মুসলিম মহিলাকে রক্ত দিয়ে বাঁচালেন হিন্দু কলেজ ছাত্রী - The News Lion

মুসলিম মহিলাকে রক্ত দিয়ে বাঁচালেন হিন্দু কলেজ ছাত্রী



দি নিউজ লায়নঃ     মুসলিম মহিলাকে  রক্ত দিয়ে বাঁচালেন  হিন্দু কলেজ ছাত্রী। সম্প্রীতির অনবদ্য নজির মালদার চাঁচোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার দেখে চাঁচোল মহাকুমার মুমূর্ষু এক মুসলিম মহিলাকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন বিজ্ঞান বিভাগের এক হিন্দু কলেজ ছাত্রী। এই ঘটনায় ফের আরও একবার সম্প্রীতির নজির উঠে এল মালদায়। হতদরিদ্র ওই মুসলিম মহিলার পরিবারের লোকেরা কলেজ ছাত্রীর এই মানবিক মুখ দেখে তাকে দুহাত তুলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার চাচোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।


 স্থানীয় এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে,  পুকুরিয়া থানার ভালো এলাকায় বাসিন্দা অন্বেষা বিবি রক্তাল্পতায় চরম অসুস্থ হয়ে চাচোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কয়েকদিন আগে ভর্তি হন। এজন্য তার দুই ইউনিট রক্তের দরকার ছিল। কিন্তু পরিবারের লোকেরা হন্যে হয়ে রক্তের যোগানের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এমনকি ওই মুসলিম মহিলা রোগীকে বাঁচাতে অনেকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ। এরপরই বিষয়টি জানতে পারেন চাচল কলেজের প্রশাসক অভিজিৎ দাস। 


তিনি ওই মুসলিম মহিলার রক্তের জোগানের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি জানান। এদিকে ওই মহিলার জরুরীকালীন পরিস্থিতিতে রক্তের প্রয়োজন রয়েছে, এমন কথা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন বিজ্ঞান বিভাগের এক কলেজ ছাত্রী প্রকৃতা সিং। তিনি উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেরাদুন কলেজে পাঠরত। করোনা সংক্রমনের জেরে কয়েক মাস আগেই ওই কলেজছাত্রী চাঁচলে নিজের বাড়িতে এসেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিম মহিলার ওই রক্ত সংকটের কথা জানতে পেরেই সরাসরি তিনি নিজেই চাচোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ছুটে আসেন। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও অসুস্থ ওই মহিলার পরিবারের সাথে কথা বলেন স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়ার জন্য। 


তারপরই এক ইউনিট রক্ত দিয়ে ওই বৃদ্ধাকে খানিকটা হলেও সুস্থ করতে পেরেছেন কলেজছাত্রী প্রকৃতা সিং। রক্ত দেওয়ার পর ওই কলেজছাত্রী বলেন, যেখানে মানুষের জীবন জড়িয়ে রয়েছে, জাতপাতের কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার রক্তে যদি অন্যের প্রাণ বাঁচে , তাহলে আমি কেন সাহায্য করব না। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন অসুস্থ মহিলার রক্তের প্রয়োজন, তা জানার পরই আমি চাচোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আসি এবং ওই অসুস্থ মহিলার খোঁজ করি। এরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেই স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেছি।


 যদি ওই মহিলার আবারো রক্তের প্রয়োজন হয় , তাহলে আমি আবার দেব। এদিকে অসুস্থ উন্মেষ বিবির এক আত্মীয় হামিদুর শেখ বলেন, আজকের দিনে এমন মানবিক মুখ দেখা যাবে ভাবতেই পারে নি। শুধুমাত্র ফেসবুক দেখেই অপরিচিত একজন ছাত্রী আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন এবং রক্ত দিয়ে সাহায্য করতে পারে তা ভাবাই যায় না। ওই ছাত্রী আরো বড় হোক এই আশীর্বাদ করছি।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.