সাত দিন নিখোঁজ থাকার পর মর্গে মিলল কাঠ ব্যবসায়ীর দেহ, খুনের অভিযোগ, পরিবারের তদন্তে পুলিশ
দি নিউজ লায়ন; সাত দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে শনাক্ত হলো এক কাঠ ব্যবসায়ীর দেহ। এই ঘটনায় মৃতের পরিবার ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুরাতন মালদা থানায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ব্যবসায়ীর নাম তাপস চৌধুরী (২৯)। তার বাড়ি পুরাতন মালদা থানার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগানপাড়া এলাকায় । পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন ওই যুবক। তার স্ত্রী জোসনা চৌধুরী।
তার বাড়ি ভূতনি থানার নন্দীটোলা এলাকায়। গত ১০ বছর আগে তাপসবাবুর সঙ্গে বিয়ে হয় জোসনা চৌধুরীর। তাদের দুই নাবালক ছেলেমেয়ে রয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কে চিড় ধরেছিল । এরপরই গত সোমবার তাপস চৌধুরীকে তার স্ত্রী ফোন করে শ্বশুর বাড়ি আসার জন্য বলে। আর তারপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় তাপস চৌধুরী। সাত দিন পর মেডিকেল কলেজের মর্গে মৃতের পরিবার দেহটি শনাক্ত করে। মৃত ওই ব্যবসায়ীর একভাই কিষান চৌধুরী জানিয়েছেন , দাদা এবং বৌদির মধ্যে গত ছয় মাস ধরেই বিবাদ চলছিল। এজন্য দাদার বিরুদ্ধে বৌদি জোসনা চৌধুরী নারী নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছিল পুরাতন মালদা থানায়। ৫০ দিন সংশোধনাগার থাকতে হয় দাদা তাপস চৌধুরীকে।
পরে জামিনে মুক্তি পাই। বৌদি নিজের বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। গত সোমবার ফোন করেই বৌদি দাদাকে ডেকেছিলেন শ্বশুর বাড়ি আসার জন্য। আর এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় দাদা তপন চৌধুরী। মৃতের ভাইয়ের কিষান চৌধুরীর অভিযোগ, আমাদের সন্দেহ হওয়াতেই মেডিকেল কলেজের মর্গে রবিবার খোঁজ নিতে গিয়েই দাদা দেহ পড়ে থাকতে দেখি। এই ঘটনায় বৌদি জোসনা চৌধুরীসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে দাদাকে খুন করা হয়েছে। মৃতের জামাইবাবু মাধব কর্মকার জানিয়েছেন , তাপস চৌধুরীর স্ত্রী জোসনা চৌধুরী নির্যাতন চালাচ্ছিল। যার ফলে তাদের সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ে।
তাপস চৌধুরীর স্ত্রী নিজের বাবার বাড়ি চলে যায়। মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতেই শ্যালককে জেলও খাটতে হয়েছে। এরপর যখন জোসনা চৌধুরী তাপস চৌধুরীকে তার বাবার বাড়িতে মোবাইলের মাধ্যমে ডাকে। আর তারপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। সাত দিন কোন খোঁজ না পাওয়ার পরই সন্দেহের বশে মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে শ্যালক তাপস চৌধুরী খোঁজ নিতে যায়। আর সেখানেই মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে যায়। এই ঘটনায় আমরা অভিযুক্ত জোসনা চৌধুরী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ জানিয়েছে , অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।

Post a Comment