প্রতিবেশীদের গঞ্জনায় বিরক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের পায়ে শিকল বেঁধে প্রশাসনের দ্বারস্থ অসহায় বাবা মা
দি নিউজ লায়নঃ শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। তাঁদের বক্তব্য, দিনের-পর-দিন ছেলের মানসিক রোগ বাড়ছে। যার কারণে পাড়া-প্রতিবেশীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। কারণ, ছেলে বাড়ির বাইরে বেরোলেই ইট ছোঁড়ে, এতে অসন্তোষ বাড়ছে গ্রামে। তাই ছেলেকে ঘরবন্দি করে রাখতেই পায়ে শিকল বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে ছেলের এই অবস্থায় অসহায় ওই পরিবার প্রশাসনের কাছে চিকিৎসার জন্য সাহায্য চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে দীর্ঘক্ষন ওই দম্পতি তার শিকলবন্দি ছেলেকে নিয়ে বসে থাকেন।
পরে অবশ্যই বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসনের কর্তারা। জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে ওই দম্পতিকে তার ছেলের চিকিৎসার জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়। এদিন পায়ে শিকল বন্দি অবস্থায় ছেলেকে জেলা প্রশাসনের কাছে নিয়ে আসেন বাবা-মা। মানিকচক ব্লকের চৌকিমিরজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সালাবাদগঞ্জের বাসিন্দা বুদ্দিন শেখ। তার ছোট ছেলে কাসেদ শেখ (২৯)।
প্রায় দশ বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন হয় কাসেদ। প্রথমে সমস্যা অনেক কম ছিল। বুদ্দিন শেখ পেশায় দিন মজুর। কাসেদ শেখও এক সময় শ্রমিকের কাজ করতো। তবে মানসিক রোগ ক্রমশ বাড়তে থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। অভাবী সংসারে যতটুকু পেরেছে পরিবার তার চিকিৎসা করিয়েছে। এখন সমস্যা আরো বেড়েছে চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার।
এক বছর ধরে বাড়িতে শিকল দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে কাশেদকে। মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন মানিকচকের দম্পতি তার শিকলবন্দি মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে আজকে প্রশাসনের কাছে এসেছিলেন। সব রকম ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি এবং ওই মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে চিকিৎসা ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে ।

Post a Comment