যতই অফিসার বদলি করো মাইনে তোমার ৪১২, নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ মমতার
দি নিউজ লায়ন; বৃহস্পতিবার প্রথম পর্বের নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন বিধান সভা কেন্দ্রের তৃনমূলের প্রার্থী বিক্রম চন্দ্র প্রধানের সমর্থনে দাঁতন দুই ব্লকের তালদা এলাকায় ও মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃনমূলের প্রার্থী অভিনেত্রী জুন মালিয়ার সমর্থনে মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়া এলাকার বিড়লার মাঠে জনসভা করে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার প্রথমেই দাঁতন দুই ব্লকের তালদা গ্রামের মাঠে দাঁতন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃনমূলের প্রার্থী বিক্রম চন্দ্র প্রধানের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভাষণে তীব্র ভাষায় নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন যতই অফিসার বদলি করো মাইনে তোমার ৪১২।
তিনি বলেন নির্বাচন কমিশন বিমাতৃ সুলভ আচরণ করছে। বিজেপির সঙ্গে বসে কি কথা হচ্ছে আমি জানি। নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অফিসারদের বদলি করছে বিজেপি। ডিএম,এস পি দের বাদলালেও কিছুই যায় আসে না। বিজেপি জানে খেলায় হেরে গেছে। তাই বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অফিসার দের বদলি করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে আরো বলেন যে নির্বাচন কমিশন যেভাবে বিজেপির কথা মতো কাজ করছে তা আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। নির্বাচন কমিশনের উচিত রাজনীতিকে উদ্ধে রেখে কাজ করা।
তা না করে কেবলমাত্র কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির কথা মতো কাজ করছে ।সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন বহিরাগতদের ঢুকতে দেবেন না। বহিরাগত বিজেপির লোকেরা ভোট লুট করবে। আপনারা শক্ত হাতে তার মোকাবেলা করবেন। যারা গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে ,কেরোসিনের বরাদ্দ দিয়েছে ও দাম বাড়িয়েছে। তারা বাংলায় ক্ষমতায় আসার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পেট্রোল ,ডিজেলও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে নরেন্দ্র মোদি পকেটে কোটি টাকা ঢুকাচ্ছে । কাজ করবো আমরা আর ওরা মানুষকে মিথ্যা কথা বলবে।
তিনি তাঁর ভাষণে আরো বলেন যে আপনারা বিনা পয়সায় এখন রেশন পান এরপর বিনা পয়সার রেশন আপনার দুয়ারে পৌঁছে যাবে ।এরপর রেশন দোকানে গিয়ে আপনাদের লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হবে না ।তিনি বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন যখন আমফান হয়েছিল তখন ওদের মনে হয়নি, যখন লকডাউন চলছিল তখন ও ওদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা মনে হয়নি। আজকে বাংলায় এসে শুধু মিথ্যা ভাষণ দিচ্ছেন আর গরিব মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে।
গত দশ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কি কি উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন তা তিনি বিস্তারিতভাবে তার ভাষণে তুলে ধরেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে বলেন ক্ষুদ্র শিল্পে আরো কর্মসংস্থান হবে। যে কোন দুর্যোগে দুর্গত মানুষদের সাহায্যে রাজ্য সরকার কোন কার্পণ্য করেনি। বিজেপি শুধু ক্ষমতায় আসার জন্য যে কারো হাত ধরতে পারে। বিজেপির হাত ধরে তৈরি হয়েছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রণ্ট।আই এস এফ বিজেপি থেকে প্রচুর টাকা নিয়েছে।
তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন আগামী শনিবার প্রথম পর্বের বিধানসভা নির্বাচন। তাই প্রতিটি এলাকায় নজর রাখতে হবে ।যাতে বহিরাগতরা যেন এলাকায় ঢুকে না পড়ে। বহিরাগতরা ঢুকে পড়লে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলার শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি ওই সভায় জোড়া ফুল চিহ্নে বিক্রম চন্দ্র প্রধান কে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশস্থলে শামিল হয়েছিল।
সমাবেশস্থলে তিল ধারণের জায়গা ছিল না ।যেন গোটা তালদা এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত ছিলেন দাঁতন কেন্দ্রের তৃনমূলের প্রার্থী বিক্রম চন্দ্র প্রধান, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শৈবাল গিরি, প্রদীপ পাত্র, প্ৰতুল দাস, মানিক মাইতি সহ আরো অনেকে। দাঁতনের সভা শেষ করে হেলিকপ্টারে মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভিনেত্রী জুন মালিয়ার সমর্থনে মেদিনীপুর শহরের বিড়লা মাঠে এক সভায় তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি মেদিনীপুরের সভা থেকে বলেন নরেন্দ্র মোদীর মতো প্রধানমন্ত্রী যেন সারা পৃথিবীতে না জন্মায়।
কারণ উনার মত প্রধানমন্ত্রী ভারতবর্ষে এর আগে কেউ কোনদিন দেখেনি ।উনিকোনদিন সত্যি কথা বলেননি,সব সময় উনি মিথ্যা কথা বলেন ।তিনি দলীয় কর্মীদের বলেন একমাস ভোট মেশিন পাহারা দিয়ে রাখতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে যারা দলের প্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে বসবেন ইভিএম দুবার করে অফ অন করবেন এবং সবসময় বুথে থাকবেন।বুথ ছেড়ে কেউ চলে যাবেন না। তিনি ওই সভা থেকে জুন মালিয়া কে জোড়া ফুলে চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়ী করার আহবান জানান। তিনি ওই সভা থেকে বিজেপির পাশাপাশি সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম ও কংগ্রেস এবং আই এস এফ কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনা সত্ত্বেও বাংলার উন্নয়নে কোন ত্রুটি রাখা হয়নি ।বাংলার মা বোনেরা সুখে ও শান্তিতে থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায়ও উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছে। ১০০ দিন প্রকল্পে বাংলা সারা ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম হয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার এই বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনা করে চলেছে।
তিনি আরো বলেন যে বিজেপি কে বাংলা থেকে হটানোর জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দলীয় প্রার্থীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করার জন্য তিনি এ আহ্বান জানান। মেদিনীপুর এর সমাবেশে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।মেদিনীপুর এর সভায় মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী জুন মালিয়া,তৃনমূলের নেতা সুজয় হাজরা,গোপাল সাহা,নেপাল সিংহ, প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী নির্মাল্য চক্রবর্তী,বিশ্বনাথ পাণ্ডব, মহিলানেত্রী মৌ রায়, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মুকুল সামন্ত সহ আরো অনেকে।

Post a Comment