শাহের সভায় অপমানিত হয়েই মুখ খুললেন বিশ্বজিত দাস, চড়ছে তৃণমূলে ফেরার জল্পনা - The News Lion

শাহের সভায় অপমানিত হয়েই মুখ খুললেন বিশ্বজিত দাস, চড়ছে তৃণমূলে ফেরার জল্পনা

 


দি নিউজ লায়নঃ      গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে আসার জল্পনা চড়ছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগা উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিত দাসকে ঘিরে। এরাগে তিনি তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্ত এবারে বিজেপির বিরুদ্ধে তার গলাতে চড়ছে সুর।  বনগা উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা বিশ্বজিত দাস এবারে সরাসরি  বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। ঠাকুরনগরে অমিত শাহের জনসভার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তিনি।  নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে তিনি  ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সুরে সুর মিলিয়ে  প্রশ্ন তুললেন যে মতুয়ারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যাদের মধ্যে থেকে বিধায়ক সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নতুন করে কিভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া যায়!


 তারা তো ইতিমধ্যেই নাগরিক। তাদের সকলের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড রয়েছে।  বিশ্বজিত  বলেন, 'অমিত শাহের জনসভায় উপলক্ষে গিয়েছিলাম সেখানে মতুয়ারা অনেক প্রশ্ন করেছেন তাদের প্রশ্নের কোন সদুত্তর  দিতে পারিনি। তিনি বলেন, করোনা ভ্যাকসিনের কাজ শেষ হয়ে প্রায় পাঁচ বছর লাগবে। তাহলে মতুয়ারা নাগরিকত্ব কি ততোদিন পরে পাবেন? উত্তর দেবেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি সাফ জানান,  মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।' এরপরই নাম না করে শান্তনু ঠাকুর এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, 'বনগাঁর সংসদ দলকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মানছেন না। অথচ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দল তো সবাইকে নিয়ে।'


 বিজেপি সূত্রে খবর শান্তনু ঠাকুর এর সঙ্গে বিশ্বজিতের সম্পর্ক বরাবরই আদায়-কাঁচকলায় সম্প্রতি তা আরো তিক্ততায় পৌঁছয়। এমনকি বৃহস্পতিবার অমিত শাহের জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বনগাঁ উত্তরের বিধায়ককে। এমনকি সভাস্থলে গেলে তাকে নাম না থাকায় প্রথমে ঢুকতে দেননি নিরাপত্তারক্ষীরা।  পরবর্তীকালে বিষয়টি কোনমতে সামাল দেওয়া গেলেও গোটা ঘটনায় চরম অপমানিত হয়েছেন বিশ্বজিত দাস। জানা যায়, কয়েকদিন আগেই বিশ্বজিত দাস রাজ্য বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে  বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। যার জেরে এবারে অমিত শাহের কোপের মুখে পড়েন তিনি। ঠকুরনগরে শুভেন্দু অধিকারীর অনুরোধেই তাঁকে সভাস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয় বলে সুত্রের খবর।


 প্রথমে অমিত শাহের সভায় ঢুকতে না পেরে প্রায় আধঘন্টা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তবে মমতার পা ছুয়ে প্রনামের বিষয়টিকে বিশ্বজিত দাস ও সুনিল সিং স্রেফ সৌজন্য বলে দাবি করলেও তাদের উত্তর সন্তোষজনক বলে মনে হয়নি বিজেপি নেতৃত্বের কাছে। এরপর মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে কথা বলেন বিশ্বজিত। কিন্ত তাতেও যে অমিত শাহ সন্তুষ্ট হননি তা ঠাকুরনগরের সভাতে বিশ্বজিতকে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্পষ্ট। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, তারা দলের অনুমতি নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছিলেন। 


তবে এতোকিছুর পরেও অমিত শাহের সভায় ঢুকতে বাধা পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ বিশ্বজিত দাস। যার জেরেই এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তিনি। ঘুরিয়ে আক্রমণ করলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। এমনকি যে নাগরিকত্ব ইস্যুকে সামনে রেখে বিধানসভা ভোটে নিজেদের ঝুলিতে পুরতে চাইছে বিজেপি তাকেই কার্যত চ্যালেঞ্জ করলেন বিশ্বজিত। ফলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা, এবার বিশ্বজিতকে নিয়ে প্রবল চাপানউতোরের মুখে গেরুয়া শিবির। যেখানে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিত দাসের ফের দল বদলের জল্পনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.