ভূতের হাতে কেন মেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হন? জেনে নিন অলৌকিক কারণটি - The News Lion

ভূতের হাতে কেন মেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হন? জেনে নিন অলৌকিক কারণটি

 

বাথরুমে স্নান করতে ঢুকেছেন কোনও সুন্দরী, কিংবা একাকিনী শুয়ে রয়েছেন বিছানায়। সেই সময়েই তাঁকে আক্রমণ করল কোনও বিকট চেহারার ভূত। ভূতের সিনেমার নিয়মিত দর্শকদের একথা মনে হওয়া খুব স্বাভাবিক যে, ভূতেরা বুঝি মেয়েদেরই নিজেদের শিকার হিসেবে বেশি পছন্দ করে।

Ghost Girl
ভূতগ্রস্ত

ভূতে যদি বিশ্বাস না করেন তাহলে তো চুকেই গেল। আর যদি বিশ্বাস করেন, তাহলে ‘ভূতে ধরা’-র বিষয়টিতেও বিশ্বাস করতে হবে। ভূতের সিনেমায় এই দৃশ্য আকছার দেখা যায় যে, বাথরুমে স্নান করতে ঢুকেছেন কোনও সুন্দরী, কিংবা একাকিনী শুয়ে রয়েছেন বিছানায়। সেই সময়েই তাঁকে আক্রমণ করল কোনও বিকট চেহারার ভূত। ভূতের সিনেমার নিয়মিত দর্শকদের একথা মনে হওয়া খুব স্বাভাবিক যে, ভূতেরা বুঝি মেয়েদেরই নিজেদের শিকার হিসেবে বেশি পছন্দ করে। এ শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মনোরঞ্জনের উপায়মাত্র— এমনটাও মনে হতে পারে তাঁদের। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, অলৌকিক জগৎ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবেও তেমনটাই ঘটে। ২০১২ সালে স্পিরিচুয়াল সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশন সংঘটিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, যাঁরা ভূতের হাতে আক্রান্ত হন, তাঁদের ৭০ শতাংশই মহিলা। কিন্তু কেন মেয়েদের প্রতি ভূতেদের এই আকর্ষণ? 

প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেশ কিছু কারণ রয়েছে মেয়েদের প্রতি ভূতেদের আকর্ষণের। কীরকম? আসুন, জেনে নেওয়া যাক— 

১. শারীরিক কারণ:
মহিলাদের শরীরে পুরুষদের তুলনায় হরমোনঘটিত পরিবর্তন ঘটে অনেক বেশি। এই কারণে তাঁদের শরীরের স্পর্শকাতরতাও অনেক বেশি। স্বভাবতই যে কোনও অশু‌ভ শক্তির দ্বারাই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তাঁদের বেশি থাকে। 

২. মানসিক কারণ:
মেয়েরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। তাঁদের উদ্বেগ, বেদনা, অভিমান ইত্যাদি অনুভূতিও অনেক প্রবল। পাশাপাশি স্বামী, সন্তানের প্রতি বিবাহিত মহিলাদের কর্তব্যবোধও থাকে যথেষ্ট। এইসব কারণে তাঁদের অহং বোধ বা ‘ইগো’ দুর্বল হয়ে পড়ে বলে ব্যাখ্যা করছেন পরলোকবাদী। স্বভাবতই বিদেহী আত্মাদের সহজ শিকার হন মহিলারা। এমনকী যেসব মহিলা নিজেদের সৌন্দর্য সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন তাঁদের মধ্যে ‘মোহিনী শক্তি’ নামের এক বিশেষ আকর্ষণী শক্তি তৈরি হয়। তাঁদের এই আকর্ষণে আকৃষ্ট হয় ভূতেরাও।

৩. আধ্যাত্মিক কারণ:
আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা অনুসারে, যেসব আত্মার পূর্বজন্মের কর্মফলের বোঝা বেশি ভারী হয় তারাই এই জন্মে নারী রূপে জন্মগ্রহণ করে। পূর্বজন্মকৃত পাপের কারণে এই জন্মে মহিলারা ভূতেদের সহজ শিকার হয়ে ওঠেন। 

এই সমস্ত কারণের পরিণাম স্বরূপ মেয়েরা যে শুধু ভূতেদের হামলার শিকার হন তা-ই নয়, ভূতের ‘ভর’ও মেয়েদের উপরেই হয় বেশি। এই ‘ভর হওয়া’-কেই ইংরেজিতে বলা হয় ‘পজেজড’ হয়ে পড়া। আকস্মিক অস্বাভাবিক আচরণ, চিৎকার করে কান্না বা হাসি, খিঁচুনি কিংবা মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা ওঠা ভর হওয়ার লক্ষণ। মনস্তাত্ত্বিকরা অবশ্য ‘ভর হওয়া’-কে মানসিক বিকলন বলেই ব্যাখ্যা করে থাকেন। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.