স্ত্রীকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হল স্বামীর - The News Lion

স্ত্রীকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হল স্বামীর

 


দি নিউজ লায়নঃ     প্রায় ১১ বছর আগের ঘটনা। জানা যায়, পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী সোমা নস্কর সিংকে খুন করেছিলেন স্বামী রাজেশ সিং। সেই খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হল স্বামী রাজেশের।  শনিবার হাওড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক শর্বাণী মল্লিক চট্টোপাধ্যায় দোষী রাজেশ সিংয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২২মে বালির বাসিন্দা সোমার সঙ্গে বিবাহ হয় দূর্গাপুরের বাসিন্দা রাজেশ সিংয়ের। তিনি কেবল এর ব্যবসা করতেন। 


কিন্তু হঠাৎই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিয়ের কয়েক বছর পরেই রাজেশ তাঁর স্ত্রী এবং শিশুকন্যাকে নিয়ে চলে আসেন বালির বসুকাটি জামতলার রামচন্দ্রপুরে। সেখানেই একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন তারা। অভিযোগ, রাজেশ মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে তার স্ত্রীকে মারধর করতেন এবং ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করতেন। ২০১০ এর ১২ মার্চ সোমার মা প্রতিমা নস্কর মেয়েদের  বাড়িওয়ালার কাছ থেকে জানতে পারেন বাড়ি থেকে মেয়ে সহ রাজেশ ও তাদের একমাত্র মেয়ে নিখোঁজ। তাদের ভাড়া নেওয়া ঘরটিও বন্ধ। ওই বছর ১৮মে বাড়ির মালিক রাজেশের ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ পান। এই অবস্থায় তিনিই পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাদের ঘরের ভেতর থেকে চার ফুট বাই আড়াই ফুট একটি বড় ট্রাঙ্ক এর ভেতর থেকে উদ্ধার হয় সোমার পচাগলা মৃতদেহ। দেহটিকে ওই ট্রাঙ্কে রেখে সেখানে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে তোষক দিয়ে ঢাকা ছিল।


 দেহটা এতটাই পচন ধরেছিল যে ময়নাতদন্তে  মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি তবে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। এই ঘটনার পর মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বালি থানার পুলিশ। কিন্তু মূল অভিযুক্ত সোমার  স্বামী রাজেশ ও তাদের একমাত্র মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।  দু'বছর পর গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে গ্রেপ্তার হয় রাজেশ। শুক্রবার রাজেশকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।  শনিবার তার শাস্তি ঘোষণা করেন বিচারক। ধৃত রাজেশের বিরুদ্ধে  ৪৯৮এ, ৩০২  এবং ২০১ ধারায় শাস্তি ঘোষণা করা হয়। এই মামলার সরকারি আইনজীবী ছিলেন সৌমেন সেন। তিনি জানান, সাজাপ্রাপ্ত রাজেশ সুপরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে স্ত্রীকে হত্যা করেছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.