মন্ত্রীর নির্দেশের পর সাফাই কর্মীদের বনধে বেসামাল শহরের স্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হলো শিলিগুড়ি পুরোনিগম
দি নিউজ লায়নঃ মন্ত্রীর নির্দেশের পর সাফাই কর্মীদের বনধে বেসামাল শহরের স্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হলো শিলিগুড়ি পুরোনিগম। কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি পুর চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য্যকে হুমকির চিঠি সাফাইকর্মীদের। শহরের জরুরি পরিষেবাকে স্তব্ধ করে সাফাই কর্মীদের মদত দেওয়ায় রয়েছে বিজেপির হাত-স্পষ্ট ইঙ্গিত পুরপ্রশাসক অশোক ও মন্ত্রী গৌতম দেবের।
বুধবার থেকে টানা তিনদিন বনধের নামে শিলিগুড়ির শহরে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিক্ষোভ কারী সাফাই কর্মীরা। বেতন বৃদ্ধির দাবি সহ স্থায়িকরন,স্বাস্থ্য-জীবন বীমা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ আন্দোলনের নামে যত্রতত্র ভ্যাট উলটে ফেলে দিয়ে, রাজপথে আবর্জনা ফেলা এমনকি পুরনিগমের সাফাইয়ে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় গাড়িকেও কাজে বাঁধা দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়, কর্মীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে শুক্রবার অভিযোগ তোলেন পুর প্রশাসক অশোক ভট্টাচায্য।
অশোক বাবু জানান বনধ তুলে নেওয়া আবেদন জানিয়ে শুক্রবার সকালে বিক্ষোভকারীদের চিঠি পাঠানো হয়। তার প্রত্যুত্তরে হুমকির চিঠি এসে পৌছায় পুর চেয়ারম্যানের কাছে- যাতে বিক্ষোভকারিদের তরফে কিরণ রাউত জানিয়েছেন তাদের দাবি মানা না হলে বনধ চলবে শহরে আরও ভয়ঙ্কর পর্যায়ের স্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে তিনদিন ধরে শহরে আবর্জনার নিষ্কাশনের কাজ সম্পূর্ণ রূপে বিক্ষোভকারীরা স্তব্ধ করে দেওয়ায় ময়লার স্বর্গরাজ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে নাগরিকদের।
বেশকয়েকটি ওয়ার্ডে কোর্ডিনেটররা নিজেরা ঝাড়ু হাতে সাফাইয়ে নামেন। শহরের বেসামাল পরিস্তির মুখে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মন্ত্রী গৌতম দেব। তবে রেজিস্ট্রেশনহীন উত্তরবঙ্গ সাফাই কর্মচারী সমিতির সদস্যরা সেই বৈঠকে না গিয়ে পাল্টা পুরনগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে শিলিগুড়ির পুরনিগমের স্থিতি জানিয়ে চিঠি পাঠান।
বৈঠকে সহকারি জেলাশাসক, মহকুমা শাসক প্রিয়দর্শিনী এস, পুর কমিশিনার ও পুর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য মুকুল সেনগুপ্ত ও পুরনিগমের ভেতরে থাকা তিনটি শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ, আইএনটিইউসি ও আইএনটিটিইউসির নেতৃত্বদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। সাফাই কর্মীদের তরফে কিরণ রাউত জানান বাকি সিপিএম কংগ্রেস ও তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে একই টেবিলে বৈঠকে যাবেন না তারা। বৈঠকের পর মন্ত্রী জানান বিক্ষোভকারী সংগঠনকে ডাকা হয়েছিল আলোচনার জন্য। কিন্তু তারা বৈঠকেই না এসে ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন এভাবে ঔদ্ধত্য দেখাবেন না। বিক্ষোভকারীদের কাছে আবেদন বনধ তুলে নিন।আমরা সাফাইকর্মীদের বিরুদ্ধে নই, দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে। মন্ত্রীর নির্দেশ এই বেসামাল পরিস্থিতিতে সত্ত্বর পুরনিগমের সাফাইয়ের কাজে নিযুক্ত স্থায়ী কর্মীদের শহরে আবর্জনা নিষ্কাশনের কাজে নামতে হবে। দরকারে পুরনিগমকে পুলিশ প্রশাসনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে রবিবার খোদ ঝাড়ু হাতে নিকাশি নালা সাফাইয়ের কাজে নামবেন তিনি।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের নৈরাজ্যে মদত যোগাচ্ছে যে বিজেপি সেদিকে নাম না করে ইঙ্গিত ছুড়ে মন্ত্রী বলেন কেউ কেউ ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। এরপরই শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র অশোক ভট্টাচায্য বলেন পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে স্থায়ী কর্মীদের শনিবার থেকে কাজে নামতে হবে অন্যথা বেতন কাঁটার পাশাপাশি সার্ভিস বুকে তার দাগ পড়বে।
যারা গাড়ি ভাঙচুর ও আইনবিরোধী কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই পুরো বিষয়টিতে অশোক বাবুও মন্ত্রীর বিজেপি যোগের ইঙ্গিতকে আরও জোড়ালো করে বলেন বহিরাগত শক্তি এদের মদত দিচ্ছে। তারা বিক্ষোভকারীদের বলছে অমুক সরকার এলে তোমাদের স্থায়ী করা হবে এধরনের উস্কানি দিয়ে আইন বিরোধী বিক্ষোভে একজুট করছে তারা।

Post a Comment