12 ঘণ্টার ব্যবধানে বারইপুর এবং অন্ডালে খুন দুই তৃণমূল কর্মী
দি নিউজ লায়নঃ 12 ঘণ্টার মধ্যে দুই জেলায় খুন দুই তৃণমূল কর্মী। প্রথম ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। সিপিএমের দুষ্কৃতীদের হামলায় মৃত্যু হয় এক তৃণমূলকর্মীর। ঘটনাস্থল দক্ষিণ 24 পরগনা বারুইপুরের বেলেগাছি। নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম রুহুল আমিন মিদ্দে (৬০)। তৃণমূলের অভিযোগ, দলীয় কাজ সেরে রুহুল এবং আরো বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী রাতে বাড়ি ফিরছিলেন।
সেই সময় বেলেগাছি এলাকায় সংযুক্ত মোর্চার ব্যানারে একটি মিটিং চলছিল। সেখান থেকেই দুষ্কৃতীরা আচমকা হামলা চালায় তৃণমূল কর্মীদের ওপর। বাস লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তৃণমূল কর্মীদের। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় 6 জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রুহুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত 7 জন সিপিএম কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হামলার ঘটনায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী সরাসরি অভিযোগ করেছেন সংযুক্ত মোর্চা ও বিজেপির দিকে। তাঁর অভিযোগ, রাতে আইএসএফ , সিপিআইএম ও বিজেপি গোপন বৈঠক করছিল বেলেগাছি এলাকায়। সেইসময় তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী সেই জায়গা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তখনই তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় সংযুক্ত মোর্চা ও বিজেপি। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ফের নিহত তৃণমূলকর্মী। এবার ঘটনাস্থল পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল। জামবাদ এলাকায় বোমা বিষ্ফোরনের জেরে মৃত্যু হয় সরবন চৌধুরী (৩৯) নামে এক তৃণমূল কর্মীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সরবন চৌধুরী। তৃণমূলের অভিযোগ, জিতেন্দ্র তিওয়ারির অনুগামী ভাজপা দুষ্কৃতীদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ওই তৃণমূল কর্মীর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় জিতেন্দ্র তিওয়ারির অনুগামী হলেও জিতেন্দ্র দলবদল করলেও তৃণমূল ছাড়েনি সরবন। এর জেরেই হামলা। যে এলাকার ঘটনা সেটিও পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত যেখানকার বিদায়ী বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও 3 জন তৃণমূল কর্মী জখম হয়েছেন বলে সূত্রের খবর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
Post a Comment