চরম মর্মান্তিক! সাত সদস্যের পরিবারের খরচ টানতে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে গিয়ে প্রাণ গেলো পরিযায়ী শ্রমিকের
দি নিউজ লায়নঃ সাত সদস্যের পরিবারের পেট চালাতে গিয়ে একমাত্র রোজগেরে পরিযায়ী শ্রমিক ছেলের ভিন রাজ্য হরিয়ানায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল রবিবার।সুদূর ফরিদাবাদ থেকে সেই খবর বিকেলে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহাকুমা অন্তর্গত বেওয়া এলাকায় গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছাতে পুরো পরিবার মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ছেলে দীনেশ রায় এর মৃত্যুর খবর শুনে বাবা গোপাল রায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলেন," একটাবার তোর মুখটা দেখতে পেলাম না,তুই সংসারটাকে বাঁচাতে প্রাণটাও দিয়ে দিলি শেষ পর্যন্ত"।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের যাবতীয় খরচ টানতে দীনেশ বিগত ৮-১০ বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক এর কাজ করে চলেছে। সম্প্রতি বছর কয়েক আগে তার মাও মারা যান। ফলে তার দায়িত্ব আরোও বেড়ে যায়। এহেন পরিস্থিতিতে বর্তমানে মাসকয়েক ধরে বাড়িতে বসে থাকার পরে, হঠাৎই সপ্তাহ দুয়েক আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদে বহুতল নির্মাণের জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের ডাক পাই এক ঠিকাদার এর মাধ্যমে। তারপরই কালবিলম্ব না করে সেখানে পাড়ি দেয় সে। পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল, আচমকা এদিন কাজ চলাকালীন দীনেশের কর্মরত এলাকার বহুতলের একটি অংশও হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। তার নিচে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি জলের ট্যাংকের গাড়িতে সটান গিয়ে পড়ে দীনেশ।সঙ্গে আরও কয়েকজন শ্রমিক ও হুড়মুড়িয়ে পরে একে অপরের উপর।
এরইমধ্যে ওই নির্মীয়মাণ বহুতলের একটি অংশ চাপা পড়ে দীনেশ এর মাথার উপর। রক্তাক্ত অবস্থায় থেঁতলে যায় তার শরীর।সেখানে উপস্থিত অন্যান্যরাও বিকট আওয়াজ শুনে ছুটে এসে সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দীনেশের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ঘটনায় আহত অন্যান্য শ্রমিকদের চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে। ভাইয়ের এমন মৃত্যুতে হা-হুতাশ করতে থাকা দাদা বিকাশ রায় বলেন, ভাই এইভাবে যে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে কোনদিনও ভাবতে পারিনি। ওর মুখটা এখনো চোখের সামনে ভেসে উঠছে"। সকলেই এখন অপেক্ষা করছেন কিভাবে এবং কখন দীনেশ এর মৃতদেহ তার বাড়িতে এসে পৌঁছাবে

Post a Comment