বিজেপিকে অশুভ শক্তি বলে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন ছত্রধর মাহাতো
দি নিউজ লায়ন ; রবিবার ঝাড়গ্রাম জেলার ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে দরিদ্র মানুষদের হাতে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাড়্গ্রাম জেলা কমিটির চেয়ারম্যান বিরবাহা সরেন টুডু,তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলার কো-অর্ডিনেটর অজিত মাহাতো,ঝাড়গ্রাম পৌর সভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর গোবিন্দ সোমানী সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন দরিদ্র মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন ছত্রধর মাহাতো সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।কম্বল বিতরনী অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো বিজেপিকে অশুভ শক্তি বলে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের আদিবাসী মানুষদের ভুল বুঝিয়ে ভোট নিয়েছিল বিজেপি। তারা ভোট নেওয়ার পর মানুষের পাশে থাকে নি তারা এলাকার উন্নয়ন কিছুই করেনি ।কেবল মাত্র একটাই কাজ করছে মানুষে মানুষে বিভেদ লাগানোর কাজ। তিনি বলেন যারা মানুষের হয়ে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে বিজেপি।
তাই বিজেপি কে বাংলা থেকে উৎখাত করার তিনি ডাক দেন ।তিনি বলেন জঙ্গলমহলের মানুষ ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি কে বুঝিয়ে দিবে জঙ্গলমহলের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে লোকসভা নির্বাচনে কেন তারা ভোট নিয়েছিল। তিনি বলেন রাজনৈতিকভাবে আমার বিরুদ্ধে ওরা লড়াই করতে পারেনি। তাই আমাকে যেনতেন প্রকারে হেনস্থা করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ কে দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন আমি কোন তদন্তে ভয় করিনা এবং কারো কাছে মাথা নত করিনি এবং জনগনের জন্য আমি কাজ করেছি আগামী দিনেও কাজ করব।
তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জীবন বিপন্ন করে জঙ্গলমহলে ছুটে এসেছিলেন তখন তিনি বিরোধী নেত্রী ছিলেন। তার পরেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বারে বারে জঙ্গল মহলে ছুটে এসেছেন। জঙ্গলমহল কে পাখির চোখ করে তিনি উন্নয়ন করেছেন।জঙ্গল মহলের মানুষ কোনদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারত না যে জঙ্গলমহলের এত উন্নয়ন হবে। স্কুল কলেজ ,মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ একাধিক উন্নয়ন হয়েছে হয়েছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
তা সত্ত্বেও কিছুই হয় নি বলে বিজেপি মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে ।তাই এই অশুভ শক্তি যারা জঙ্গলমহলের মানুষকে উৎখাত করার জন্য নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন থাকবে ততদিনই বাংলায় নাগরিকত্ব আইন চালু হবে না। তিনি বলেন আপনারা কাগজ দেখাতে পারবেন কি, জায়গা দেখাতে পারবেন, বাড়ি দেখাতে পারবেন না। আপনাদের কিছুই নেই। তাহলে আপনাদেরকে তারা বাংলা থেকে উৎখাত করার চক্রান্ত শুরু করছে।বিজেপি হিন্দুরাষ্ট্র করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে।
যেভাবে নাগরিকত্ব আইনের নামে আসামে লক্ষ লক্ষ বাঙালির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। সেই ভাবে ওরা বাংলায় প্রকৃত বসবাসকারী মানুষদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের পাশে রয়েছে আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকুন। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গলমহলের মানুষকে শান্তি উন্নয়ণ দিয়েছে,গরীব মানুষদের চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে তাই একটা মানুষকে কারো বাড়িতে চাল ধার চাইতে যেতে হয়নি ।আর আলুর মূল্য বৃদ্ধির জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি নীতি কে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার যে কৃষি বিল পাস করেছে কেবল মাত্র কয়েকজন পুঁজিপতি ব্যবসায়িক স্বার্থে। তার ফলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে হবে। আর সেই জন্য আলুর দাম বাড়ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাই আজকে দেশজুড়ে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ কৃষক দিল্লিতে সামিল হয়েছেন। এরপরেও বলবেন যে এই কৃষি বিল পাস করে তারা ঠিক করেছে।
তাই ছত্রধর মাহাতো বলেন জঙ্গলমহলের মানুষ কৃষি বিল বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নামবে এবং জঙ্গলমহলের প্রতিটি মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিল আছে আগামী দিনে থাকবে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি খেটে খাওয়া সর্বস্তরের মানুষের কাছে আহ্বান জানান।

Post a Comment