শুকিয়ে যাওয়া নদীকে পাচারের সেফ করিডর হিসেবে ব্যাবহার করছে বন্য জন্তু ও বনজ দ্রব্যের পাচারকারিরা - The News Lion

শুকিয়ে যাওয়া নদীকে পাচারের সেফ করিডর হিসেবে ব্যাবহার করছে বন্য জন্তু ও বনজ দ্রব্যের পাচারকারিরা

 


দি নিউজ লায়নঃ     শীতের সুখা মরশুম। জঙ্গল চিরে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি সব নদীই এখন শুকিয়ে কাঠ হয়ে পড়ে রয়েছে। নদীর বেডে শুকিয়ে পড়ে রয়েছে পাথর আর বালির শক্ত আসরন। আর শুকিয়ে থাকা বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর বেডকেই পাচারের সেফ করিডর হিসেবে ব্যাবহার করছে বন্য জন্তু ও বনজ দ্রব্যের পাচারকারিরা।  বিভিন্ন সুত্র থেকে এমন খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাত তিনটে নাগাদ বীরপাড়ার দলগাও ফরেস্টের ভেতর পাগলি নদীর বেড থেকে দুটো টিক কাঠ বোঝাই মারুতি ভ্যান উদ্ধার করে দলগাও রেঞ্জের বনকর্মীরা। জানা গিয়েছে গোপন সুত্রে খবর পেয়ে বনকর্মীরা এই অভিযান চালান। অভিযানের খবর পেয়ে টিক গাছের লগ ভর্তি গাড়ি ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায় নি।


 উদ্ধার হওয়া কাঠের বাজার মূল্য ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বনদফতর। কিন্তু এমন ঘটনা কী এই প্রথম? বনাধিকারিকরা জানাচ্ছেন শীতে নদী পথে বনজ দ্রব্য ও কাঠ পাচারের ঘটনা এই প্রথম নয়। জানা গিয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে কম বেশি ৭৬ টি পাহাড়ি নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই সব পাহাড়ি  খরস্রোতা নদীগুলো বর্ষাকালে যেমন ভয়ংকর রুপ নেয়,  তেমনি শীতকালে শুকিয়ে কাঠ হয়ে পড়ে থাকে। আর এই সব নদীর বেড গুলোকেই পাচারের সেফ করিডর হিসেবে ব্যাবহার করে পাচারকারিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই সময় নদী বেড গুলো শুকিয়ে বালি পাথরের সাদা আস্তরনে পরিনত হয়। এই সব নদী বেডগুলো গাড়ি চলাচলের উপযোগী হয়ে থাকে। নদী বেডে কোন ঝোপ ঝাড় ও গাছ না থাকায় বন্য জন্তুদের হামলার ভয় নেই। নদী বেড গুলো পরিষ্কার থাকায় এখানে বন্য জন্তুর আনাগোনা দূর থেকে লক্ষ করতে পারেন পাচারকারিরা।


 গভীর অরণ্যের মধ্যে দিয়ে এই সব নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদী বেডের এই রাস্তা অনেক বেশি নিরাপদ। বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি বন বিভাগের ডি এফ ও মৃদুল কুমার বলেন, " পাচারকারিরা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাওয়া নদীর বেডকে করিডর হিসেবে ব্যাবহার করে। আমাদের কাছে সেই খবর রয়েছে। সেই কারনে বনাঞ্চলের সব বিট ও রেঞ্জ অফিসকে ততপর থাকার নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। সেই ততপরতার কারনেই বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কাঠ পাচারের খবর আমরা পেয়ে অভিযান চালিয়েছে। দুই মারুতি ভ্যান বোঝাই কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা সব সময় সতর্ক।"


 তোর্ষা, বালা, পানা, পাগলিঝোরার মত ছোট বড় অনেক নদীই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প, জলদাপাড়া ও গরুমারার মতো বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।  বিষয়টি নিয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডি এফ ও কুমার বিমল বলেন, " বর্ষায় ভরা নদী ও শীতের শুকনো নদীর বেড এই দুই অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারিরা পাচারের ছক কষে। আমরা সব সময় এই পাচার রোধে সদা সতর্ক থাকি।" বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, " বনের ভেতর বিভিন্ন সময় বন দফতরের সাথে পুলিশের যৌথ অভিযান চলে। পুলিশ নিজস্বভাবেও অনেক সময় বিভিন্ন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালাই।"

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.