খড়গপুর আইআইটি র গেটে বিক্ষোভ ডিএসওর , তাল কাটল ৬৬ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের
দি নউজ লায়নঃ মঙ্গলবার আইআইটি খড়্গপুরের ৬৬ তম সমাবর্তন চলাকালীন বিক্ষোভ দেখানো হল বাম-কংগ্রেস ও ডি.এস.ও ‘র পক্ষ থেকে। বিশ্ববন্দিত চিকিৎসক ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের নামাঙ্কিত বি.সি.রায় ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ এর নাম বদলে আইআইটি’র নবনির্মিত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এর নাম ' শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মেডিক্যাল সায়েন্স এন্ড রিসার্চ ' করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ দেখানো হয়। যদিও, আগাম বিক্ষোভের আঁচ পেয়েই সমাবর্তন সূচি থেকে এই হাসপাতাল উদ্বোধনের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই বিতর্কিত বিষয়টি থেকে আপাতত সরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। তাই, মঙ্গলবার বিক্ষোভের পর, সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মেডিক্যাল সায়েন্স এন্ড রিসার্চ নামাঙ্কিত প্রস্তর ফলক। প্রসঙ্গত, ইউপিএ আমলে প্রস্তাবিত খড়্গপুর আইআইটি’র বিখ্যাত এই হাসপাতালের নাম দেওয়া হয়েছিল, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ। কিন্তু, বর্তমানে আইআইটি কর্তৃপক্ষ তা বদল করে, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামে ' শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মেডিক্যাল সায়েন্স এন্ড রিসার্চ ' নামকরণে সায় দিয়েছিল। এ নিয়েই বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছিল তীব্র বিতর্ক ।
বিক্ষোভের জেরে অবশেষে কিছুটা হলেও পিছু হটল আইআইটি কর্তৃপক্ষ।
প্রযুক্তিবিদ্যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পীঠস্থান আইআইটি খড়্গপুর।খড়গপুর আইআইটি র ৬৬ তম সমাবর্তন উপলক্ষে ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, আইআইটি খড়্গপুরের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, ডিরেক্টর ভি.কে. তেওয়ারি প্রমুখ।
করোনা পরিস্থিতির কারণে, এই বছরের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পদক প্রাপক ৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী সশরীরে অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ভার্চুয়ালি বা অনলাইন মাধ্যমেই উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও, প্রায় ২৮০০ ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ৯ জনকে স্বর্ণপদক এবং ৬৬ জনের হাতে রৌপ্যপদক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাম্মানিক ডি.এস.সি ডিগ্রি ও বিশেষ প্রাক্তনী সম্মান প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্র-ছাত্রী তথা গবেষক-গবেষিকাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্র-ছাত্রী , গবেষকদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী খড়্গপুর আইআইটি র পড়ুয়াদের সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ঘটনাকে ১৩০ কোটি দেশবাসীর আকাঙ্খার প্রতীক হিসেবে মন্তব্য করেছন। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, আইআইটি খড়্গপুর যে স্থানে গড়ে উঠেছে, তা স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান অতীতের সঙ্গে জড়িত। আইআইটি’র গবেষকদের দিকে শুধু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা তাঁদের বাবা-মা নয়, ১৩০ কোটি ভারতবাসী তাকিয়ে আছেন। আত্মনির্ভর ভারত তাঁরাই গঠন করতে পারেন। ভারত এখন সোলার বিদ্যুত তৈরিতে প্রথম সারিতে। কিভাবে একে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি তৈরি করা যায়, তাও আবিষ্কার করতে হবে আইআইটি’র গবেষকদের।
তিনি বলেন , ' আমি আশা করছি, আইআইটি’র গবেষকরাই পেট্রোল-ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দূষণমুক্ত জ্বালানি আবিষ্কার করবেন ' ।
অপরদিকে, আইআইটি খড়্গপুরের পড়ুয়াদের প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঋগ্বেদ চর্চারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

Post a Comment