করোনার জের, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের টাকা দিল স্কুলের শিক্ষিকারা
দি নিউজ লায়নঃ- করোনার জেরে কাজ হারিয়েছে একাধিক মানুষ। আর্থিক অনটন দেখা দিয়েছে সংসারে। সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ যোগাতে হিমশিম বাবা-মা। তার উপরে সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা সেই পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় করাটাই এখন সব থেকে বড় সমস্যা দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলির। তবে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এলো স্কুলের শিক্ষিকারা। আমতার সোনামুই কাদম্বিনী বালিকা বিদ্যালয় (উচ্চ) এর শিক্ষিকারা এবার তাদের স্কুলের ৭২ জল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ফরম ফিলাপের টাকা দিচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির মাঝে শিক্ষিকাদের এই ভূমিকায় খুশি ছাত্রী থেকে অভিভাবকরা।
আমতার সোনামুই কাদম্বিনী বালিকা বিদ্যালয়ের সিংহভাগ পড়ুয়ার অভিভাবকই কৃষিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। লকডাউনে এইসব পরিবারে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট।সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি ও পরীক্ষার ফি দেওয়া নিয়ে চিন্তায় অভিভাবকরা। আর অভিভাবকদের চিন্তা দূর করতে এবার এগিয়ে এল স্কুলের ১৭ জন শিক্ষিকা ও ২ জন ও শিক্ষক কর্মচারী। স্কুল সূত্রে খবর শিক্ষিকারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যেরকম ফর্ম ফিলাপের টাকা নেওয়া হবে না সেই রকম পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়াদের পরবর্তী শ্রেণীতে ভর্তির জন্য কোন ফি নেওয়া হবে না। পুরো টাকাটাই দেবে স্কুলের শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীরা। সূত্রের খবর শুক্রবার এই মর্মে নোটিশ টাঙানো হয়েছে স্কুল চত্বরে।
স্কুল সূত্রে খবর আগামী মঙ্গলবার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ। সেই ফরম ফিলাপের জন্য প্রত্যেক ছাত্রীকে ২০০ টাকা দিতে হবে। দরিদ্র পরিবারের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে স্কুলের শিক্ষিকারা এই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে মাসখানেক আগে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বন্দনা পাঁজা প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্কুলের ৭২ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ফরম ফিলাপের টাকা এবং পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩২৩ জন পড়ুয়ার ভর্তি নেওয়া হবে না। সেই টাকাটা স্কুলের ১৭ জন শিক্ষিকা ও দুজন ও শিক্ষক কর্মচারী দিয়ে দেবেন। আর তার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বন্দনা পাঁজা জানান করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই আমাদের এই সিদ্ধান্ত।


Post a Comment