পুরুলিয়ায় দুয়ারসিনি প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্রে খুলল
দি নিউজ লায়নঃ পুরুলিয়ার অন্যতম প্রকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র দুয়ারসিনি প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্রের দরজা খুলল। বুকিং শুরু হল দুয়ারসিনি প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্রের। কয়েকদিন আগে প্রকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান মুখ্য বনপাল (সাধারন) রবিকান্ত সিনহা। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যবনপাল( দক্ষিন-পশ্চিম চক্র) সৌরভ চৌধুরি, পুরুলিয়া বন বিভাগের ডিএফও রামপ্রসাদ বদানা, উত্তর বিভাগের ডিএফও অমৃতা দত্ত, কংসাবতী দক্ষিন বন বিভাগের অর্নব সেনগুপ্ত।
এই জেলার নিজস্ব টুরিজ্যম সার্কিট রয়েছে। এই জেলায় টুরিজ্যম সার্কিট তিন ভাবে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে পুরুলিয়ার দক্ষিন অংশ অন্য দুটি সার্কিটের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে। দুয়ারসিনি সেই অভাব পুরন করবে বলে জানিয়েছে বনদফতর।
এই প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি কটেজ ও দুটি ডরমেটরি। কয়েক দিনের মধ্যে এই ভ্রমন কেন্দ্রে বুকিং করতে পারবেন পর্যটকরা। শুরু হয়ে গিয়েছে এই প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্র পর্যটন বিভাগ থেকেও বুকিং।
বন দফতর সুত্রে জানাগিয়েছে, বান্দোয়ান থেকে প্রায় ১৬ কিমি দুরে এই প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্র। ওই কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ কিমি দুরে ঝাড়খন্ডের পূর্ব সিংভুম জেলার গালুডি,ঘাটশিলা। ফলে এই দুয়ারসিনি প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্র গড়ে ওঠায় বাংলা ঝাড়খন্ডের একটি টুরিজম সার্কিট হয়ে গেল। একেবারে জঙ্গলে ঢাকা এই প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্র বান্দোয়ান ২ নং বনাঞ্চলের কুচিয়া বিটের আওতায়। এই কেন্দ্র বনদফতরের আওতায় থাকা ওই নিগম বা এজেন্সির সঙ্গে আসনপানী যৌথ বনপরিচালন কমিটি পরিচালনা করবে। প্রতিটি কটেজের ভাড়া প্রতিদিনআড়াই হাজার টাকা।
চারটে ডরমেটরি মিলিয়ে খরচ পড়বে ১২০০ টাকা। বন উন্নয়ন নিগমের অধিনে সমগ্র রাজ্য জুড়ে একাধিক প্রকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্র রয়েছে। তার আওতাতেই এই দুয়ারসিনি ছিল। কিন্তু মাওবাদী কার্যকলাপের সময়ে ঝাড়খন্ড সীমানা লাগোয়া বান্দোয়ানের এই অঞ্চলে পর্যটন ব্যাবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিল। ফলে এই প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্রটিও কোন ব্যাবহার না হওয়ায় হানা বাড়ির রুপ পেয়েছিল। সেই কেন্দ্র টিকে বনদফতর পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের অর্থে নতুন ভাবে তৈরি করে পর্যটকদের জন্য খুলে দিলো। এই প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্র বা দুয়ারসিনি পর্যটন ক্ষেত্রকে ঘিরে যে সকল সাইট সিয়িং রয়েছে সে গুলিকে বনদফতর নতুন ভাবে তুলে ধরবে। তাই পর্যটকদের সুবিধায় গাইডও নিয়োগ করবে বনদফতর।
বাম আমলে বনদপ্তরের তৎকালীন রাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাসী বালা সহিস ২০০১ সালে ফেব্রুয়ারীতে এই প্রকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। তারপর থেকেই রাজ্য পর্যটন মানচিত্রে ঢূকে যায় এই দুয়ারসিনি। বছর পাঁচেক মোটামুটি ভালিচলছিল এখানকার পর্যটন। কিন্তু সেই সময় এই জঙ্গল মহলে মাথা চাড়া দেওয়া মাওবাদীরা ২০০৬ সালে এই কেন্দ্রের পাশেই দুয়ারসিনি হাটতলার কাছে পঞ্চায়েত সমিতির নির্মিত অতিথি আবাস ল্যান্ডমাইন্ড দিয়ে উড়িয়ে দেয় বনপাটিরা।ওই দিন রাতেই কটেজের দ্বায়িতে থাকা কর্মীদেরকেও হুমকি দিয়ে যায় তারা।তার পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় প্রকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্রের দরজা।
ফলে মুখ ফিরিয়ে নেন পর্যটকরা। তবে রাজ্য পালাবদলের পরে আবার পর্যটকদের ঢল নামে এই বনাঞ্চলে।দুয়ারসিনি প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্রকে সাজানোর উদ্যোগ নেয় রাজ্য প্রশাসন।২০১৬ সালের শেষের দিকে কাজ শুরু হয়। এক বছরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বেশ কিছু কাজ বাকি থাকায় চালু করা যাচ্ছিল না। লকডাউনের আগে অর্থ বরাদ্ধ করে নব রুপে সাজানো হয় দুয়ারসিনি প্রকৃতি ভ্রমন কেন্দ্রের। তার পরেই চালুর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Post a Comment