বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চই থেকেই চলবে চিলাহাটি হয়ে এনজেপি-ঢাকা যাত্রীবাহী ট্রেন
দি নিউজ লায়ন ; উত্তরের সঙ্গে এবারে সরাসরি জুড়তে চলেছে ওপার বাংলা। উত্তরবঙ্গের এনজেপি থেকে সীমান্ত শহর হলদিবাড়ি হয়ে যাত্রী নিয়ে ১০কামরার ট্রেন ছুটবে বাংলাদেশের ঢাকায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ ২৬শে মার্চ উপলক্ষে সেদিনই শুভ সূচনা হবে চিলাহাটি হয়ে এনজেপি-ঢাকা যাত্রীবাহী ট্রেনের। ভ্যারচুয়াল মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী এর শুভ সূচনা করবেন বলেই এখন পর্যন্ত স্থির রয়েছে। বাংলাদেশ রেলের আধিকারিক তথা ডিআরএম শহিদুল ইসলাম সহ অধিকর্তাদের দলের সঙ্গে উত্তরপূর্ব রেলের কার্টিহার ডিভিশনের ডিআরএম রবীন্দ্র কুমার ভার্মা ও ডিআরএম এসডিএএইচ শৈলেন্দ্র পি সিং বিগত সপ্তাহেইহলদিবাড়ি চিলাহাটি নয়া রেল-ট্যাক রুট চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ করে দুই দেশের উচ্চ পদস্থ অধিকর্তাকে মার্চ মাস থেকেই যাত্রীবাহী ১০কামরার ট্রেন চলাচলের সবুজ সংকেত দেন।
নড়বড়ে অসম্পূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর ভর করে যাত্রী বাহি ট্রেন চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কতটা যথাযোগ্য হবে সে সমস্ত জল্পনার জট কাটিয়ে বুধবার এনজেপি রেলের ইলেকট্রিফিকশন দপ্তরে উত্তরপূর্ব রেলের কার্টিহার ডিআরএম রবীন্দ্র ভার্মা সংবাদমাধ্যমকে জানান ২৬শে মার্চ থেকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার এনজেপি থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে বাংলাদেশের ঢাকা পর্যন্ত। এনজেপি থেকে লোকো ডিজেল চালিত লোকমোটিভ ইঞ্জিন নিয়ে ঢাকায় পৌঁছতে যাত্রীবাহী ট্রেনের সময় লাগবে ৯ঘন্টা। এরমধ্যে ঢাকা থেকে চিলাহাটি সীমান্ত হয়ে হলদিবাড়িতে অর্থাৎ ভারতের মাটিতে পৌঁছতে সময় নেবে আট ঘন্টা, সেখান থেকে এনজেপি এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লাগবে। ভারত ও বাংলাদেশের রেল আধিকারিকদের বক্তব্য মূলত ভারত ও বাংলা দুই দেশের মধ্যে পর্যটনের প্রসারকে নজরে রেখেই মূলত এই রেল যোগাযোগের সিদ্ধান্ত। যাতে বাড়তি অক্সিজেন যোগাচ্ছে হিল কুইন দার্জিলিং।
যদিও ট্রেনের নামকরণ এখনও হয়নি। নয়ঘন্টা সময়ে সোমবার এনজেপি স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়া হবে এবং মঙ্গলবার রাত ৯টায় তা পৌঁছবে ঢাকায়। আবার বৃহস্পতিবারও একই সময়ে এনজেপি থেকে ট্রেনটি ছেড়ে শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছে তা ফের এনজেপির উদ্দেশ্যে রওয়না দেবে। মাঝে কোনো স্টেশনে স্টপেজ থাকছে না। এদিকে দুটি এসি চেয়ারকার,৬টি স্লিপার কোচ ও ২টি পাওয়ার কার সমেত মোট ১০টি কোচ থাকলেও কোনো প্যান্টি কার থাকছে না বলে জানান ভারতীয় উত্তর পূর্ব রেলের আধিকারিকেরা। পাশাপাশি ভারতীয় রেকের ওপর নির্ভর করেই চলবে ভারত বাংলাদেশ ট্রেনটি। বাংলাদেশ রেল আধিকারিকরা জানান তাদের কাছে এই মুহূর্তে রেকের স্বল্পতা রয়েছে।তারা কোনো রেক দিতে পারবে না।
রেকের ব্যাবস্থা করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ রেল। অন্যদিকে দুই দেশের পর্যটনের প্রসারকে লক্ষ্য করে মূলত পর্যটকদের টার্গেট করে রেল যোগাযোগ চালু করতে চললেও ট্রেনে প্যাট্রি কোচ না থাকায় খাবারের কোনো সুনিশ্চিত ব্যবস্তা থাকছে না। সেক্ষেত্রে পর্যটকদের হালকা স্ন্যাক্স মিললেও খাবারের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।যাতে রেলের এই নড়বড়ে কাঠামোয় তড়িঘড়ি আন্তর্জাতিক ট্রেন চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিমত উঠে আসছে। এবং বাংলাদেশে পরবর্তীতে নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যোগাযোগ বিস্তারকে লক্ষ্য করেই এই দুই দেশের মাঝে তৃতীয় বন্ধুত্বপূর্ন রেল যোগাযোগ শুরু হতে চলেছে।

Post a Comment