহ্নে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আবেদন জানান।

Post a Comment