দুর্যোধন দুঃশাসনের দল, স্বার্থপর দৈত্যের মতো, ওদের চোখ দিয়ে দাঙ্গা বেরচ্ছে, মমতা
দি নিউজ লায়ন; দুর্যোধন দুঃশাসনের দল। স্বার্থপর দৈত্যের মতো। ওদের চোখ দিয়ে দাঙ্গা বেরচ্ছে। শনিবার বিকেলে হাওড়ার ডুমুরজলা ময়দানে হাওড়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ভাষাতেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, লোকসভা ভোটে যেগুলো জিতেছিল সব ভোকাট্টা হয়ে গেছে আজকে ( প্রথম দফার ভোটে ) সকাল থেকে। এদের বোল্ড আউট করে দিন। এক তারিখ আমার ভোট আছে। এক একটা করে ফেজ আসবে। একটা করে ধপাস হবে।
ওরা গুন্ডামি করতে এলে হাতা, খুন্তি, বেলন, ঝাড়ু হাতের কাছে যাই পান, তেড়ে যান। বলুন বিজেপি চাইনা। দাঙ্গাবাজ চাইনা। বিজেপিকে বিদায় দিন। এদিন মমতা একে একে বালি, হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, শিবপুর, হাওড়া দক্ষিণ, সাঁকরাইল, পাঁচলা, ডোমজুড়, জগৎবল্লভপুরের প্রার্থীদের সঙ্গে সকলের পরিচয় করিয়ে সকলের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বালিতে দারুণ ক্যান্ডিডেট। অনেক ভোটে জেতাতে হবে। মনোজ আমার সবচেয়ে প্রিয় ক্যান্ডিডেট। জেতাতে হবে। নাহলে কিন্তু কষ্ট পাব। মনোজকে আমি দাঁড় করিয়েছি একটা কারণে। আমাদের খেলাধুলোর লোক তো চাই, মনোজ না থাকলে বোল্ড আউট করবে কে ? খেলতে হবে। খেলায় জিততে হবে। অম্বিকাদাকে সম্মান দেওয়ার জন্য নন্দিতা চৌধুরীকে দাঁড় করিয়েছি৷
নবান্ন হাওড়া জেলায় দিয়েছি আমি। হাওড়ার মানুষ এরজন্য গর্বিত। মোট টাইম পেয়েছি আট বছর। তার মধ্যে দু'বছর ইলেকশন করতে গেছে। কাজের সময় পেয়েছি ৫ -৬ বছর। তারমধ্যে কী হয়নি বলুন ? আমি যা বলেছি হান্ড্রেড পার্সেন্ট, আর কাজ করেছি হান্ড্রেড টেন পার্সেন্ট। ৫০ হাজার পুকুর কাটার কথা বলে সাড়ে ৩ লক্ষ কাজ হয়েছে। হাওড়ায় হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছি৷ ডুমুরজলায় হেলিপ্যাড করে দিয়েছি৷ নতুন করে ইন্ডোর স্টেডিয়াম করা হয়েছে। এই জায়গাটা খেল শহর৷ এখানে সৌরভরা আরেকটা ওরকম স্টেডিয়াম করবে বলেছে। এখানে হোটেল, ব্যবসা, দোকানপাট সব হবে। তাই নাম খেল শহর। তাই খেলা হবে খেল শহরে। হবে তো? অ্যামাজন আর ফ্লিপকার্ট মিলিয়ে অনেক কর্মসংস্থান হবে।
শিল্প কারখানা, জরিশিল্প, গয়নাশিল্পে ছেলেমেয়ের কাজ হবে। মমতা বলেন, মোদি বলেছিলেন, সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবেন, পেয়েছেন কেউ ? গ্যাসের দাম কত ? মমতা বিনা পয়সায় রেশন দেবে, আর ৮০০ টাকায় গ্যাসে ফোটাবে ? আগে গ্যাস ফ্রি'তে মানুষকে দিয়ে যান। তারপর মানুষের কাছে ভোট চাইবেন। আমি যদি ৩১ টাকায় চাল কিনে বিনে পয়সায় দিতে পারি, তুমি কেন দিতে পারবে না ? খালি মিথ্যা বলছেন। মমতা বলেন, এরা সব ন্যাকাচণ্ডী। শুধু মিথ্যে কথা বলে। এখন বাংলাদেশে গিয়ে বাংলার জন্য ভিক্ষে চাইছেন। তোরা হিংসায় জ্বলবি, আর লুচির মতো ফুলবি। ইস্তাহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বলেন, দরজায় দরজায় বিনামূল্যে রেশন পৌঁছে যাবে।
আমরা স্টুডেন্টদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে একটা ক্রেডিট কার্ড করে দেব৷ মা-বোনেদের জন্য হবে লক্ষ্মীভাণ্ডার। হাত খরচের জন্য প্রতি মাসে দেওয়া হবে ৫০০ টাকা। এদিন মমতা অভিযোগ করেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে বহিরাগত গুন্ডারা এসেছে। এগরা, পটাশপুর, ভগবানপুরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কয়েকটা মীরজাফর, যাদের মানুষ করেছি। এখন কাল কেউটে হয়েছে। দলের জন্মের সময় এরা কেউ ছিলনা। মমতা উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, হরে কৃষ্ণ হরি হরি। আসুন মানুষের কাজ করি৷ এক, দুই, তিন। বিজেপিকে বিদায় দিন। এদিনের সভায় খেলা হবে প্রসঙ্গে উপস্থিত জনতার মধ্যে থেকে এক মহিলা মমতার উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে দেন। মমতাও তাঁর উদ্দেশ্যে বল ছুঁড়ে দেন। এদিনের জনসভায় দলের সদরের সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য, সদরের চেয়ারম্যান অরূপ রায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের হাওড়া সদরের সকল প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment