শিলিগুড়িতে রাজিনীতির ওয়ার্ম আপে ব্যস্ত ঘাস ফুল শিবিরের গৌতম-রঞ্জন, এক কিঞ্চিৎ জমি ছাড়তে রাজি নয় জোড়াফুল
দি নিউজ লায়নঃ শিলিগুড়িতে রাজিনীতির ওয়ার্ম আপে ব্যস্ত ঘাস ফুল শিবিরের গৌতম-রঞ্জন। এক কিঞ্চিৎ জমি ছাড়তে রাজি নয় জোড়াফুল শিবির। লোকসভার ফলাফলের হিসেবনিকেশ এবারে বদলে দেওয়ার পালা। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্বাচনি নির্ঘন্টয়ের বহু আগে থেকেই গৌতম দেব নিজ বিধানসভা ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে মিছিল বৈঠকের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এলাকার মানুষের সঙ্গে আড্ডার মেজাজে আলোচনা সমস্যা সমাধানে। নিজের বসতবাড়ি ছেড়ে ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছেন তিনি।যা তার বড় অস্ত্র হবে নির্বাচনী লড়াইয়ে কারন বছরের বিভিন্ন সময়তেই মানুষের কাছে পৌঁছতে বাড়ি ছেড়ে নিজ কেন্দ্রে ভাড়া বাড়িতে বসবাস নিয়মমাফিকই করেছেন ফলে শুধুই রাজনৈতিক প্রচারে এই বাড়ি বদল তা বলার জোর নেই বিরোধী পক্ষের।
সেখানে তথাকথিত পূর্ব নির্বাচন গুলিতে পরাজিত সিপিএম প্রার্থী দীলিপ সিং অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির মানুষ তার মুখ কখনও দেখেনি।এমনকি রীতি মেনে একই প্রার্থীকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ায় দলের একাংশও তার সঙ্গে নেই। আর ওই এলাকায় বিজেপির বুথে পর্যন্ত লোকের দেখা নেই। মোদি ম্যাজিক ছাড়া আর কোনো স্থানীয় সংগঠন নেই পদ্ম শিবিরের তা স্পষ্ট। জলপাইগুড়ি থেকে বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের বিধানসভা নির্বাচনে আগের শেষ তিনমাসে মাঝেসাঝে হঠাৎ উদয়ন হলেও শিলিগুড়ি লাগোয়া বিধানসভা নিয়ে বিজেপি অসংগঠিত হাতে থাকা শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই যা নিয়ে এলাকায় বিজেপির সমর্থন শূন্যেই রয়েছে।এক আধটা পঞ্চায়েত জিতলেও তারা পরবর্তীতে তৃনমূলে যোগদান করে। ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির আওতায় থাকা শিলিগুড়ি সংযুক্ত এলাকার শক্ত হাতে নেতৃত্ব সামলে চলা তৃনমূল নেতা দুলাল দত্ত জানান পুর পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ ছিল ছয় সাতমাস আগে পর্যন্ত মানুষের মধ্যে যা মন্ত্রীকে জানিয়েছিল মানুষ। সে কাজ নিজে দায়িত্ব নিয়ে রাজ্যের প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রী করায় এবং দুয়ারের সরকারের সাফল্যের পর মানুষ খুশি। মন্ত্রীকে কাছে পেলে মানুষের মধ্যে বাড়ি নিয়ে আপ্যায়ন আন্তরিকতার হিড়িক পড়ে যায়।
আত্মবিশ্বাসে ভরপুর সুর তাই গৌতম দেবের কণ্ঠেও তিনি বলেন মোদি দীলিপ জনপ্রিয় হলে শিলিগুড়ি ও ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে গৌতম দেবও যথেষ্ট জনপ্রিয়। অন্যদিকে শিলিগুড়ির লালদ্বীপেও নজরকায়েম করে ঘাস ফুলের জন্য মাটি উর্বর করার তাগিদে লাঙল সামলেছেন জেলা তৃণমূলের অভিভাবক পদে থাকা গৌতম দেব। রাম বামের ছক সামনে আসায় বিধায়ক অশোক ভট্টাচায্যের ওপর বিব্রত মানুষ। একই সঙ্গে নির্ভিক সৈনিকের মতই জমি আঁকড়ে রয়েছেন দার্জিলিং জেলা সভাপতি। মানুষের সঙ্গে প্রবল জন সংযোগ রঞ্জন সরকারের।আপামর শহর বাসীর পরিবারের সদস্য হয়ে সমস্যা অসুবিধেয় ছুট লাগিয়েছেন। রঞ্জন সরকারের জনবলের কাছে চাপে রয়েছেন অশোক ভট্টাচার্য।
রঞ্জন সরকার বছর ভর বিভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ক্রমাগত রেখে রয়েছেন। ব্যবসায়ি মহল থেকে শিক্ষক অধ্যাপক, চাকুরিজীবি, রিক্সা ভ্যান চালক,ফুটপাত ব্যবসায়ি, মহিলা, ছাত্র, জেনারেশন নেক্সটের মধ্যেও তার যে বিরাট প্রভাব তার ধারেকাছে নেই রাম বাম নেতৃত্বরা। সেখানের বিজেপি মৃত জেলা সভাপতির অভিজিৎ রায় চৌধুরীর স্ত্রী পারমিতা রায় চৌধুরীকে সামনে এনে শিলিগুড়ি বিধানসভায় আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেও তা বুমেরাং হবে। কারন গেরুয়া শিবিরের অভিজিৎ অনুরাগীদের মধ্যে দলের ভূমিকা নিয়ে চাপা ক্ষোভ রয়েছে তার জীবিত থাকাকালীন সময় থেকেই। বিজেপির অন্দরে হিন্দি ভাষী ও বাংলা ভাষী দুই ভাগে সংগঠন বিভক্ত হয়ে তার স্ত্রীকে প্রার্থী করা নিয়ে তুমুল মতবিরোধ রয়েছে। দার্জিলিং জেল তৃনমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন- বারো মাস ময়দানে আছি। প্রতিদ্বন্দ্বী একজনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমারা তার প্রচারেই নামবো। প্রাথীর বিষয়ে বলেন দল যা ঠিক বুঝবে সেটাই করবে আমরা প্রস্তুত।
অন্যদিক শিলিগুড়ির রাম-বামের ছক ভেঙে জমি পুনরুদ্ধারের ভাবনা নিয়েই এবারে এগোতে চায় বাম শিবির। কারন বিধানসভায় ভোটের ক্ষেত্রে নিজ থিওরী আজমান অশোক ভট্টাচার্য। শুধুমাত্র প্রতি লোকসভায় সে হিসেবে বদলে বুথের পোলিং এজেন্টদের ভোটও রামকে উপহার দেন অশোকের নেতৃত্বে বামেরা। তবে শিলিগুড়ি বিধানসভা ক্ষেত্রে নিজের অস্তিত্ব বাঁচাতে পরিচয় ধরে রাখতে ঘরের ভোট সিপিএমের ঘরে ফেরত আনার লড়াইযেই নামবেন অশোক।

Post a Comment