নতুন বছরেই চালু হচ্ছে পুরুলিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র দুয়ারসিনি
দি নিউজ লায়ন ; নতুন বছরেই চালু হচ্ছে পুরুলিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র দুয়ারসিনি। বেশ কিছু পরিবর্তন করে নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে প্রাকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্র। খড় থেকে টিনের চালা। পরিবর্তন করা হল রঙও। দু'বছর বন্ধ থাকার পর রঙ পাল্টে নতুন রুপে চালু হতে চলেছে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের দুয়ারসিনি প্রাকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্র। শীতের মরসুমের শুরুতে পর্যটকদের জন্য দুয়ারসিনির দ্বার খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য বনদপ্তর।
মুখ্যবনপাল সৌরভ চৌধুরি বলেন, “ দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে কিছু কাজ চলছে। কাজ শেষ হলেই চালু করা হবে।” স্থানীয় ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৬ সালে দুয়ারসিনি হাটতলার কাছে পঞ্চায়েত সমিতির নবনির্মিত অথিতি আবাস ল্যান্ডমাইন্ড দিয়ে উড়িয়ে দেয় মাওবাদীরা। তার পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় প্রাকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্রের বনদপ্তরের কটেজ। এলাকায় মাওবাদীদের কার্যকলাপ থাকায় মুখ ফিরিয়ে নেয় পর্যটকরা।
রাজ্যে পালাবদলের পরে আবার আনাগোনা শুরু হয় পর্যটকদের। কিন্তু এলাকায় থাকার ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় পর্যটকদের। একদিকে বান্দোয়ান প্রায় ১৬ কিমি। অন্যদিকে ঝাড়খন্ডের ঘাটশিলাও প্রায় ১৫ কিমি। পর্যটকদের আনাগোনা দেখেই আবার কটেজ চালুর উদ্যোগ নেয় রাজ্য বনদপ্তর। সেই মতো রিপোর্টও তৈরি করা হয়। জরাজীর্ন হয়ে পড়ে থাকা কুইলাপাল বন বাংলোকেও সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০১৬ সালের শেষের দিকে কটেজ সাজিয়ে তুলতে শুরু হয় কাজও। প্রায় এক বছর মধ্যেই নিজের রূপ ফিরে পায় প্রাকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্রের কটেজ। একই ভাবে সাজিয়ে তোলা হয় কুইলাপালের বন বাংলোকে। নতুন ভাবে প্রাকৃতিক ভ্রমন কেন্দ্রে সেজে উঠে। শীতের আগে কটেজ চালু করতেই নভেম্বরের শেষের দিকেই শুরু হয়েছে কটেজের কাজ। শীতের মরসুমেই কটেজ চালু করতে চলছে জোর কদমে কাজ। নতুন ভাবেই সাজিয়ে তোলা হচ্ছে কটেজ।
কটেজের উপরে খড় বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে টিনের ছাউনি। বারান্দাতেও দেওয়া হয়ে টিন। তাছাড়াও খাবার খাওয়ার জায়গাতেও টিনের ছাউনি দেওয়া হচ্ছে। কটেজকে সাজিয়ে তোলার কাজ দেখেই খুশি পর্যটকরাও। রাঁচি থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন প্রদীপ মাহাত। তিনি বলেন, “ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতেই দুয়ারসিনিতে আসা। আগেও এসেছিলাম কিন্তু কটেজ বন্ধ ছিল। কটেজ চালু হলে তো খুবই ভালো এখানে রাতে থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।”

Post a Comment