করোনা আবহে বোল্লা কালীর পুজো এবার ভক্ত শূন্য
দি নিউজ লায়ন ; এই প্রথম ভক্ত শূণ্য অবস্থায় পূজা হচ্ছে বোল্লা কালীর। শুধুমাত্র ভক্ত শূণ্য নয়, নেই অন্যান্যবারের মতো কোনো আড়ম্বরও। করোনা অবহের জন্য এবার শুধু মাত্র বোল্লায় পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বসছে না কোনোরকম মেলা। এছাড়াও হচ্ছে না পাঁঠাবলি ও মানত কালীর পুজো। পুজোয় যাতে মন্দির চত্বরে ভিড় না হয় তার জন্য বিশাল পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। মন্দির চত্বর সহ গোটা বোল্লা জুড়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রত্যেক বছর রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবার বালুরঘাটের বোল্লা এলাকায় বোল্লা রক্ষাকালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তরবঙ্গের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এই বোল্লা রক্ষা কালীর পুজো। পুজোর পাশাপাশি চারদিন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয়। বালুরঘাট-মালদা ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বোল্লা বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বোল্লাকালী মন্দির৷
রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবারে এই মন্দিরের পুজোকে কেন্দ্র করে চারদিন ব্যাপী বিরাট মেলা আয়োজন হয়ে থাকে৷ মেলায় হিন্দুরা ছাড়াও অন্যান্য ধর্মালম্বিরাও অংশ নেন। মেলা প্রাঙ্গণের ঠিক সামনেই মুসলিমদের কবরস্থান থাকলেও তা নিয়ে কখনো কোনও তরফ থেকে আপত্তি বা অভিযোগ ওঠেনি। হিন্দু মুসলিম দুই ধর্মের পবিত্র দুটি স্থান পাশাপাশি অবস্থানের এই নজিরকে সম্মান দিয়ে কবরস্থানের নাম রাখা হয়েছে “সম্প্রীতি”৷
জেলায় জনশ্রুতি রয়েছে যে আগে এই এলাকার জমিদার ছিলেন বল্লভ মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর নাম অনুসারেই জায়গাটির নাম হয়েছে বোল্লা। আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে এলাকারই এক মহিলা স্বপ্নাদেশে কালো একটি পাথরখন্ড কুড়িয়ে পেয়ে সেটিকে প্রথম মাতৃরূপে পুজো শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন নথি পত্রে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলেও এই বোল্লা কালির পূজার উল্লেখ পাও য়া যায়।
যা থেকে খুব সহজেই এই মেলার বয়স তিনশ বছরেরও বেশী বলে জানা যায়। এবিষয়ে ডিএসপি হেড কোয়ার্টার ধীমান মিত্র বলেন, করোনা অতিমারির কারণে এবার মেলা হচ্ছে না বোল্লায়৷ শুধুমাত্র পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুজোর কয়েকদিন কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

Post a Comment