প্রেম সম্পর্কে খুব সাধারণ কিছু ভুল ধারণা - The News Lion

প্রেম সম্পর্কে খুব সাধারণ কিছু ভুল ধারণা

 



আদর্শ সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে খুঁজে পাওয়া অনেকটা পাশার চাল দেওয়ার মতো

গণিত বিশেষজ্ঞ হানা ফ্রাই বলছেন, মনের মানুষকে খুঁজে পাওয়া কোনও র‌্যানডম অ্যাকশন নয়। অঙ্কের নিয়মে চললে ঠিকঠাক মানুষ সহজে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বরং বাড়ে। তিনি বলেছেন, বয়স, পেশা, ভাষা, পছন্দ-অপছন্দ এই এতসব কিছু দেখেশুনে মিশতে গিয়েই ছোট হয়ে যায় পরিসর আর তাই আদর্শ পার্টনার খুঁজে পাওয়ার ‘প্রোবাবিলিটি’ কমে যায়। তার চেয়ে মেশামেশিতে কড়াকড়ি কম করলে বরং মনের মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। পৃথিবীর বহু সফল দম্পতি কিন্তু পরস্পর বিপরীত মেরুর মানুষ।


বর্তমান পার্টনারের চেয়েও আরও আদর্শ কেউ কোথাও না কোথাও আছেন

সম্পর্কে টানাপোড়েনে অনেকে এমনটা ভাবেন। অনেকে আবার এমনিই ভাবেন যে বর্তমান পার্টনারের চেয়েও বেশি সুন্দর অথবা বেশি সৌম্য অথবা বেশি মাথা ঠান্ডা বা বেশি বাস্তববাদী মানুষ পৃথিবীর কোনও একটি প্রান্তে রয়েছেন এবং তিনিই হলেন আদর্শ। এইভাবে ভাবলে এবং চললে সারা জীবনই কিন্তু ছুটে বেড়াতে হবে। থিতু হওয়া যাবে না। উপায়? হানা ফ্রাই এক্ষেত্রে গণিতের ‘অপটিমাল স্টপিং’-এর উল্লেখ করে একটি টিপ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন প্রথমে গুণে নিন এখনও পর্যন্ত মোট ক’জনকে আপনি ডেট করেছেন। যে সংখ্যাটি হবে তার প্রথম ৩৭ শতাংশকে একেবারেই বাদ দিয়ে দিন আদর্শ সঙ্গীর সম্ভাব্য তালিকা থেকে। এর পরে যাঁরা রইবেন, তাঁদের মধ্যে থেকে সঙ্গী নির্বাচন করাই শ্রেয়। কিন্তু তার পরে আবারও সঙ্গী খুঁজতে থাকলে সারাজীবনে আদৌ থিতু হতে পারবেন কি না তা বলা মুশকিল।  


প্রেম অযৌক্তিক

একেবারেই তা নয়। এটি প্রমাণ করতে কোনও বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই। ভেবে দেখুন আপনি নির্দিষ্ট কিছু কারণেই সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে ভালবাসেন। সেইগুলিই প্রেমের স্বপক্ষে আপনার যুক্তি। দার্শনিক বেরিট ব্রোগার্দ বলছেন, মানুষ যুক্তি দিয়ে প্রেম সম্পর্কে ভাবে বলেই কাউকে অল্প ভালবাসে, কাউকে প্রচণ্ড ভালবাসে আবার কাউকে একেবারেই ভালবাসে না।

প্রেমানুভব থেকে কখনও বেরনো যায় না

আদ্যন্ত ভুল কথা। মনস্তাত্ত্বিকরা বলেন, ‘ফলিং আউট অফ লাভ’ অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সাধারণ বিষয়। মানুষ নিজের সুবিধে-অসুবিধে অথবা পছন্দ-অপছন্দের কথা মাথায় রেখেই অত্যন্ত যুক্তিসম্মতভাবে প্রেমানুভব থেকে বেরিয়ে আসে অর্থাৎ কোনও মানুষ সম্পর্কে আর প্রেম অনুভব করে না। যিনি ব্রেক-আপ করেন আর যিনি ব্রেক-আপের সিদ্ধান্ত সহ্য করেন, দু’পক্ষই এই ভুল ধারণাকে ভেঙে দেন।


অকুণ্ঠ ভালবাসা পেতে গেলে ততটাই ভালবাসা আগে দিতে হবে

এই ধরনের ভাবনা যে সম্পর্কগুলিতে থাকে, সেই সম্পর্ক খুব বেশিদিন টিকবে কি না সন্দেহ, বলছেন গটম্যান। আদর্শ প্রেম হল সেটাই যেখানে দু’জনেই কোনও শর্ত ছাড়াই একে অপরকে ভালবাসেন।

প্রেম আনপ্রেডিক্টেবল বা অনুমানসাপেক্ষ নয়

সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নিতে পারে তা সব সময়েই অনুমানসাপেক্ষ। প্রেম একদিনে ভেঙে যায় না। যদি হঠাৎ করে তা হয় তবে বুঝতে হবে সম্পর্কের ভিতটাই নড়বড়ে ছিল এবং কোনও একজন সঙ্গী কখনোই তার লক্ষণগুলি ভাল করে দেখেননি বা বোঝেননি। কীভাবে একটি দম্পতি সম্পর্কের টানাপোড়েন অতিক্রম করে বা কীভাবে একে অপরকে ভাল-মন্দ কথা বলে তা খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করলেই মনস্তত্ত্ববিদরা বলে দিতে পারেন, কোনও সম্পর্কের মেয়াদ আর কতদিন।


 

প্রেম হল একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় অবস্থা

প্রেম নির্ভর করে মস্তিষ্কের উপর। প্রেমের অনুভূতির পিছনে রয়েছে মস্তিষ্কের নির্দেশ। কাউকে দেখে আকৃষ্ট হলে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণে শরীরে কিছু হরমোনের নিঃসরণ হয়। এই হরমোনই প্রেমের অনুভূতির জন্ম দেয় যা মানুষ অনুভব করে তার শরীরে।

প্রেমে আঘাত পাওয়ার যন্ত্রণা শারীরিক আঘাতের থেকেও বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীরে মারাত্মক আঘাত পেলে যতটা কষ্ট হয়, প্রেমে আঘাত পেলে কষ্টের প্রাবল্য তার চেয়ে বেশি হয় না কারণ দু’টি ক্ষেত্রেই নিউরনের গতিবিধি একই রকম থাকে।



প্রাথমিক আকর্ষণ কেটে গেলে যৌনতা কমে যায় দম্পতিদের মধ্যে

শারীরিক কারণে, বয়স বাড়লে কমে যেতে পারে কিন্তু যতক্ষণ যৌনক্ষমতা বজায় রয়েছে দু’জনের মধ্যে এবং সঠিকভাবে ‘প্রেম’ রয়েছে, ততদিন কোনও মতেই যৌনক্রিয়া কমে যায় না। পারস্পরিক প্রেম কমে গেলে তা প্রভাব ফেলে যৌনজীবনে এবং তা আকর্ষণ-জনিত কারণে কম, মানসিক দূরত্বজনিত কারণে বেশি। আর শুধু শারীরিক আকর্ষণে যৌনতা তো ‘প্রেম’ নয়, তা হল শুধুই শরীরের খিদে।

 প্রেমে সং‌ঘর্ষ প্রেমকে আরও মজবুত করে

মনস্তত্ত্ববিদ জন গটম্যান বলছেন রাগ থেকে আরও বেশি রাগেরই উৎপত্তি হয়। সম্পর্কে মুহুর্মুহূ ঠোকাঠুকি, প্রেমের ভিত নড়িয়ে দেয় আসলে, শক্ত করে না।


কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.