ভিন রাজ্য আসামে গোপন আস্তানা, আসামে আত্মীয়ের বাড়িতে আতিথেয়তায় থেকেই একাধিকবার পুলিশের চোখকে চকমা তৃনমূল থেকে বহিস্কৃত নেতা ফারার প্রসেনজিৎ রায়ের
দি নিউজ লায়নঃ ভিন রাজ্য আসামে গোপন আস্তানা। আসামে আত্মীয়ের বাড়িতে আতিথেয়তায় থেকেই একাধিকবার পুলিশের চোখকে চকমা তৃনমূল থেকে বহিস্কৃত নেতা ফারার প্রসেনজিৎ রায়ের। কখনও মামবাড়ী কখনও বন্ধুর বাড়িই পুলিশের হাতে থেকে গা ঢাকা দেওয়ার ডেরা হয়েছিল শিলিগুড়ি স্থল বন্দরে ভাংচুর ও হামলার মূল অভিযুক্ত প্রসেনজিৎয়ের। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অভিযানে নেমে চারজনের বিশেষ দল সোমবার আস্তানা বদল করার মুহূর্তেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। ১৮দিনের মাথায় ভিন রাজ্য আসাম থেকে গ্রেপ্তার।প্রসঙ্গত ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরকালে শেষে শিলিগুড়ি স্থলবন্দরে আইসিডি শিল্পতালুকে হামলা চালায় সেসময়ের শ্রমিক নেতা প্রসেনজিৎয়ের নেতৃত্বে তার দলবল।
ঘটনার পর তৎক্ষণাৎ মুখ্যমন্ত্রী অভিযুক্তদের সত্ত্বর গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন প্রশাসনিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের। একদিনের মধ্যে ঘটনায় জড়িত ১৩জনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। তৃনমূল থেকে বহিষ্কৃত করা হয় তাকে। তবে মূল অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ পুলিশের হাতে থেকে বাচঁতে তখন শিলিগুড়ি থেকে মালবাজার ডুয়ার্স হয়ে ভিন রাজ্য আসামে মরিয়া ছুটে লাগিয়ে চলছে। তাকে ধরতে আসামে যোগসূত্র ধরে এগোয় পুলিশও। তবে ফোন বন্ধ। ভিন্ন নাম্বার থেকে পরিবারের সদস্যদের খবরা খবর করলেও সেই একাধিক নাম্বারেও টাওয়ার লোকেশন বদল হতে থাকে। যাতে ভিন রাজ্যে অভিযান শক্ত হয়ে ওঠে তদন্তকারি দলের কাছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে সে সময় ফারার অভিযুক্ত আসামের অরুণাচলপ্রদেশের সীমান্তে মামবাড়ী সঁপেখাতি কখন বন্ধুর বাড়ি বোরহাট আবার ঘনিষ্ঠ পরিচিতের ঠিকানা তিনসুকিয়ায় আস্তানা বদলে থাকতে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে লাগে। কোথাও ২দিন কোথাও চার দিন আতিথেয়তায় ঠিকানাই আস্তানা গাড়ে। আসাম পুলিশের সহায়তায় তার গতিবিধিকে তাঁক করে সোমবার দুপুর তিনটে নাগাদ সপেখাতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরিচিতের গাড়ি নিজেই চালিয়ে ঠিকানা বদলের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তাকে পাকরাও করে পুলিশ। এদিনই তাকে আসাম আদালতে তুলে সাতদিনের ট্রানজিট রিম্যান্ডে শিলিগুড়ি নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার গৌহাটি থেকে বিমানে এসে শিলিগুড়ি বাগডোগড়া বিমানবন্দর থেকে তাকে ভক্তিনগর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বুধবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হবে।

Post a Comment