শাখাপত্তনমের স্কুলে র‍্যাগিং এর শিকার বেলঘড়িয়ার ছাত্র - The News Lion

শাখাপত্তনমের স্কুলে র‍্যাগিং এর শিকার বেলঘড়িয়ার ছাত্র




দি নিউজ লায়ন ;  বিশাখাপত্তনমে পড়তে গিয়ে চরম র‍্যাগিংয়ের শিকার বাংলার ছাত্র। মারের চোটে রক্তাক্ত হতে হল ওই ছাত্রকে। অভিযোগ, রক্তাক্ত ছাত্রের ছবি তুলে সেই ছবি পাঠানো হয় তার বাবার মোবাইল ফোনে। গোটা ঘটনায় কার্যত হতবাক এবং আতঙ্কিত বেলঘড়িয়ার পরিবার। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ছাত্রের চিকিৎসা চলছে বিশাখাপত্তনমের একটি হাসপাতালে। 


ছাত্রের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ জন ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতনের শিকার হওয়া ছাত্রের নাম শ্যাম কুমার মাহাতো। তার পরিবারের অভিযোগ, বিশাখাপত্তনমের একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র শ্যাম দীর্ঘদিন ধরে নতুন ক্লাসে ওঠার পর তার উপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার শুরু করে স্কুলেরই কয়েকজন সিনিয়র। ৪০ থেকে ৫০  জন ছাত্র বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নানা ভাবে অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। প্রথমদিকে বাড়িতে কিছু না জানালেও পরবর্তীকালে অত্যাচার এতটাই বাড়তে থাকে যে বিষয়টি বাড়িতে জানায় ওই ছাত্র। এরপরই নির্যাতন আরো বাড়তে শুরু করে এবং তা মাত্রাছাড়া হয় গত সপ্তাহে। 


ছাত্রের পরিবারের দাবি, সিনিয়রদের হোমওয়ার্ক করে না দেওয়ায় শ্যামকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। গোটা দিন ধরে এরপর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চলে। মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং মুখ ফেটে যাওয়ার সেই রক্তাক্ত ছবি হোয়াটসঅ্যাপ করে তার বাবার ফোনে পাঠানো হয়। গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ওই ছাত্রের পরিবার। তড়িঘড়ি বিশাখাপত্তনম রওনা হয়ে যায় ছাত্রের পরিবার। 


আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিশাখাপত্তনমের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তার শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি মাথার একটি শিরা ছিঁড়ে গিয়েছে। ছাত্রের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আটজন ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে। স্কুলের তরফের জানানো হয়েছে আরও কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


যদিও ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, দিনের-পর-দিন কিভাবে একটি ছাত্রের ওপর সকলের নজর এড়িয়ে এমন ধরনের নির্যাতন চলল। স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত কোনরকম ব্যবস্থা নিতে পারল না কেন। নজরদারির অভাব কেন থাকবে একটি নামজাদা স্কুলে প্রশ্ন তুলছেন ছাত্রের পরিবার।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.