চিরঞ্জিত কি ফের বারাসতে ঘাসগুলের ছড়াছড়ি ঘটাবে পারবে?
দি নিউজ লায়নঃ গত দুবার জিতেছেন, এবার জিতে হ্যাটট্রিক করবেন বলে ১০০ শতাংশ আশাবাদী। ফের একবার বারাসত কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হওয়ার পর দাবি বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর।এবারে বারাসতের মাটিতে চিরঞ্জিত টিকিট নাও পেতে পারেন বলে একটা গুঞ্জন বেশ কিছুদিন থেকেই চড়ছিলো। সেক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতার নাম ভাসছিলো টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে। যার ফলে একটা সময় চিরঞ্জত বলেছিলেন, আমি রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব নই। দরকার হলে আমাকে ছেড়ে দিন।
কিন্ত শেষ পর্যন্ত চিরঞ্জিতের উপরেই ভরসা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। ফলে ফের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি কতোটা হতে হবে চিরঞ্জিতকে? যদিও চিরঞ্জিত মনে করছেন এবারের চ্যালেঞ্জ গত দুইবারের থেকে অনেকটাই সহজ তাঁর কাছে। কারন, তিনি এই বারাসত কেন্দ্রে গত দুইবার ধরে বিধায়ক হয়ে রয়েছেন। ফলে বারাসতবাসীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের মেলবন্ধন তৈরি হয়ে গিয়েছে তাঁর।
সুপারস্টারের তকমা ঝেড়ে তিনি এই কেন্দ্রে মানুষের কাছের মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছেন বলেই মনে করেন। বারাসতবাসীর মধ্যে সেই অর্থে চিরঞ্জিতকে নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভও তেমন একটা নেই। রাজনৈতিক সেলফি দর্শনের প্রতিযোগীতায় তিনি সেভাবে না থাকলেও বারাসতবাসীর উন্নয়নে তিনি তার কর্তব্য পুরোমাত্রায় করেছেন বলেই মনে করেন এলাকার বাসিন্দারা। বারাসতের অধিকাংশ মানুষের কাছেই আজ চিরঞ্জিতের মোবাইল নম্বর নখ দর্পণে। সময়ে অসময়ে প্রতটি কলের প্রত্যুত্তরে শোনা যায় তাঁর গলা। আর এখানেই সন্তুষ্টি ঝরে পড়েছে বারাসতবাসীর মধ্যে।
ফলে বারাসতের মাটিতে নিজের লড়াইকে অন্যান্যবারের থেকে এবারে অনেক সহজ বলেই মনে করছেন চিরঞ্জিত। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জেলা সদর এই বারাসত। স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্রের প্রতি রয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির তীঘ্ন দৃষ্টি। একটা সময়ে বামেদের অন্যতম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের মূল ঘাঁটি ছিলো এই বারাসত। কিন্ত গত ১০ বছরে সেই বাম ঘাটিকে তছনছ করে দিয়ে এই কেন্দ্রে ঘাসফুলের জয়জয়াকার ঘটিয়েছেন চিরঞ্জিত। তবে এবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিছুটা হলেও ভিন্ন।
শনিবার তৃণমূল প্রশাসিত বারাসত পৌরসভায় সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। যদিও তাঁর সাংবাদিক বৈঠকের সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অনেকেই। অনুপস্থিত ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কো অর্ডিনেটর নারায়ণ গোস্বামী, পৌরসভার মুখ্য প্রশাসক সুনীল মুখোপাধ্যায়। তবে চিরঞ্জিতের কথায়, তিনি দলের সবাইকে পাশে চান। যাঁরা বারাসত টিকিটের দাবিদার ছিলেন অথচ মনোনীত হননি, তাঁদেরও পাশে চান।

Post a Comment