গোপীবল্লভপুর বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো
দি নিউজ লায়নঃ সোমবার ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর এক ব্লকের শাসড়া তে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো, ঝাড়্গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিধায়ক দুলাল মুর্মু ও তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সত্যরঞ্জন বারিক ,তৃণমূল কংগ্রেসের গোপীবল্লভপুর এক ব্লকের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ওই সভায় তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বিজেপিকে মেকি রাজনৈতিক দল বলেও উল্লেখ করেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন যখন জঙ্গলমহল অশান্ত হয়েছিল তখন কোথায় ছিলেন বিজেপি নেতারা। আজকে বিজেপির নেতা বড় বড় কথা বলছেন।
ওই সময় নব্য বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তখন কোথায় ছিলেন। তিনি আজকে বিজেপি দলে যোগ দিয়ে বড় বড় কথা বলছেন যে ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি আসনে বিজেপি দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। বিজেপি নাকি ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদে জয়লাভ করেছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুলিশ দিয়ে ভোট গণনা করে তাদের হারিয়ে যাওয়া হয়েছে। তখন তো উনি তৃণমূলের পর্যবেক্ষক ছিলেন। জঙ্গলমহলে যা কিছু সেই সময় হয়েছে তাহলে উনার নির্দেশে হয়েছে। এটা তো আর কারো অজানা নয়। যদি ওই ঘটনা ঘটে থাকে তার সম্পূর্ণ দায়ী কি নব্য বিজেপি নেতা নয়। তিনি বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন আগুন নিয়ে খেলবেন না আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। জঙ্গলমহলের মানুষ শান্ত তারা হিংসায় বিশ্বাস করে না। গত 34 বছর বামেরা জঙ্গলমহলে কোন উন্নয়নের কাজ করেনি।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলের যে উন্নয়নের কাজ করেছে তা এর আগে কোন সরকার করেনি। সেই শান্তি ও উন্নয়ন কে অব্যাহত রাখার জন্য তিনি আবেদন জানান ।তিনি বলেন বাইরে থেকে কিছু গুন্ডা এনে জঙ্গলমহল কে উত্ত্যক্ত করার জায়গা চক্রান্ত করছে বিজেপি। তাদেরকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য জঙ্গলমহলের প্রতিটি মানুষ তৈরি রয়েছেন। তিনি তার ভাষণে আরো বলেন যে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে প্রথমেই জনজাতি দের উপর আক্রমণ করবে। যারা ঝাড়খন্ডে আদিবাসীদের জমি কেড়ে নিয়েছিল যারা উত্তরপ্রদেশে দলিত কন্যা কে ধর্ষণ করে খুন করেছিল। যারা শুধু উন্নয়নের বদলে মুখে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেয়। তারপরে মানুষ খুন করে। সেই খুনি বিজেপিকে বাংলার বুকে কোনদিন ঠাঁই দেবেন না বলে তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে আহ্বান জানান ।তিনি বলেন বিজেপি হিংসার রাজনীতি শুরু করেছে। যেভাবে ভিক্টোরিয়াতে মুখ্যমন্ত্রীকে বিজেপি কর্মীরা অপমান করেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি বলেন তৃণমূল কর্মীরা যদি প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করত তাহলে কি বিজেপি চুপ করে থাকত।
তিনি বলেন ধৈর্যের একটা সীমা রয়েছে সেই ধৈর্যের সীমা যখন অতিক্রম করে যায় তখন যা হওয়ার তাই হয়। সেই সঙ্গে তিনি তাঁর ভাষণে রাজ্য সরকারের একের পর এক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন এবং তিনি বলেন আপনাদের যদি কোন কিছু প্রয়োজন হয় দুয়ারে সরকার শিবিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করিয়ে নিবেন। বিজেপির মিথ্যা কথা বলে , যারা লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ঝাড়গ্রাম থেকে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও ঝাড় গ্রাম থেকে গোপীবল্লভপুর হয়ে উড়িষ্যার বারিপাদা পর্যন্ত রেল লাইন তৈরি করবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। যারা রেল কে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা কি রেল লাইন তৈরি করবে। ওরা দেশটাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। যেভাবে ব্রিটিশরা দেশকে শাসন করেছিল তার থেকেও খারাপ এই বিজেপি দল। তাই তিনি বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার আহবান জানান এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সুবর্ণরেখা নদীতে বিজেপিকে রাজনৈতিক ভাবে বিসর্জন দেওয়ার জন্য এখন থেকেই মায়েদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

Post a Comment