আত্মমুগ্ধতাসূচক ব্যক্তিত্ব ব্যাধির (NPD) লক্ষণ সমূহ - The News Lion

আত্মমুগ্ধতাসূচক ব্যক্তিত্ব ব্যাধির (NPD) লক্ষণ সমূহ

 


দি নিউজ লায়নঃ

১. আক্রান্ত ব্যাক্তি আত্ম-গুরুত্ব নিয়ে বিরাট একটা ধারণা রাখে (যেমন, সমানুপাতিক সাফল্য ছাড়াই নিজের সফলতা বা মেধা নিয়ে অত্যুক্তি করা এবং শ্রেষ্ঠতর হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার প্রত্যাশা করা)।

২. অন্যদের কাছ থেকে সম্মান ও আনুগত্য পাবার ঝোঁক: এটা প্রবল আকারে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যাক্তির মধ্যে। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যাক্তিকে দাম্ভিক হতে দেখা যায়। সবসময় সবার থেকে আলাদা একটা সম্মান বা আনুগত্য পাবার একটা প্রবল ইচ্ছে থাকে সব সময়। আক্রান্ত ব্যাক্তি নিজেকে সবার থেকে আলাদা ভাবে এবং শ্রেষ্ট মনে করে। নিজের থেকে কম যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে।


৩. নিজের অর্জন এবং প্রতিভা অতিরঞ্জিত: এই ধরনের আক্রান্ত ব্যাক্তিরা একটু মেধাবী হয়। সে ক্ষেত্রে জীবনের অর্জন বা প্রতিভা দিয়ে সর্বদা দাম্ভিকতা দেখায়। এছাড়া শৈশব, কৈশরের অর্জিত অর্জন এবং প্রতিভা দাম্ভিকতা নিয়ে সারাজীবন চলতে চায়।

৪. বিশাল সাফল্য, শক্তি, প্রতিভা, সৌন্দর্য, বা প্রেমের কল্পনায় আচ্ছন্ন থাকা।


৫. নিজেকে “বিশেষ” ও অনন্য ভাবা এবং শুধু অন্য ‘বিশেষ’ বা উচ্চ-মর্যাদা সম্পন্ন মানুষ (বা প্রতিষ্ঠান) তাকে বুঝতে পারে অথবা তাদের সাথেই তার মেশা উচিত বলে বিশ্বাস করা।

৬. অন্যের মনোভাব, অনুভূতি, কথা বা সমালোচনার প্রতি চরম অসহিষ্ণুতা: আক্রান্ত ব্যাক্তি অন্যের মনোভাব, অনুভূতি, কথা বা সমালোচনার প্রতি চরম অসহিষ্ণুতা বা ধৈর্যহীন বলা যায়। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যাক্তি অন্যের কোন কথার গুরুত্ব দিতে চায়না। অন্যের অনুভুতিও কখনও বুঝতে চায়না। এছাড়া সমালোচনা একদমই সহ্য করতে পারেনা। নিজেকে সকল বিষয় সঠিক ভাবার একটা স্বার্থপর মনোভাব এদের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে যায়। কারো কারো আজীবন। এদেরকে ভাল কিছু বুঝাতে গেলে বা তাদের ভুলের সমালোচনা করতে গেলে এরা সবসময় সেই খোড়া যুক্তি অনুসরন করবে। যেমন আপনি এই রকম আক্রান্ত ব্যাক্তিকে তার ভুলগুলো বা কিছু বিষয় বুঝাতে গেলেন সে তখন আপনাকে উত্তর দিবে, “আমার ভুল ধরার আগে নিজের ভুল গুলো শুধরে আসো।”


এধরণের মনোভাব পোষণকারীরা অন্যের সমালোচনা যেমন নিতে পারেনা, তেমনি কোনোবিষয়ে তাদের চিন্তার বাইরে অন্যদের কার কেমন চিন্তা বা অভিমত তাও তারা শুনতে নারাজ থাকে। অথচ এটা জরুরী না যে একটা মানুষ সবসময়ে সবক্ষেত্রে সঠিক থাকবে। এরা কখনো তর্কে হারতে চায়না, শত যুক্তি উপস্থাপন করা সত্বেও আর কখনো নিজের ভুলও স্বীকার করেনা। ফলে এধরণের মনোভাব যেমন এদের নিজের জন্যে ক্ষতিকর হয়, তেমনি তা অন্যদের জন্যেও অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেকসময়।


৭. অত্যধিক প্রশংসা পাওয়ার তীব্র বাসনা: পূর্বেই বলা হয়েছে এই ধরনের আক্রান্ত রোগীরা একটু বেশিই মেধাবী হয়ে থাকে। একারনে সবসময় প্রশংসা পাওয়ার একটা তীব্র বাসনা জেগে থাকে। সব রকম কাজে সে প্রশংসা প্রত্যাশা করে। লক্ষ্য এবং উদ্দ্যেশ্যই থাকে অন্যের প্রশংসা কুরানো।

৮. অবাধ্যতা: NPD আক্রান্ত রোগীরা প্রচন্ড অবাধ্য। এই সমস্যাটা তাদের মধ্যে তীব্র আকারে দেখা যায়। আপনি যদি দেখেন যে আক্রান্ত ব্যাক্তি যা করছে তা ভুল করছে বা তা ক্ষতির কারণ হচ্ছে আপনি তার চিন্তার বিপরীতে কোন কিছুই বঝাতে পারবেননা। আপনি যুক্তি দেখিয়ে বুঝাতে বুঝাতে হাপিয়ে উঠবেন তাও এরা নিজের কথায় অটল থাকবে।


আপনি যে বিষয়ে পটু সে বিষয়েও তারা আপনার চাইতে বেশি বিজ্ঞতা দেখাতে চাইবে সম্যক জ্ঞান না থাকা সত্বেও। এমনকি অনেকসময় এরা শিক্ষক, চিকিৎসক, গুণী ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞদের কথাতেও পাত্তা দেয়না। সব বিষয়ে নিজেকে খুব সমঝদার মনে করার একটা ভ্রান্ত ধারণা জেঁকে থাকে এদের মাঝে। ফলে অন্য কেউ ভালোর জন্যে কিছু বললে সেটাতে এরা অবজ্ঞা ভরে অবাধ্যতা দেখায়।


৯. সমস্ত কিছুর সর্বোত্তম থাকার উপর জোর: NPD আক্রান্ত ব্যাক্তির মধ্যে আরো একটি সমস্যা দেখা দেয় সেটা হলো সেরা বা সর্বোত্তম থাকার উপর জোর দেয়া। অর্থাৎ এই ধরনের ব্যাক্তিরা প্রতিটা বিষয় সেরা থাকার উপর জোর দেয়। যেমন ধরুন, দামি গাড়ি, বাসার দামি সোফা, দামি জামা ইত্যাদি।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.