মেদিনীপুরে মমতার সভায় তিন জেলার ২৪ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন
দি নিউজ লায়নঃ মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সভায় মেদিনীপুর কলেজ মাঠে সোমবার হাজির থাকলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৩ জন বিধায়ক । মেদিনীপুরের বিধায়ক মৃগেন মাইতি মারা গেছেন এদিন এবং কেশিয়াড়ির বিধায়ক পরেশ মুর্মু করোনা আক্রান্ত । এদিন দুপরে মেদিনীপুর কলেজ ময়দানের সভামঞ্চে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কদের জন্য নিৰ্ধারিত মঞ্চের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়েন । বক্তব্য পেশ করার সময় উপস্থিত বিধায়কদের নাম বলেন । সভা শেষ করে নামার সময় সিঁড়ির ধাপে দাঁড়িয়ে দলের বিধায়কদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ।
প্রায় প্রত্যেক বিধায়কের নাম ধরে খোঁজ খবর নেন । বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় সকলকে নিয়ে কাজ করার , সরকারি কর্মসূচিগুলি , সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন । বিধায়কদের তিনি বলেন , এলাকায় থাকবেন । এলাকা ছাড়বেন না । এদিনের সভায় পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের ( শহর ) তৃণমূল বিধায়ক প্রদীপ সরকার , খড়গপুরের ( গ্রামীণ ) দীনেন রায় , নারায়ণগড়ের প্রদ্যোত ঘোষ , দাঁতনের বিক্রম প্রধান , ঘাটালের শঙ্কর দোলই , চন্দ্রকোনার ছায়া দোলই , দাসপুরের মমতা ভুইঁয়া , কেশপুরের শিউলি সাহা , ডেবরার সেলিমা খাতুন , সবং এর গীতারানি ভুইঁয়া , শালবনির শ্রীকান্ত মাহাতো , গড়বেতার আশীষ চক্রবর্তী , পিংলার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র উপস্থিত ছিলেন ।
এদিনের সভায় পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কতজন বিধায়ক আসছেন সেদিকে তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল।| সভা শুরুর একঘন্টা আগেই চলে এসেছিলেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি।পরে এক এক করে আসেন খেজুরির রঞ্জিত মন্ডল , ময়নার সংগ্রাম দোলই , পাঁশকুড়া পশ্চিমের ফিরোজা বিবি , ভগবানপুরের অর্ধেন্দু মাইতি , কাঁথি দক্ষিণের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য , নন্দকুমারের সুকুমার দে , চন্ডিপুরের অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য, মহিষাদলের বিধায়ক সুর্দশন ঘোষ দোস্তিদার ও পটাশপুরের জ্যোতির্ময় কর অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি । দুজন বিধায়ক অসুস্থ বলে আগেই জানিয়েছেন ।
অখিল গিরি জানান , পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় সমস্ত তৃণমূল বিধায়ক ও তৃণমূল কর্মীরা যে মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই রয়েছেন সেই বার্তা দিতে এদিনের ঐতিহাসিক সভায় যোগ দিতে তাঁরা এসেছেন । শুধুমাত্র নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী ও উত্তর কাঁথির বিধায়ক বনশ্রী মাইতি আসেননি ।এগরার বিধায়ক সমরেশ দাস মারা গেছেন ।
তিনি আরো জানান , তাঁরা তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে দেখে তৃণমূল করতে এসেছিলেন । ১৯৯৮ সালের সেই নেত্রী যিনি সিপিএমের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াকু ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি আজকের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী । যিনি একের পর এক প্রকল্প আনছেন মানুষের জন্য । আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক শক্তি পরাজিত করতে পারবে না তৃণমূলকে ।এদিনের সভায় পূর্ব মেদিনীপুরের ২৫ টি ব্লক থেকে ১২৫ টি গাড়িতে চড়ে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা এসেছেন ।
মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থলে আসার আগে বক্তব্য পেশ করেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা ।তিনি তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে রাজ্যের আদিবাসী , দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন , কিভাবে তাঁরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন , মাথার ওপর বাড়ি পেয়েছেন তা তুলে ধরেন। সোমবারের সভায় ঝাড়গ্রাম জেলার বিধায়ক দুলাল মুর্মু,চুড়ামনি মাহাতো ও খগেন্দ্র নাথ হেমব্রম উপস্থিত ছিলেন। সোমবার ঝাড়গ্রাম,পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোট ২৪ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ,সাধারণ সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভুঁইয়া ,তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি সহ আরো অনেকে।

Post a Comment