পরিবারকে বাঁচাতেই খুন, লক্ষ্মণ ঘোষ খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের দাবি
দি নিউজ লায়ন; ১৪ বছর ধরে যে যন্ত্রণা আমাদের সহ্য করতে হচ্ছিল তার বদলা নিতেই খুন করেছি। মঙ্গলবার সকালে পুরাতন মালদার লক্ষ্মণ ঘোষ খুনের ঘটনায় ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে এমনই দাবি এক অভিযুক্তের। কি সেই যন্ত্রণা ? আর কেনই বা এই অপরাধের পথ বেছে নিতে হলো , সেই প্রশ্নের উত্তরে মেজাজ হারিয়ে ধৃত আদুরী দাসের স্বামী কিশোরীলাল দাস বলেন, আপনারা কি জানেন কি যন্ত্রনা আমার মধ্যে এবং আমার সংসার চলছিল । লক্ষণ ঘোষের অত্যাচার আমার স্ত্রী , মেয়ে পরিবার আর সহ্য করতে পারছিল না । স্ত্রী ছাড়াও মেয়ের প্রতি ওর কুনজর ছিল , তাই ওকে খুন করেছি।
সোমবার সকালে পুরাতন মালদা থানা এলাকার থেকেই উদ্ধার হয় মঙ্গলবাড়ী ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা লক্ষণ ঘোষের (৩৩) মৃতদেহ। এরপরেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মৃতের পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীদের একাংশ ঘোষপাড়া এলাকার মালদা - নালাগোলা রাজ্য সড়ক রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি খুনের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের দুটি ঘর পুড়িয়ে দেয় মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের একাংশ।
এরপরই পুলিশ সরকারি সম্পত্তি ভাংচুরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে। এই অভিযোগে ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে । তার মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । ধৃতদের নাম অর্জুন ঘোষ এবং রঞ্জিত ঘোষ। অন্যদিকে লক্ষণ ঘোষ খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ । ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি আদুরী দাস এবং তার স্বামী কিশোরীলাল দাস। ওই দম্পতির মেয়ে রুম্পা দাস, জামাই নাগফোর দাস এবং দুই আত্মীয় অজয় দাস প্রসূন দাস। এই ছয়জনই লক্ষণ ঘোষ খুনের ঘটনায় জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

Post a Comment