জোর করে বর্গীরা এসে সব শস্য তুলে নিয়ে যাবে। চাষিরা চোখের জল ফেলবে, মমতা
দি নিউজ লায়নঃ 'যতদিন বাচবো রয়েল বেঙ্গল টাইগার হয়ে বাঁচবো' , মুর্শিদাবাদে বিজেপি ও কংগ্রেস-সিপিএমের জোটকে হুঙ্কার মমতার। জনসভা থেকে চাঁচাছোলা ভাষায় দলত্যাগী তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান কারী 'মীরজাফরদের' তুলোধোনা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ সম্প্রতি তৃণমূল থেকে কিছু দুষ্ট গরু, বিজেপিতে চলে গিয়েছে। কী করবে? অনেক দুর্নীতি করেছে। এখন ভাবছে, যদি গরু চুরিতে ধরা পড়ে যাই। যদি দুর্নীতি ধরা পড়ে যাই। ওগুলো সব কালো কাদা"। একের পর এক চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কখনো নিশানা করেন বিজেপি নেতৃত্ব কে তো কখনো কংগ্রেস ও সিপিএম কে। বিজেপির উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভাজপা কোনমতেই সাধারণ মানুষের পার্টি নয়। বড়লোকদের পার্টি, জোতদারদের পার্টি, জমিদারদের পার্টি। গুজরাত বাংলা শাসন করবে না। বাংলাই বাংলা শাসন করবে। তৃণমূলই বাংলা শাসন করবে। দিল্লির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। তৃণমূল থেমে থাকবে না"।
পরক্ষনেই আগামী দিনে বিজেপিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাড়িয়ে রাখা সম্ভাব্য অন্যান্য তৃণমূল নেতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আদতে যারা দলে থেকে গোপনে দুর্নীতি করেছিল, তাঁরা চলে গিয়েছে। রাজনীতি করে তিন ধরনের লোক। লোভী, ভোগী আর ত্যাগী। আমি লোভী নই, ভোগী নই। মনে রাখবেন, মাথার উপরে আমি আছি। আজ পর্যন্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি, যা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। সব পরিবার কিছু না কিছু পায়।বিজেপির দেশ চালানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন," বিজেপি সব সময় কর্পোরেট সংস্থা থেকে শুরু করে বড়লোক মানুষদের স্বার্থ রক্ষা করে এসেছে। আগামী দিনেও তাই করবে। তারা অতীতে নোটবন্দি করল, তার পর কোভিডে করল ঘরবন্দি। এখন অন্যান্যদের দল বন্দী করতে চাইছে।
তাই বিজেপি দাঙ্গাবাজদের পার্টি। গুজরাত বাংলা শাসন করবে না। বাংলাই বাংলা শাসন করবে। তৃণমূলই বাংলা শাসন করবে। দিল্লির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। বাংলাকে কিছু দেয় না। আমপানে কিছু দেয়নি। কোভিডে এত মানুষ মারা গেল, তাঁদের আমরা সাহায্য করলাম। কিন্তু কেন্দ্র একটাও টাকা দিল না"। কৃষক আন্দোলন নিয়ে চলতে থাকা দেশ জোড়া পরিস্থিতিতে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন," সারা দেশে কৃষকরা আন্দোলন করছেন। হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান, পঞ্জাবের কৃষকরা আন্দোলন করেননি। আমাদের এখানে আড়াই কোটি টন ধান উৎপাদন হয়। অন্ধ্রপ্রদেশে ১১১ লক্ষ টন, ১ লক্ষ ৫০ টন পঞ্জাবে ধান কেনে কেন্দ্রীয় সরকার। আর বাংলায় কত কেনে জানেন? ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু আমরা চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনি। কোভিডের জন্য কিছু সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচি আবার শুরু হবে"।
এরই মাঝে এনআরসি, এন পি আর ইস্যুতে সরব হতে দেখা যায় দেখা যায় তৃণমূল নেত্রী কে। তিনি বলেন,"আমি যত দিন বাঁচব, মাথা নত করব না। যত দিন বাঁচব, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হয়ে বাঁচব। আমি বলেছিলাম, সিএএ, এনপিআর করতে দেব না। আমি করতে দিইনি। তার জন্য শুধু আমার পিছনে লাগছে।প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত দাঁড়িয়ে বলে দিচ্ছেন, সরকারি কর্মীরা মাইনে পাচ্ছেন না। একটা কোনও সরকারি কর্মী দেখান, যিনি মাইনে পাননি বা পাচ্ছেন না"।পরিশেষে মুর্শিদাবাদের ২২ টি বিধানসভা আসন বিজেপি সিপিএম কংগ্রেস জোট এর হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক আবেদন রাখেন জনসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের কাছে।মমতা বলেন," কংগ্রেস, সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় না। লড়াই করবে একমাত্র তৃণমূল।আগামী দিনে বাংলায় তৃণমূলের সরকার গড়তে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের সব আসন কিন্তু আমরা চাই।
আপনারা কেউ অন্য কোনও উস্কানিতে পা দেবেন না। বিজেপি আবার একটা সাম্প্রদায়িক দলকে টাকা দিয়ে নিয়ে এসেছে। ওদের ফাঁদে পা দেবেন না।ভয় পাবেন না। বিজেপি অনেক ভয় দেখাবে। আমি ভয় পাই? আমার সারা শরীরে মারের চিহ্ন। মার খেতে খেতে এই জায়গায় এসেছি। আমি বন্দুকের সঙ্গেও লড়াই করতে পারি, গুন্ডাদের সঙ্গেও লড়াই করতে পারি। আমাকে ভয় দেখালে, আমি চমকাই না। আমাকে চমকালে মানুষ তাঁদের ধমকাই"।তৃণমূলনেত্রী এদিন তার বক্তৃতার পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত দলীয় বিধায়ক ও জেলা নেতাদের উৎসাহিত করতে তার ভোকাল টনিক এ বলেন,"মুর্শিদাবাদে আমার প্রথম বিধায়ক হন সুব্রত সাহা। এর পর ধীরে ধীরে বাম, কংগ্রেস থেকে আমাদের দলে এসেছেন। মনে রাখবেন, আগামী দিনে আপনাদের ভোটেই সরকার গঠন হবে"।

Post a Comment