৫৬০ বছরের প্রাচীন মন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা শ্যামপুরে
দি নিউজ লায়নঃ ঢাকের বাদ্য হোম যজ্ঞ মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সোমবার শ্যামপুরের রতনপুর গ্রামের প্রাচীন রত্মনমালা ন্দিরের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হল। নতুন কলেবরে মন্দির প্রতিষ্ঠা কে ঘিরে উৎসবের চেহারা রতনপুর গ্রামে। নদী থেকে জল এনে মন্দির ধোওয়া থেকে মায়ের কাছে পুজো দেওয়া আবেগে ভাসলো কয়েক হাজার মানুষ। অবশ্য শুধু সাধারণ মানুষ নয় রত্নমালার আশীর্বাদ নিতে মন্দিরে হাজির হয়েছিলেন বিধায়ক পুলক রায়, বিধায়ক কালিপদ মণ্ডল, বেলারি রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী শিবানন্দ, শ্যামপুর ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির জুলফিকার আলী মোল্লা সহ অন্যান্যরা। মন্দির কমিটি সূত্রে খবর মন্দিরটি ভগ্নপ্রায় হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী প্রনবেশ কয়াল মন্দিরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন এবং প্রায় ৩ বছর নির্মাণকার্য চলার পর সোমবার মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠা হল।
কথিত আছে শ্যামপুরের রতনপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীপথে বাণিজ্য করতে যাওয়ার সময় আজ থেকে ৫৬০ বছর আগে বণিক চাঁদ সদাগর ও বর্ধমানের মহারাজ বিজয় চাঁদের উদ্যোগে রতনপুর গ্রামে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। জনশ্রুতি আছে ঘনশ্যামপুরের এক পূজারী তার মেয়েকে নিয়ে মায়ের কাছে পুজো দিতে আসে। মেয়েকে মন্দিরে বসিয়ে পূজারী পুকুরে হাত পা ধুতে যান। পরে মন্দিরে ফিরে এসে তিনি আর মেয়েকে দেখতে পান না। চারিদিক খোঁজাখুঁজির পর শেষে পূজারী মায়ের মুখে তার মেয়ের পরনের শাড়ির আচল দেখতে পান।
পূজারীর ধারণা হয় মা তার মেয়েকে নিয়ে নিয়েছেন আর এরপর থেকেই রতনপুর গ্রামের দেবী রত্নমালা হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত হন। মন্দিরের পূজারী সীতানাথ রায় জানান দেবী রত্নমালা কে বিশালাক্ষী দূর্গা ও কালী রূপে পূজা করা হয়। তিনি জানান যেহেতু দেবীর নাম রত্নমালা সেই কারণে গ্রামের কারুর নাম রতন বারত না রাখা হয় না। শুধু তাই নয় গ্রামের মন্দিরে দেবী থাকার কারণে অন্য কোন দেবীর মূর্তি পূজা হয় না গ্রামে পরিবর্তে ঘট পূজা হয়।
অন্যদিকে মন্দির সংস্কার প্রসঙ্গে প্রণবেশ কয়াল জালাল মা রত্নমালার স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই সকলের সাহায্যে এই মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নিই।

Post a Comment